সেরা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ - খুলনা

দুই পায়ের নলিতে বাদামি দাগ আস্তে আস্তে বাড়ছে

আমার বয়স আটচল্লিশ, খুলনায় সংসার সামলাই। কয়েক বছর আগে দুই পায়ের নলিতে বাদামি দাগ দেখা দেয়। দাগ এত ধীরে ছড়াচ্ছিল যে প্রথমে পাত্তা দিইনি। শীত এসে সেই ভাবনা বদলে দিল। শুকনো মাসে সন্ধ্যা হলেই চুলকানি তীব্র হয়। রাতের খাবারের পর পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে চুলকে ফেলি। নখের দাগ কয়েকদিন চোখে পড়ে। এখন দুই পায়েই প্রায় একই রকম দাগ।

ওষুধের দোকানের ক্রিমে কিছুদিন চুলকানি কমে থাকে। তারপর শুকনো একটা সপ্তাহ এলেই আবার চুলকাতে হয়। পরের শীতে দাগ আগের চেয়ে চওড়া দেখায়। আমার নিজের ডাক্তার একদিন দুই পা দেখলেন। ধীরে ছড়ানো দাগও ভালো করে পরীক্ষা করা উচিত, তিনি বললেন। তিনি চর্ম বিশেষজ্ঞ দেখাতে পরামর্শ দিলেন। চামড়াই সেই ডাক্তারের প্রতিদিনের নিয়মিত কাজ, তিনি বুঝিয়ে বললেন। দোকানের আরেকটা ক্রিমের চেয়ে ভালো করে দেখাটাই ভালো।

এভাবেই বাসা থেকেই বিশেষজ্ঞের খোঁজ শুরু হলো। এক বিকেলে মেয়েকে পাশে বসিয়ে খুলনার ডাক্তারদের তালিকা খুললাম। দুজনে মিলে তালিকাটা দেখলাম। আমার সময়ের সঙ্গে মেলে এমন চেম্বারের বিবরণ টুকে রাখলাম। তারপর সেই তালিকা থেকে একজন চর্ম বিশেষজ্ঞ ঠিক করে তাঁর চেম্বারে গেলাম। অন্তত খোঁজার কাজটা শেষ হয়েছে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

দুই পায়ের নলিতে বাদামি দাগ আস্তে আস্তে বাড়ছে

বাসায় আমি যেই নিয়ম মেনে চলি

এই চিকিৎসার অর্ধেক ভার আমার বাসার নিয়মের ওপর। ক্রিমের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের নির্দেশ আমি হুবহু মেনে চলি। প্রতিবেশীর বেঁচে যাওয়া টিউব আমার বাসায় ঢোকে না। তাঁর পা আর আমার পা এক নয়। এক সপ্তাহ চুলকানি কমলেও আমি নির্দেশমতো চালিয়ে যাই। ভালো দেখানো আর শেষ হয়ে যাওয়া এক কথা নয়। রাতে না চুলকানোর চেষ্টাও করি মন দিয়ে। ছোট করে কাটা নখ ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বেশি কাজ দেয়।

যেসব সমস্যা অন্য জায়গার, তিনি বলে দিয়েছেন

শুরুতেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোন সমস্যা চামড়ার যত্নের বাইরে। চামড়ার নিচে বাড়তে থাকা কিছুর জন্য অন্য ধরনের ডাক্তার লাগে। অপারেশন ছাড়া না শুকানো ঘায়ের ক্ষেত্রেও তা-ই। এমন কিছুর জন্য তিনি খুলনার জেনারেল সার্জনদের তালিকার দিকে তাকাতে বলেছেন। কথাটা ছিল আলোচনার ছোট একটা অংশ। তবু আমার নীরব দুশ্চিন্তা একটা তাতে কেটেছে।

প্রথম পরীক্ষাটা যেভাবে হলো

প্রথম দেখা শুরু হয়েছিল প্রশ্ন দিয়ে, প্রেসক্রিপশন দিয়ে নয়। নলিতে দাগ প্রথম কবে উঠেছিল? কোন ঋতুতে আমার চুলকানি বেশি বাড়ে? দোকান থেকে এ পর্যন্ত কী কী ক্রিম নিয়েছি? যতটা পারি সত্যি করে সব উত্তর দিলাম। পরীক্ষার আগে তিনি আমার আগের রিপোর্টগুলো পড়লেন। তারপর উজ্জ্বল আলোয় দুই নলি মন দিয়ে দেখলেন। এসবের পরেই তিনি চিকিৎসার কথা তুললেন।

ঋতু জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পরের দেখা

আমার পরের দেখাগুলো ঋতু জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে, এটা পরিকল্পনা করেই। শীতের চামড়া আর গরমের চামড়া আমার পায়ে আলাদা আচরণ করে। দুই অবস্থাতেই দাগ দেখতে চান বিশেষজ্ঞ। প্রতিবার তিনি চওড়া, রঙ আর চুলকানি মিলিয়ে দেখেন। অগ্রগতি থেমে গেলে পরিকল্পনা বদলাতে পারে। দাগ ধীরে কমলে তিনি তা জানাবেন। এই দেখাগুলো আমাকে আগেভাগে রায় দেওয়া থেকে থামায়।

ধীরে ছড়ানো দাগের উত্তরও ধীরে আসে

হঠাৎ উত্তর নয়, ধীরে উত্তর পাওয়ার জন্য তিনি আমাকে প্রস্তুত করেছেন। বছরের পর বছর চওড়া হওয়া দাগ কয়েক সপ্তাহে মেলায় না। মাস ধরে বিচার করা ধারাবাহিক চিকিৎসাই সৎ প্রত্যাশা। আরও একটা সত্যি কথা তিনি যোগ করেছেন। সেরে যাওয়া চামড়াতেও দাগের ছায়া থেকে যেতে পারে। হতাশ না হয়ে আমি তা মেনে নিয়েছি। মিষ্টি প্রতিশ্রুতির চেয়ে পরিষ্কার তথ্য অনেক ভালো। পাশে বসে মেয়ে সব শুনেছে।

টেবিলের এপাশ থেকে আমার প্রশ্নগুলো

শীতে আমার দাগে এত বেশি চুলকায় কেন?

শুকনো বাতাসে আমার চামড়া টানটান আর অস্থির হয়ে ওঠে। ঋতুর এই ধরনটা বিশেষজ্ঞ মন দিয়ে টুকে রেখেছেন। আমার পরিকল্পনায় সেই ধরনের হিসাব আছে।

চুলকানোর কারণে কি দাগ আরও খারাপ হয়েছে?

চুলকালে দাগ থেকে যায়, তিনি বুঝিয়ে বলেছেন। চামড়ার ওপরটা ছিঁড়েও যেতে পারে তাতে। নখ ছোট রাখাই ছিল তাঁর সহজ পরামর্শ।

দুই পায়ের চিকিৎসা কি একইভাবে হবে?

প্রথমে তিনি প্রতিটা পা আলাদা করে দেখেন। দাগ দেখতে একরকম হলেও সাড়া আলাদা হতে পারে। পরের দেখাগুলোতেই সেই তফাত বোঝা যাবে।

দাগ ছড়ানো থেমেছে, বুঝব কীভাবে?

প্রতিবার দেখায় তিনি দাগ মিলিয়ে দেখেন। সময়ের সঙ্গে চওড়া আর রঙ লিখে রাখা হয়। ঋতুর পর ঋতু একই থাকা দাগও অগ্রগতি বটে।

চুলকানি কমলেই কি ক্রিম বন্ধ করে দেব?

না, নিজের বিচারে নয়। কমানো বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞের। শান্ত চামড়ারও যত্ন চালিয়ে যাওয়া লাগতে পারে।

কোন জরুরি অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের দিকে রওনা দেব?

ঘরে থাকবেন না। পায়ের ঘা দ্রুত বড় হতে থাকা অবস্থায় জ্বর এলে দিন শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালে পৌঁছাব। চামড়ায় ফোসকা উঠতে থাকলে কিংবা চামড়া খুলে ঝরতে শুরু করলেও তখনই হাসপাতাল দরকার। মুখ কিংবা ঠোঁট ফোলার পাশাপাশি নিশ্বাস নেওয়া কষ্টের হয়ে উঠলে এটাকে জরুরি অবস্থা ধরুন। কোনো দাগ কালো হয়ে ছুঁলেই ব্যথা করলে সেদিনই তড়িঘড়ি দেখানো দরকার।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.