সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - সাভার

শিফটের মাঝামাঝি আসতেই আঙুল জমে আসে

দিনের প্রথম ধীর কাজটা এখন আমার জামা পরা। শার্টের বোতাম লাগাতে এখন সত্যিকারের মনোযোগ লাগে, কারণ প্রথম এক ঘণ্টা আঙুলগুলো জড় আর অসাড় হয়ে থাকে। সাভারে গার্মেন্টসের সেলাই লাইনে বসে সারাদিন কাপড় গাইড করি সূঁচের নিচে। শিফটের মাঝামাঝি আসতে না আসতেই কব্জিতে ব্যথা ওঠে, আঙুল আবার আটকে আসে। সন্ধ্যা নামতে নামতে ব্যথাটা কাঁধে উঠে যায়।

আমার বয়স ছত্রিশ, আর এটা এক বছরের বেশি সময় ধরে বাড়ছে। ফার্মেসির ব্যথার ওষুধে সপ্তাহখানেক কমলেও জড়তা আবার ফিরে এসেছে। আমার নিজের ডাক্তার দুইবার চিকিৎসা দিয়েছেন, আগের কিছু রিপোর্টও দেখেছেন। তারপর তিনি আঙুলের গাঁটে আলতো চাপ দিয়ে সোজাসুজি বললেন, এই ধরনটা তাঁর অংশের চিকিৎসার বাইরে। তিনি বললেন, যেসব গাঁট একসঙ্গে ফুলে ওঠে আর জমে থাকে, বিশেষ করে সকালে, সেগুলোই রিউমাটোলজিস্টের প্রতিদিনের কাজ।

তাই খুঁজতে শুরু করলাম এমন একজনকে, যাঁর কাছে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব। লাঞ্চের বিরতিতে ফোনে সাভারের ডাক্তারদের তালিকা খুললাম। নামগুলো দেখলাম, কে কোন সমস্যা নিয়ে কাজ করেন তাও দেখলাম। আমার দরকার ছিল শুধু গাঁটের কাজ করেন এমন কাউকে। এক সহকর্মী, যিনি নিজে একই খোঁজ করেছেন, আমার ছোট তালিকাটা দেখে সাহায্য করলেন।

1 available specialists found

ডা. উজ্জ্বল মিয়া

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমআরসিপি (ইউকে), এমসিপিএস (মেডিসিন), এমএসিপি (আমেরিকা), রিউমাটোলজিতে ইউলার সার্টিফাইড (সুইজারল্যান্ড), ডি-অ্যাজমা (লন্ডন), সিসিডি (বার্ডেম)
অবস্থান সাভার, ঢাকা

শিফটের মাঝামাঝি আসতেই আঙুল জমে আসে

হাত ধরার আগে আধঘণ্টার প্রশ্ন

রিউমাটোলজিস্ট প্রথম অংশটা কাটালেন শুধু প্রশ্ন করে। কোন কোন গাঁটে সমস্যা। কবে থেকে শুরু। সকালের জড়তা কতক্ষণ থাকে। ক্লান্তিটা আদৌ কমে কি না। বহু বছর আগের অসুখের কথাও জিজ্ঞাসা করলেন, যেগুলো আমার হাতের সঙ্গে সম্পর্কিত ভাবিইনি। তারপর তিনি একে একে আঙুল, কব্জি আর কাঁধ পরীক্ষা করলেন, প্রতিটি গাঁট ধীরে ধীরে নাড়িয়ে। চিকিৎসা নিয়ে কিছু বলার আগে আমার আগের রিপোর্টগুলো ভালো করে পড়লেন।

যা আমার আঙুল তাঁকে বলতে পারেনি

তিনি বুঝিয়ে বললেন, গাঁট জমে যাওয়ার কারণ একটা নয়, আর বাইরে থেকে দেখে সেগুলো আলাদা করা যায় না। রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবিতে যা ধরা পড়বে, তা আমার আঙুল তাঁকে বলতে পারেনি। সেসবের ফল না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। সত্যি বলতে, সেই অপেক্ষাটাই ছিল সপ্তাহের সবচেয়ে কঠিন অংশ।

প্রতি ভিজিটে ছোট ছোট বদল

এক ভিজিটে সব ঠিক হয়ে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। তিনি একটা পরিকল্পনা দিলেন, দেখলেন আমার হাত তাতে কেমন সাড়া দেয়, আর প্রতি ফলো-আপে ছোটখাটো বদল আনলেন। কোনো কোনো সপ্তাহে জড়তা একটু কমল। কোনো কোনো সপ্তাহে প্রায় নড়লই না, আর তিনি তারিখের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে সেটা সোজাসুজি বললেন। তিনি এও বললেন, কোনো গাঁট যদি ওষুধে সারার বাইরে ক্ষয়ে যায়, সেটা সার্জনের কাজ, তখন তিনি পাঠিয়ে দেবেন।

আমার নিজের করার অংশটা

ওষুধ চলবে তাঁর ঠিক করা নিয়মে, সেই সপ্তাহে হাত কেমন লাগছে তার ওপর নয়। কিছু বদলাতে হলে সিদ্ধান্তটা যিনি ওষুধ দিয়েছেন তাঁর, ভিজিটে আমাকে সামনে রেখে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। ভালো একটা সপ্তাহ পেলেই নিজে নিজে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না, কারণ শান্ত গাঁট হঠাৎ আবার জেগে উঠতে পারে। আর কখনো কোনো গাঁটে অপারেশন লাগলে, সেই কাজ যাঁরা করেন তাঁদের পাওয়া যাবে সাভারের জেনারেল সার্জনদের মধ্যে, খোঁজটা আমি সেখান থেকেই শুরু করব।

দ্বিতীয় ভিজিটের আগে যেসব প্রশ্ন মাথায় ছিল

চিকিৎসা চলাকালে সেলাই লাইনে কাজ চালিয়ে যেতে পারব তো?

আমার ক্ষেত্রে পেরেছি, কারণ কাজ বন্ধ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, ডাক্তার সেটা জানতেন। বিরতিতে কব্জিকে বিশ্রাম দেওয়া আর ধরার ভঙ্গি বদলানো তিনি শিখিয়ে দিলেন। পরিকল্পনাটা কাজের সঙ্গে মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল।

সকালের দিকেই আঙুল সবচেয়ে বেশি জমে থাকে কেন?

তিনি বললেন, আমার মতো গাঁট অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া না পেলে জমে যায়, আর রাতটাই সবচেয়ে লম্বা স্থির সময়। সকাল গড়ালে হালকা নাড়াচাড়ায় জড়তা ধীরে ছাড়ে। এই ধরনটাই তাঁর কাছে পরীক্ষার দিকে ইঙ্গিত করা সূত্রগুলোর একটা।

রক্ত পরীক্ষা আর ছবিতেই কি সব একবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে?

সবটা নয়, তিনি তেমন ভরসাও দেননি। এগুলো দিয়ে জড়তার পেছনের কারণটা সংকীর্ণ হয়ে আসে, যাতে চিকিৎসাটা কারণ অনুযায়ী হয়। ফলো-আপগুলো তবু জরুরি, কারণ গাঁটের সাড়া দেখেই তিনি আরও বুঝতে পারেন।

কোনো ওষুধ শরীরে না মানলে কী হবে?

তাহলে পরের ভিজিটে তাঁকে বলব, বেশি কষ্ট হলে তার আগেই। তিনি একবারে সব বদলে না দিয়ে ছোট ছোট ধাপে পরিকল্পনা ঠিক করেন। নিজে নিজে ওষুধ বদলানো বা বন্ধ করা ঠিক নয়।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হাতদুটোকে একদম বিশ্রাম দেওয়া উচিত?

পুরো বিশ্রামে আমার হাত আরও জমে গেছে। সারাদিন হালকা নাড়াচাড়ায় রাখলেই ভালো থেকেছে। ভারী মুঠোর কাজ থেকে হাত বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করি যতটা পারি।

কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠলে আর নাড়ানোই যাচ্ছে না, তখন কী করব?

সেদিন অপেক্ষা করার দিন নয়। এমন গাঁট, সঙ্গে জ্বর থাকলে তো আরও, একই দিনে হাসপাতালে যাওয়া দরকার। পরের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য বসে না থেকে আমি সোজা সেখানেই যাব।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.