সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - নাটোর

ডাল ছাঁটার কাঁচি ধরলেই আঙুল জমে আসে আজকাল

আমার বয়স একষট্টি। আম আর লিচু বাগান দেখাশোনা করেই জীবন কেটেছে। ইদানীং বাগানের নরম মাটিতে হাঁটলেই হাঁটুতে টান পড়ে। ঝরা পাতা তুলতে নিচু হলেই কোমরের গাঁটে ব্যথা ওঠে। সবচেয়ে ঝামেলা হাতে। ডাল ছাঁটার কাঁচি ধরলে আঙুলগুলো প্রথমে নড়তেই চায় না। কয়েকবার মুঠো খুলে বন্ধ করে তারপর কাজ শুরু করতে হয়। কোনো কোনো সকালে কাজ বসে থাকে, হাতের অপেক্ষায়।

শুরুতে এমন ছিল না। দুই মৌসুম আগেও সারাদিন খাটলে শুধু সন্ধ্যায় একটু ব্যথা হতো। তারপর ব্যথাটা রাত পেরিয়েও থেকে যেতে লাগল। গাছের ছায়ায় বসে জিরিয়ে উঠতে গেলে পিঠ জমে যেত। কাজ কমিয়ে দিলাম, হালকা কাজ বেছে নিলাম, তবু জড়তা এক গাঁট থেকে আরেক গাঁটে ছড়াতে থাকল। আমার নিজের ডাক্তার পুরো কথাটা শুনলেন। তিনি বললেন, এই কষ্ট ফিরে ফিরে আসে। আবার ধীরে ধীরে ছড়ায়ও। তাই এটা দেখানো দরকার এমন একজনকে, যার সারাদিনের কাজই গাঁট নিয়ে। তাঁকে রিউমাটোলজিস্ট বলা হয়, এটাও তিনিই বুঝিয়ে দিলেন।

ফোন ঘাঁটাঘাঁটি আমি ভালো পারি না। এক সন্ধ্যায় ছোট ছেলে পাশে বসে গেল। আমরা দুজন মিলে নাটোরের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকাটা ধীরে ধীরে দেখতে লাগলাম, নাম আর চেম্বার পড়ে পড়ে। কাকে খুঁজছি, সেটা আগে নিজের মাথায় পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম। ওই সন্ধ্যার খোঁজখবরটাই ছিল আমার প্রথম ধাপ।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ডাল ছাঁটার কাঁচি ধরলেই আঙুল জমে আসে আজকাল

মৌসুম ধরে ধরে পুরো পুরোনো কথা শুনলেন তিনি

প্রথম বসাতেই তিনি শুধু হাঁটুর দিকে ঝুঁকলেন না। ব্যথা কবে শুরু, কোন কোন গাঁট পরে ধরা দিল, ভোরে জড়তা কেমন থাকে, সব জিজ্ঞেস করলেন। ক্লান্তির কথাও জানতে চাইলেন। অনেক আগের অসুখের কথাও উঠল। তারপর প্রতিটা গাঁট আলতো করে নাড়িয়ে দেখলেন কোথায় লাগে, কতটা বাঁকে। আমার আগের রিপোর্টগুলো টেবিলে ছিল। সেগুলো পড়ার আগে তিনি পাকা কোনো কথা বললেন না।

ছবি আর রক্ত পরীক্ষা ছাড়া তিনি এগোতে চাইলেন না

তিনি বললেন, শুধু মুখের কথায় গাঁটের ভেতরের অবস্থা বোঝা যায় না। তাই কিছু রক্ত পরীক্ষা দিলেন। হাঁটু আর হাতের ছবিও তুলতে বললেন। সেদিন কোনো সিদ্ধান্ত হলো না। আন্দাজে কিছু বলার চেয়ে ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো, তিনি বললেন। ছাঁটাইয়ের মৌসুমে অপেক্ষা কঠিন, তবু এই সৎ কথাটা ভালো লেগেছিল।

এই যত্ন দিনে শেষ হওয়ার নয়, মাসে মাসে চলে

ফলাফল হাতে এলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আমার মতো গাঁটের সমস্যা লম্বা সময় ধরে দেখভাল করতে হয়। একবারের দেখায় সব মিটে যায় না। নির্দিষ্ট বিরতিতে আবার বসতে হবে। সকালগুলো কেমন যাচ্ছে শুনে তিনি পরিকল্পনা বদলাবেন। কোনো সপ্তাহ ভালো যাবে, কোনোটা যাবে না।

একটা বিষয়ে তিনি খুব পরিষ্কার ছিলেন। আগে থেকে যেসব ওষুধ খাচ্ছি, সেগুলো ঠিক যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবেই চলবে। হাঁটু একটু সহজ লাগলেই নিজে থেকে কোনোটা বন্ধ করা যাবে না। বদল লাগলে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি ওষুধটা লিখে দিয়েছেন। আমি নই, অন্য কেউও নয়।

কখন তিনি সার্জনের কাছে যেতে বলবেন

তিনি এটাও বলে রাখলেন, কিছু গাঁটের সমস্যা একসময় তাঁর কাজের বাইরে চলে যায়। কোনো গাঁটের ক্ষতি অপারেশনের দিকে গেলে তিনি সেটা খোলাখুলি জানিয়ে দেবেন। গত বছর আমার এক চাচাতো ভাইয়ের এমন হয়েছিল। সিদ্ধান্তের আগে তার পরিবার নাটোরে এমন গাঁটের মেরামতের কাজ করা সার্জনদের খোঁজখবর করেছিল। দরকার পড়লে আমার ডাক্তারও সৎভাবে পাঠিয়ে দেবেন, এই ভরসাটা মনে শান্তি দিয়েছে।

ফেরার আগে যেসব প্রশ্ন করে এসেছিলাম

আগের মতো শক্ত করে কাঁচি ধরতে পারব তো?

এমন আশ্বাস তিনি দিলেন না। লক্ষ্য হলো জড়তা কমানো আর যতটা নড়াচড়া আছে তা বাঁচিয়ে রাখা। কার কতটা ফেরে, সেটা মানুষভেদে আলাদা। প্রতিবার দেখায় সকালের অবস্থা সত্যি সত্যি বলতে বললেন।

বাগানের কাজ চালিয়ে যেতে পারব?

পারব, তবে বদল আনতে হবে। খারাপ সকালে ভারী কাজ কম, মাঝে মাঝে ঠিকমতো বিরতি। গাছতলায় লম্বা সময় বসে থাকলে পিঠ আরও খারাপ হয়। তাই বিরতিতে এখন একটু হেঁটে নিই। কাজ ধীরে হয়। তবু হয়।

ক্লান্তির কথা এতবার জানতে চান কেন?

তিনি বললেন, আমার মতো গাঁটের কষ্টের সঙ্গে ক্লান্তি প্রায়ই জড়িয়ে থাকে। শুধু একটা হাঁটু নয়, পুরো শরীর কেমন সামলাচ্ছে তা এতে বোঝা যায়। তাই প্রতিবার ঘুম আর শক্তির কথা ওঠে। আমিও আজকাল এসব খেয়াল করছি।

পরের দেখাগুলোতে কী হয়?

তিনি গাঁটগুলো আবার নাড়িয়ে আগেরবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কোন কাজ সহজ হলো, কোনটা এখনো পারি না, সেসব শোনেন। তারপর ছোট ছোট ধাপে পরিকল্পনা বদলান। তাড়াহুড়ো করে কিছু পাল্টানো হয় না।

আমার ছেলেদেরও কি এই কষ্ট হতে পারে?

এর সহজ উত্তর নেই, তিনি বললেন। আমার কাজ এখন নিজের গাঁটের যত্ন নেওয়া। ছেলেদের কখনো এমন জড়তা ফিরে ফিরে এলে তারা যেন শুরুতে দেখিয়ে নেয়। আমার মতো বছরের পর বছর ফেলে রাখলে লাভ হয় না।

রাতারাতি কোনো গাঁট গরম হয়ে ফুলে উঠলে পরের দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। হঠাৎ কোনো গাঁট গরম, ফোলা আর প্রচণ্ড ব্যথা হলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর গায়ে নিয়ে গাঁটে ব্যথা উঠলেও সেদিনই যেতে হবে। আর কোনো গাঁট হঠাৎ একদম নাড়ানো না গেলে ঘরে বসে থাকা চলবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.