সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - নোয়াখালী
ভাতের বড় হাঁড়িটা প্রতিদিনই যেন আরও ভারী লাগে
নোয়াখালীতে আমাদের যৌথ পরিবারে এগারো জনের রান্না আমার হাতে। বড় হাঁড়িগুলোই আমার প্রতিদিনের পরীক্ষা। চুলা থেকে ভাতের হাঁড়ি নামাতে গেলে দুই কব্জির ভেতরে চিনচিনে ব্যথা ওঠে। সকালের রান্না জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটু জমে যায়, টনটন করে। কোনো কোনো সকালে তাকিয়ে দেখি আঙুলগুলো ফুলে আছে। বহু বছর ধরে পরা আংটিটা আজকাল সহজে ঢোকে না।
প্রথমে ভাবতাম, কাজের ভারেই এমন হয়। এত বড় পরিবারের রান্না তো হালকা কাজ নয়। কিন্তু ব্যথাটা চুলার ধার ছেড়ে অন্যত্রও পিছু নিতে লাগল। কাপড় ভাঁজ করতে গেলে লাগে। ভেজা শাড়ি নিংড়াতে গেলে আরও বেশি লাগে। যেদিন মেহমান নেই, রান্না হালকা, সেদিনও ভোরে আঙুল নাড়াতে সময় লাগে। আমার নিজের ডাক্তার সব শুনে মাথা নাড়লেন। তিনি বললেন, যেভাবে এটা ছড়াচ্ছে আর ফুলছে, সেই ধরনটা রিউমাটোলজিস্টের কাজের মধ্যে পড়ে। গাঁটের সমস্যা নিয়েই যিনি প্রতিদিন রোগী দেখেন।
ছোট লেখা পড়তে চোখ টানে বলে বউমা আমাকে সাহায্য করল। দুপুরের খাওয়ার পর রান্নাঘরের টেবিলে বসে আমরা নোয়াখালীর ডাক্তারদের জেলাজুড়ে তালিকাটা খুলে ধীরে ধীরে দেখলাম। নির্দিষ্ট কারো নাম খুঁজছিলাম না। নিজের ডাক্তার যেমন ধরনের চিকিৎসকের কথা বললেন, সেটা আগে নিজের কাছে স্পষ্ট করতে চাইছিলাম।
1 available specialists found
ডাঃ মো. সালমান ইবনা জামান
ভাতের বড় হাঁড়িটা প্রতিদিনই যেন আরও ভারী লাগে
হাঁটুর আগে তিনি আমার রান্নাঘরের দিন জানতে চাইলেন
রিউমাটোলজিস্ট আমাকে অবাক করলেন। তিনি গাঁট দিয়ে শুরু করলেন না, শুরু করলেন আমার দিন দিয়ে। রান্না কখন শুরু করি? কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি? কোন সকালে আঙুল বেশি ফোলে? তারপর এল শুরুর কথা, আগের অসুখগুলো, সন্ধ্যা নামলে কতটা ক্লান্ত লাগে। এরপর তিনি একে একে আমার কব্জি, আঙুল আর হাঁটু পরীক্ষা করলেন। পুরোনো রিপোর্টগুলো তিনি ধীরে ধীরে পড়লেন।
বড় কোনো নাম বলার আগে ছবি আর রক্ত পরীক্ষা
প্রথম দিন তিনি কোনো কিছুর নাম বলতে রাজি হলেন না। বদলে রক্ত পরীক্ষা দিলেন। যেসব গাঁটে কষ্ট বেশি, সেগুলোর ছবিও তুলতে বললেন। আঙুল ফোলার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, তিনি বুঝিয়ে দিলেন। তাড়াতাড়ি আন্দাজে নাম বসালে কারো উপকার হবে না। বড় উত্তর ছাড়াই বাড়ি ফিরলাম, হাতে শুধু ফলাফল নিয়ে ফেরার তারিখ। মনটা তবু অনেকটা শান্ত ছিল।
প্রতিবার দেখায় অল্প অল্প বদল
ফলাফল হাতে এলে তিনি লম্বা পথের কথা খুলে বললেন। এ ধরনের গাঁটের সমস্যা ধীরে ধীরে সামলাতে হয়, বারবার দেখে দেখে। প্রতিবার তিনি মিলিয়ে দেখেন কোন গাঁট একটু সহজ হলো, কোনটা হলো না। পরিকল্পনা একটু একটু করে বদলায়। এক সপ্তাহ ভালো গেলেই কষ্ট পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যাবে না, তিনি আগেই বলে রাখলেন।
এর মধ্যে আমার আগের ওষুধগুলোতে কোনো হাত পড়ে না। সেগুলো ঠিক যেভাবে আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই চলছে। যেদিন সকালে আঙুল প্রায় স্বাভাবিক লাগে, সেদিনও নিজে থেকে কোনোটা বাদ দিই না। বদলের কাজটা শুধু যিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন তাঁরই। কোনটা কেন দেওয়া হয়েছে তিনিই জানেন।
যেদিন তিনি সার্জনের মতামতের কথা তুললেন
সীমার কথাতেও তিনি সমান সোজাসাপ্টা। কোনো গাঁটের ক্ষতি যদি এমন জায়গায় পৌঁছায় যেখানে তাঁর হাতে আর কিছু করার থাকে না, তাহলে সার্জনের দেখা উচিত। আমার বড় ভাইয়ের হাঁটু দুই বছর আগে সেই জায়গায় গিয়েছিল। অপারেশনের আগে আমরা নোয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত গাঁটের কাজ করা জেনারেল সার্জনদের খোঁজ করেছিলাম, কে এই কাজ করেন বুঝতে। দরকার পড়ার আগেই তিনি সেই দরজার কথা বলে রাখেন বলে ভালো লাগে।
মনে মনে জমিয়ে রাখা প্রশ্নগুলো
পুরো পরিবারের রান্না এখনো একা সামলাতে পারব?
আপাতত পারব, তবে আগের মতো করে নয়। ভারী কাজগুলো সকাল জুড়ে ভাগ করে নিতে বলেছেন তিনি। টানা দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝে বসতে বলেছেন। সবচেয়ে বড় হাঁড়িটা এখন বউমা আমার সঙ্গে ধরে তোলে।
কোনো কোনো সকালেই শুধু আঙুল ফোলে কেন?
তিনি বললেন, ফোলার নিজের একটা ধরন আছে, আর সেই ধরনটাই একটা তথ্য। আগের দিনের ভারী কাজ, কম ঘুম, সবকিছুরই ভূমিকা থাকতে পারে। তাই কোন সকালে খারাপ বেশি, খেয়াল করতে বলেছেন।
প্রতি বছর কি এটা আরও বাড়তেই থাকবে?
কোনো দিকেই সোজা পথের আশ্বাস কেউ দিতে পারে না, তিনি বললেন। নিয়মিত দেখানোর লাভ হলো বদলটা আগেভাগে ধরা পড়ে। আমার কাজ ঠিকমতো যাওয়া আর সত্যিটা বলা।
হাত দুটোকে পুরোপুরি বিশ্রামে রাখব?
না। পুরোপুরি বিশ্রাম তাঁর পরামর্শ নয়। হালকা ব্যবহারে গাঁট নড়াচড়ার মধ্যে থাকে। আবার খারাপ দিনে অতিরিক্ত চাপ দিলে পিছিয়ে পড়তে হয়। সেই সীমাটা আমি এখনো শিখছি।
পরের দেখায় সবার আগে কী বলব?
যা যা বদলেছে। নতুন কোনো গাঁটে কষ্ট শুরু হলো, ফোলা বেশিক্ষণ রইল, কোনো কাজ শেষ করতে পারলাম না। ছোট বদল তিনি আগে শুনতে চান, বড় হয়ে গেলে নয়।
কোনো গাঁট হঠাৎ জ্বলে উঠে ফুলে গেল আর জ্বরও এল, তখন কী করব?
তখন দেখার তারিখ পর্যন্ত বসে থাকা চলবে না। হঠাৎ কোনো গাঁট গরম হয়ে ফোলা আর প্রচণ্ড ব্যথা মানেই সেদিনই হাসপাতাল। জ্বর এলেও একই কথা। গাঁট হঠাৎ নাড়ানো না গেলেও তাই।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.