সেরা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ - চাঁদপুর
গালের দাগ ঢাকতে এখন ওড়নাটাই ভরসা
দেড় বছর ধরে দুই গালে বাদামি দাগ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ব্যথা নেই। চুলকানিও নেই। শুধু ওই জায়গার ত্বক মুখের বাকি অংশের চেয়ে গাঢ় হয়ে গেছে। কিনারা দিয়ে দাগটা একটু একটু করে ছড়াচ্ছে। বাড়ির বাইরে গেলেই এখন গাল ঢেকে ওড়না টানি, গরমের দিনেও। পরিচিতরা দেখা হলেই জিজ্ঞেস করেন, মুখে এটা কী হলো।
দোকান থেকে ফর্সা হওয়ার দুটো ক্রিম কিনে লাগিয়েছি। দাগ একটুও নড়েনি। একটা ক্রিমে ত্বক জ্বলেছে কয়েকদিন, সেটা ফেলে দিয়েছি। তারপর এক প্রতিবেশীর কথায় ঘরোয়া একটা জিনিসও লাগিয়ে দেখলাম। তাতেও কিছু হলো না। শেষে আমার পারিবারিক ডাক্তার গাল দুটো মন দিয়ে দেখে বললেন, এভাবে দাগে দাগে রং বদলানো আন্দাজে সারানো যায় না। চর্ম বিশেষজ্ঞকে ভালো করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। আন্দাজে আরেকটা ক্রিম মানে আরও সময় নষ্ট।
সেই সপ্তাহেই মোবাইলে চাঁদপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে ধীরে ধীরে দেখলাম। নামগুলো, নামের নিচের বিবরণ, সব পড়লাম। খুঁজছিলাম এমন একজনকে, যাঁর নিয়মিত কাজই ত্বকের সমস্যা নিয়ে। সেখান থেকে একজনকে ঠিক করে তাঁর চেম্বারের সময় নিলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
গালের দাগ ঢাকতে এখন ওড়নাটাই ভরসা
তিনি মুখ দেখার আগে জানতে চাইলেন, কী কী লাগিয়েছি এ পর্যন্ত
প্রথম দেখায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে গালের দিকে তাকালেন না। জিজ্ঞেস করলেন, প্রথম দাগটা কবে দেখা দিয়েছিল। বাড়ছিল ধীরে, নাকি তাড়াতাড়ি। তারপর জানতে চাইলেন, মুখে এ পর্যন্ত কী কী লাগিয়েছি। দোকানের দুটো ক্রিম, ঘরোয়া জিনিসটা, সব বললাম। জ্বলুনির কথাটাও বললাম। এরপর তিনি উজ্জ্বল আলোর নিচে গাল দুটো খুঁটিয়ে দেখলেন। মুখের বাকি অংশ আর ঘাড়ও দেখলেন। আগের একটা রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পড়ে তারপর চিকিৎসার কথা বললেন।
প্রতিবার তিনি দাগের কিনারাটা মিলিয়ে দেখেন
পরের দেখাগুলো শান্তভাবে হয়। দাগ কোথায় শেষ হচ্ছে, সেটা তিনি আগের নোটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। একবার ক্রিম বদলে দিয়েছিলেন, কারণ কিনারা দিয়ে দাগ বাড়ছিল। শরীরের অন্য কোথাও নতুন দাগ এসেছে কিনা, তাও জিজ্ঞেস করেন। তাড়াহুড়ো তাঁর মধ্যে দেখিনি।
আমার মতো দাগ তাড়াহুড়ো করে না
তিনি বুঝিয়ে বললেন, ত্বকের রং এত ধীরে বদলালে সারতেও ততটাই ধীরে সারে। চিকিৎসা চলবে নিয়মিত, বিচার হবে মাসের হিসাবে। দুই সপ্তাহে কিছু বোঝা যাবে না। দাগ বাড়া থামলেও গালে হালকা রঙের ফারাক থেকে যেতে পারে, সেটাও তিনি আগেই বলে দিলেন। কোনো মিষ্টি আশ্বাস নেই। ফর্সা করা ক্রিমের বড় বড় কথার চেয়ে এই সোজা কথায় আমার আস্থা বেশি হলো।
দেখা করার মাঝের দিনগুলোতে নিয়মটা আমার
আমার কাজটা সহজ, কিন্তু কড়া। তিনি যা দিয়েছেন, যেভাবে দিয়েছেন, শুধু সেটুকুই মুখে লাগাই। আর কিছুই নয়। কোনো সকালে দাগটা একটু হালকা লাগলেই নিজে থেকে থামিয়ে দিই না। আত্মীয়ের বাকি ক্রিম তাঁর মুখে ভালো লেগেছে শুনে নিজে হাতে নিই না। বদলের দরকার হলে তিনি চেম্বারে ত্বক দেখে নিজে বদলাবেন। কারণ মাসের পর মাস এই ত্বকটা তিনিই দেখছেন।
কোন ক্ষেত্রে তিনি নিজে রাখবেন না, বলেই দিয়েছেন
তিনি নিজের সীমাটাও পরিষ্কার করে বলেছেন। কোনো দাগ মোটা হয়ে উঠলে, ত্বকের ওপরে ভেসে উঠলে, বা নিচে কিছু বাড়তে থাকলে কেসটা নিজের কাছে রাখা ঠিক হবে না। সেসব সার্জনের কাজ। তখন কোথায় যেতে হবে, তা-ও তিনি বলে রেখেছেন। চাঁদপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা থেকে সেই পথ খুঁজতে হবে, আর তিনি নিজেই পাঠিয়ে দেবেন। এসব আগে থেকে জানা থাকলে মন অনেকটা শান্ত থাকে।
শেষে যেসব প্রশ্ন করে নিলাম
দাগগুলো শুধু গালেই কেন এল?
তিনি বললেন, মুখ সারাদিন রোদ আর সবার চোখের সামনে থাকে, তাই রঙের বদল মুখেই আগে ধরা পড়ে। উত্তর দেওয়ার আগে তিনি বাকি ত্বকও দেখে নিলেন। অন্য কোথাও কিছু না থাকায় দুশ্চিন্তা কিছুটা কমল।
ফর্সা হওয়ার ক্রিমগুলো কি ত্বকের ক্ষতি করে ফেলেছে?
যেটায় জ্বলেছিল, সেটা ত্বককে জ্বালিয়েছে বটে, তবে ওই জ্বালা কেটে যায়। আসল ক্ষতি হয়েছে সময়ে, তিনি বললেন। পরীক্ষা ছাড়া বাছাই করা ক্রিমে কাজ হওয়ার কথা ছিলই না।
গালের রং কি আবার মুখের বাকি অংশের সঙ্গে মিলবে?
মিলতে পারে, ধীরে ধীরে। দাগে দাগে আলাদা গতিতে। কোনো জায়গায় সামান্য ফারাক থেকে যেতেও পারে। তিনি বললেন, মাঝখান নয়, কিনারার দিকে খেয়াল রাখতে।
এই সময়ে বাড়িতে বাড়তি কিছু লাগাতে পারি?
শুধু তিনিই যা দিয়েছেন, সেটুকুই। দোকানের তাকের কিছু নয়। ঘরোয়া কিছুও নয়। আমার মুখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনেক হয়েছে, তিনি বললেন। কথাটা সত্যি।
চিকিৎসা কাজ করছে কিনা বুঝতে কতদিন লাগবে?
মাসের হিসাবে, তিনি বললেন। প্রথম সাফল্য হলো দাগ যেখানে আছে সেখানেই থেমে যাওয়া। সামনের দেখাগুলোতে কিনারা আর না বাড়লে সেটাই অগ্রগতি।
কোন লক্ষণ দেখলে পরের দেখার অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাব?
কোনো দাগ একদিন হঠাৎ কালচে হয়ে যন্ত্রণা দিতে শুরু করলে বসে থাকা যাবে না। ঠোঁট কিংবা মুখ ফুলে উঠে শ্বাস নেওয়া কঠিন হলেও সোজা হাসপাতালে যেতে হবে। ত্বকে ফোসকা পড়লে, চামড়া উঠতে থাকলেও তাই। কোথাও ঘা তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে গায়ে জ্বর উঠলেও একদিনও দেরি নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.