সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - পাবনা
দ্বিতীয় কড়াই মিষ্টি নামার আগেই হাত দুটো হাল ছেড়ে দেয়
পাবনায় একটা মিষ্টির দোকানে কাজ করি। এই দুই হাতের ওপরই সংসার চলে। বড় কড়াইয়ের পর কড়াই নাড়তে নাড়তে আঙুলসহ পুরো হাতে ব্যথা ধরে যায়। দুধের ভারী পাতিল চুলায় তুলতে গেলে দুপুরের আগেই কাঁধ টনটন করে। সবচেয়ে কষ্ট দিনের শুরুটায়। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠি জড়তা নিয়ে, ধীরে ধীরে। বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে হাত কয়েকবার নাড়িয়ে তারপর শার্টের বোতাম লাগাতে পারি।
অনেকদিন ভেবেছি, পেশার খাজনা এটা। মিষ্টি বানানো তো ভারী কাজই। কিন্তু জড়তা যখন প্রথম ঘণ্টা পেরিয়েও থেকে যেতে লাগল, মন খারাপ হলো। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাঁধে একটা চাপা ব্যথা লেগে থাকত। এক প্রতিবেশীরও একই ধরনের কষ্ট, তিনি বারবার বলতেন দেখিয়ে নিতে। আমার নিজের ডাক্তারও তাঁর কথায় সায় দিলেন। তিনি বললেন, প্রতিদিন সকালে এভাবে জমে যাওয়া, দুই হাত আর কাঁধ জুড়ে ব্যথা, এই ধরনটা রিউমাটোলজিস্টকে দেখানোর মতো। এই ধরন নিয়েই যিনি আলাদা করে কাজ করেন।
দোকানের মালিক এক বিকেলে ছুটি দিলেন। ভাতিজা তার ফোন নিয়ে সঙ্গে এল। চায়ের দোকানে বসে আমরা পাবনার ডাক্তারদের বড় তালিকাটা পাতায় পাতায় দেখলাম। ওকে বললাম ধীরে ধীরে পড়তে। কারো কাছে যাওয়া ঠিক করার আগে কী ধরনের ডাক্তার আছেন, সেটা আগে বুঝে নিতে চাইছিলাম।
2 available specialists found
Dr. Md. Asadul Islam
দ্বিতীয় কড়াই মিষ্টি নামার আগেই হাত দুটো হাল ছেড়ে দেয়
আমি বলছিলাম, তিনি চোখ রাখছিলেন আমার হাতের দিকে
ভেবেছিলাম তিনি শুরুতেই আমার হাত ধরে দেখবেন। তা নয়। তিনি কথা বললেন, অনেকক্ষণ ধরে। সকালের জড়তা কবে শুরু হলো? ছাড়তে কতক্ষণ লাগে? সারাদিন ক্লান্তি লেগে থাকে কি না? বহু বছর আগের অসুখের কথাও উঠল, যেগুলো প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। কথা বলতে বলতে নিজের অজান্তে আঙুল যেভাবে নাড়ছিলাম, সেদিকে তাঁর চোখ ছিল। তারপর এল আসল পরীক্ষা, একটা একটা গাঁট ধরে। সিদ্ধান্তের আগে আমার আগের রিপোর্টগুলোও তিনি ধীরে পড়লেন।
পরিকল্পনার কথা ওঠার আগে এল পরীক্ষা
তিনি বললেন, আগে রক্ত পরীক্ষা লাগবে। হাত আর কাঁধের ছবিও তুলতে বললেন। ছবি তুলতে ব্যথা লাগবে কি না জিজ্ঞেস করায় তিনি হেসে বললেন, না। তিনি চাইছিলেন, যে গাঁটগুলো হাতে পরীক্ষা করলেন, সেগুলোর আরও পরিষ্কার ধারণা। সেসব হাতে এলে তবেই পরিকল্পনার কথা উঠবে। পরীক্ষা আগে, কথা পরে।
ধীরে ধীরে সেরে ওঠার সঙ্গে বসবাস
পরের দেখায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লম্বা যত্ন বলতে কী বোঝায়। আমার মতো গাঁট ধীরে ধীরেই শান্ত হয়, যদি হয়। মাঝে মাঝে তিনি আমাকে দেখে অবস্থা অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাবেন। কোনো সকালে নিজেকে প্রায় আগের মতো লাগবে। কোনো সকালে বেসিনের সামনের পুরোনো অভ্যাস ফিরে আসবে। দুই ধরনের সকালের কথাই সত্যি করে বলতে বললেন।
ওষুধ নিয়ে তিনি একটা নিয়ম দিলেন, দুবার করে বললেন। আগের যেসব ওষুধ চলছে, সেগুলো ঠিক যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবেই চলবে। সকালটা সহজ গেল মানেই নিজে থেকে কিছু বন্ধ করার অনুমতি পাওয়া নয়। কোনো ওষুধ বদলাতে হলে সিদ্ধান্তটা নেবেন যিনি সেটা লিখে দিয়েছেন।
যে গাঁট তাঁর হাত ছেড়ে যায়
শেষের দিকে তিনি এমন একটা কথা বললেন, যেটা আমি ধরে রেখেছি। সব গাঁটের সমস্যা তাঁর কাছে থেকে যায় না। আমার কোনো গাঁট কখনো এমন জায়গায় পৌঁছালে যেখানে অপারেশনই সৎ উত্তর, তিনি তা জানিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দেবেন। আমাদের দোকানে ভাজির কাজ করা ছেলেটার কনুই খারাপভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অপারেশনের আগে তার পরিবার পাবনায় নষ্ট গাঁটের কাজ করা জেনারেল সার্জনদের খোঁজ করেছিল।
একজন মিষ্টিওয়ালার প্রশ্ন
বড় কড়াই নাড়ার কাজটা চালিয়ে যেতে পারব?
আপাতত পারব, পালা করে। সবচেয়ে ভারী বানানোর সময় ভাজির ছেলেটার সঙ্গে পালা বদল করতে বলেছেন তিনি। টানা লম্বা সময় কড়াই নাড়লেই হাতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। বিরতি দিয়ে ছোট পালায় কাজ হাতে সহ্য হয় বেশি।
সকালে এত জড়তা থাকে, পরে আবার ছেড়ে যায় কেন?
তিনি বললেন, এই ধরনটাই তিনি শুরুতেই খোঁজেন। বিশ্রামের পর জড়তা এসে ধীরে ধীরে ছাড়া, এটা তাঁর কাছে দরকারি তথ্য। তাই বেসিনের সামনে কতক্ষণ লাগে, সেটা জানতে চেয়েছিলেন।
গাঁটের ছবিতেই কি সব জানা হয়ে গেল?
না, তিনি নিজেই বললেন। ছবিতে গাঁট দেখা যায়, ক্লান্তি বা ধীর সকাল দেখা যায় না। তিনি ছবি রাখেন আমার কথা আর রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি। কোনো একটা অংশ একা কিছু ঠিক করে না।
পরিকল্পনা কাজ করছে, বুঝব কীভাবে?
ছোট ছোট জিনিসে, তিনি বললেন। শার্টের বোতাম একটু তাড়াতাড়ি লাগানো। পুরো পালা শেষে দুপুরে কাঁধের ব্যথা আগের চেয়ে কম। প্রতিবার দেখায় আমি যা বলি তিনি লিখে রেখে মিলিয়ে দেখেন।
নতুন কোনো গাঁটে ব্যথা শুরু হলে জানাব?
হ্যাঁ, ছোট হলেও। নতুন গাঁট এই ধরনে যোগ দিলে তাঁর ভাবনা বদলে যেতে পারে। আগে আমি শুধু সবচেয়ে বেশি ব্যথাটার কথা বলতাম, বাকিটা চেপে যেতাম। তিনি সেটা করতে মানা করেছেন।
কোনো রাতে একটা গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে বিশাল ফুলে উঠল আর জ্বরও এল, তখন?
সেই রাতটা দেখে-শুনে কাটানোর রাত নয়, তিনি বলে দিয়েছেন। হঠাৎ কোনো গাঁট গরম, খুব ফোলা আর প্রচণ্ড ব্যথা মানেই সেদিনই হাসপাতাল। জ্বর এলেও তাই। গাঁট হঠাৎ নাড়ানো না গেলেও একই কথা।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.