সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - রংপুর

সকালে পানির কলসি যেন দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছে

আমার বয়স চুয়াল্লিশ। রংপুরে সংসারটা আমিই সামলাই, মৌসুম এলে স্বামীর সঙ্গে ধানক্ষেতেও নামি। দিনের শুরু পানির কলসি দিয়ে, আর সমস্যাটা ঠিক সেখানেই ধরা দেয়। কলসি তুলতে গেলে কব্জিতে ব্যথা ওঠে, হাতল ধরা আঙুলগুলো থাকে শক্ত হয়ে, চুলার পাশে উবু হলে হাঁটু দুটো অভিযোগ করে। ক্লান্তিটাও আলাদা সমস্যা। সারা রাত ঘুমিয়েও সকালে মনে হয় সারাদিন বস্তা টেনেছি। ধান লাগানোর সময় ঝুঁকে কাজ করলে কব্জির ব্যথা দুদিন থেকে যায়।

এলাকার ডাক্তার অনেক মাস যত্ন করে চিকিৎসা দিয়েছেন। গুঁড়ো ওষুধ আর ট্যাবলেটে ব্যথা কিছুটা মসৃণ হতো, কিন্তু জড়তা নিজের সময় মেনেই ফিরত, ধীরে ধীরে নতুন গাঁটেও ছড়াচ্ছিল। শেষবার তিনি পুরো কথাটা আবার শুনলেন, কব্জি দুটো হাতে ধরে দেখলেন। তারপর বললেন, এটা আর সাধারণ ক্ষয়ের গল্প নয়। গাঁটের ব্যথা, ফোলা আর জড়তা এভাবে একটা ধরন ধরে এগোলে সেটা যার প্রতিদিনের কাজ, সেই রিউমাটোলজিস্টের হাতে দেওয়া উচিত। আরেকটা মৌসুম যেন না যায়, সেভাবে তাড়া দিলেন।

প্রতিবেশীর মেয়ে ফোনে খোঁজ করে সাহায্য করল। আমরা রংপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে নামগুলো দেখতে লাগলাম। জেলায় নানা ধরনের ডাক্তার আছেন, তালিকাটায় ধৈর্য লাগে। নামের পাশের লেখাগুলো দেখে বোঝার চেষ্টা করলাম, গাঁট আর জড়তার কাজ প্রতিদিন কারা করেন। দুটো নাম ঠিক করে রাখলাম, আমাদের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করব বলে।

3 available specialists found

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মো. মোফাজ্জল হোসেন (মুরাদ)

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি।
অবস্থান রংপুর সিটি, রংপুর

Dr. Md. Sadikul Islam Sadik

Qualifications MBBS, BCS (Health), MD in Rheumatology, along with international credentials like FACR (USA) and ECRD (Switzerland).
অবস্থান রংপুর সিটি, রংপুর

Dr. Golam Rabbani

Qualifications MBBS, BCS (Health), FCPS (Rheumatology), MRCP (UK)
অবস্থান রংপুর সিটি, রংপুর

সকালে পানির কলসি যেন দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছে

তিনি প্রথমে আমার রাতের ঘুমের কথা জানতে চাইলেন

রিউমাটোলজিস্ট শুরুটা করলেন আমার ঘুম দিয়ে, এটা আমি আশা করিনি। তারপর একে একে গাঁটের কথায় এলেন। কোন কব্জি ফোলে, বসে থাকলে হাঁটু জমে কিনা, সকালের জড়তা ছাড়তে কতক্ষণ লাগে, ক্লান্তিটা বিশ্রামে যায় নাকি সারাদিন লেগে থাকে। অনেক বছর আগের অসুখের কথাও জানতে চাইলেন। তারপর হাত আর হাঁটু ধীরে ধীরে পরীক্ষা করলেন, আগের চিকিৎসার রিপোর্ট পুরোটা পড়লেন। কোনো পরের ধাপের কথা তার আগে বলেননি। তাড়া ছিল না কোথাও, আন্দাজে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি।

কব্জির ছবি, আর রক্তের পরীক্ষা যা বলবে

তিনি পরিষ্কার বললেন, বাইরে থেকে দেখে পরিকল্পনা বানাবেন না। রক্ত পরীক্ষায় বোঝা যাবে ভেতরে কী ঘটছে, আর কব্জি ও হাঁটুর ছবিতে গাঁটগুলোর আসল অবস্থা দেখা যাবে। দুটো সমস্যা বাইরে থেকে একরকম দেখালেও যত্ন লাগতে পারে সম্পূর্ণ আলাদা, এটাও বোঝালেন। তাই প্রথম দেখা শেষ হলো পরীক্ষা দিয়ে, চিকিৎসা দিয়ে নয়। তখন মনে হয়েছিল দেরি হচ্ছে। এখন বুঝি, অপেক্ষাটা ভালোই ছিল।

মৌসুমের সঙ্গে মিলিয়ে চলা ধীর পরিকল্পনা

ফল হাতে এলে তিনি পরিকল্পনাটা গুছিয়ে দিলেন, সঙ্গে সৎ সতর্কবার্তাও। এটা মাসের পর মাস দেখভালের বিষয়, প্রতিবার দেখায় গাঁট পরীক্ষা হবে, সকালগুলো কেমন যাচ্ছে শুনবেন, একবারে একটা জিনিস বদলাবেন। আমার জীবন ধান মৌসুম ধরে চলে, সেটা জেনে দেখার সময়গুলোও তিনি সেই অনুযায়ী সাজিয়ে দেন। আরেকটা কথাও বলেছেন। কোনো হাঁটু যদি ক্ষয়ে এমন জায়গায় যায় যেখানে অপারেশনই সৎ উত্তর, তিনি নিজে সার্জনের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

ওষুধ নিয়ে নিজের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি

তিনি যা লিখে দিয়েছেন, আমি ঠিক সেভাবেই খাই, আর ভালো সপ্তাহ গেলেও আগের মতো মন চায় না বন্ধ করতে। ভালো লাগা মানে ওষুধ কাজ করছে, বন্ধের সংকেত নয়। কিছু বদলাতে হলে তিনিই বদলাবেন, কারণ পরীক্ষার ফল আর পুরো ইতিহাসটা একসঙ্গে তার হাতেই আছে। আমার অবস্থায় যাদের গাঁটের সমস্যায় একদিন অপারেশন লাগতে পারে, তাদের জন্য রংপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকাটাও জেনে রাখা ভালো।

চুলার পাশে দাঁড়িয়ে যেসব প্রশ্ন মাথায় ঘুরত

এই ক্লান্তিটা কি কোনোদিন যাবে?

তিনি বললেন, এটা অলসতা বা বয়সের দোষ নয়, গাঁটের সমস্যার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। শুনে স্বস্তি পেয়েছিলাম। দেখা করতে করতে গাঁট শান্ত হলে ভারী ভাবটাও কমার কথা। পুরোপুরি যায়নি, তবে বিকেলগুলো আগের চেয়ে হালকা লাগে।

ধানক্ষেতে কাজ চালিয়ে যেতে পারব?

পারব, তবে বুঝে শুনে। ঝুঁকে কাজ করার গতি কমাতে বলেছেন, ভারী বোঝা ভাগ করে নিতে বলেছেন। ফোলা কব্জি নিয়ে সারাদিন ক্ষেতে খাটা যাবে, এমন ভান না করতেও বলেছেন। খারাপ সকালে এখন স্বামীর সঙ্গে কাজ বদলাবদলি করে নিই।

ঘুম আর পুরনো অসুখের কথা কেন জিজ্ঞেস করলেন?

কারণ গাঁট শরীরের বাকি অংশ থেকে আলাদা নয়। ঘুম, ক্লান্তি আর আগের অসুখ মিলেই বোঝা যায় ধরনটা কীসে চলছে। সম্পর্কহীন মনে হলেও সবটা খুলে বলা উচিত।

কতদিন পরপর দেখাতে হবে?

নিয়মিত, অন্তত শুরুর দিকে। প্রতিবার একই গাঁটগুলো পরীক্ষা করে আগেরবারের সঙ্গে মেলান, নতুন পরীক্ষার ফল থাকলে পড়েন। অবস্থা স্থির থাকলে দেখার ফাঁক ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

ফসলের সময় হাত বেশি ফুলে গেলে কী করব?

তাকে জানাতে হবে, চুপচাপ সহ্য করা নয়। ভারী কাজের সময় বাড়তি ফোলা তার কাছে খবর, পরিকল্পনা বদলাতে কাজে লাগে। পুরো মৌসুম কষ্ট চেপে রাখার চেয়ে পরের দেখায় বলা ভালো।

রাতারাতি একটা গাঁট গরম হয়ে ফুলে উঠেছে, নড়ছেই না প্রায়, সঙ্গে জ্বরও। দেখার তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না, তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। জ্বরসহ কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে গেলে আর আটকে গেলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন, কারণ এ ধরনের হঠাৎ বাড়াবাড়ি দ্রুত গুরুতর হতে পারে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.