সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ
মেঝের মাদুর থেকে উঠতে গেলেই হাঁটুতে টান পড়ে
আমি ময়মনসিংহে একটা ছোট্ট শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে কাজ করি। সারাদিন আমার কাটে মেঝেতে পাতা মাদুরে বাচ্চাদের সঙ্গে বসে। বারবার উঠতে হয়, বারবার বসতে হয়। বেলা বাড়লেই উঠতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা লাগে। বাচ্চাদের জুতার ফিতা বাঁধতে গেলে বা ছোট জামার বোতাম লাগাতে গেলে আঙুলগুলো জমে আসে। দুপুর পেরোলেই শরীরে এমন ক্লান্তি নামে, একটু বিশ্রাম নিলেও তা কাটে না।
শুরুটা ছিল প্রায় এক বছর আগে, খুব ধীরে ধীরে। প্রথমে শুধু সকালে উঠলে আঙুলে জড়তা থাকত। পরে ব্যস্ত দিনের শেষে হাঁটুতে ব্যথা শুরু হলো। গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা আর ছুটির দিনে বিশ্রাম নিয়ে দেখেছি। ব্যথা ফিরে ফিরে এসেছে, দুই হাঁটুতেই ছড়িয়েছে। আমার নিজের ডাক্তার পুরো কথাটা মন দিয়ে শুনলেন, হাত আর হাঁটু পরীক্ষা করলেন। তিনি বললেন, এভাবে ফিরে আসা গাঁটের সমস্যা এমন একজন বিশেষজ্ঞকে দেখানো দরকার যাঁর কাজই এ ধরনের সমস্যা নিয়ে।
এখানে তেমন ডাক্তার কীভাবে খুঁজব, তা আমি জানতাম না। তাই প্রথমে ময়মনসিংহে বসেন এমন ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা দেখে বোঝার চেষ্টা করলাম এই জেলায় কারা রোগী দেখেন। সেখানে দেওয়া বিবরণ দেখে আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম কার কাজ আমার এই গাঁটের সমস্যার সঙ্গে মেলে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
মেঝের মাদুর থেকে উঠতে গেলেই হাঁটুতে টান পড়ে
প্রথম বসায় তিনি যা যা জানতে চাইলেন
রিউমাটোলজিস্টের কাছে প্রথমবার বসে দেখলাম, তিনি তাড়াহুড়ো করলেন না। কোন কোন গাঁটে বেশি কষ্ট হয়, কবে থেকে শুরু, সকালে জড়তা কতক্ষণ থাকে, এসব একে একে জিজ্ঞেস করলেন। বিশ্রাম নিয়েও না কাটা ক্লান্তির কথাও তিনি আলাদা করে শুনলেন। আগের অসুখের কথা আর বাড়িতে নিজে নিজে যা যা করে দেখেছি, সেগুলোও জানতে চাইলেন। ভেবেছিলাম তিনি শুধু হাঁটু দেখেই কিছু বলবেন। তা হলো না, আগে এলো লম্বা প্রশ্নের পালা।
হাত আর হাঁটু নিজে পরীক্ষা করে দেখলেন
কথা শেষে তিনি আমাকে দাঁড় করিয়ে, বসিয়ে, আবার নিচু আসন থেকে উঠিয়ে হাঁটু দেখলেন। গাঁটের চারপাশে হালকা চাপ দিয়ে বুঝতে চাইলেন ব্যথা ঠিক কোথায়। হাঁটু কতটা ভাঁজ হয়, তাও দেখলেন। আঙুলের বেলাতেও একই যত্ন, হাত খুলতে আর মুঠো করতে বললেন। এরপর আমার আগের ডাক্তারের দেওয়া রিপোর্টগুলো মন দিয়ে পড়লেন। তিনি বললেন, পুরো বিষয়টা সামনে না রেখে তিনি কোনো সিদ্ধান্তে যাবেন না।
রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি কেন দরকার হলো
তিনি বুঝিয়ে বললেন, বাইরে থেকে একই রকম দেখালেও গাঁটের সমস্যার ভেতরের চেহারা আলাদা হতে পারে। তাই কিছু রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি দরকার। এগুলো দেখে বোঝা যাবে সমস্যাটা কোন দিকে যাচ্ছে। তিনি আগাম কোনো ফল বলেননি। সেদিনই যে সব উত্তর মিলবে না, তাও তিনি প্রথমেই পরিষ্কার করে দিলেন।
একদিনে শেষ নয়, চলবে ধাপে ধাপে
তিনি সোজা করে বললেন, এ ধরনের সমস্যার দেখভাল সাধারণত লম্বা সময় ধরে চলে। ভালো লাগলেও তা আসে ধীরে, কখনো এগোয়, কখনো থামে। মাঝে মাঝে ফিরে এসে দেখাতে হবে, গাঁটের অবস্থা বুঝে তিনি পরিকল্পনা বদলাবেন। অন্য সমস্যার জন্য আমি যেসব ওষুধ আগে থেকে খাচ্ছি, সেগুলো নিয়ে তিনি কড়া কথা বললেন। ওষুধ চলবে ঠিক যেভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে। বদলাতে হলে বদলাবেন শুধু যিনি ওষুধটি দিয়েছেন। হাঁটু কদিন ভালো লাগছে বলেই নিজে থেকে কোনো ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। তিনি আরও বললেন, কোনো গাঁট নষ্ট হয়ে অস্ত্রোপচারের দিকে গেলে তিনি নিজেই তা জানিয়ে দেবেন। আমার এক আত্মীয়ার ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছিল, হাঁটুর জন্য পরে তিনি ময়মনসিংহের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে পরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ফেরার আগে আমার জিজ্ঞাসাগুলো
দিবাযত্ন কেন্দ্রের কাজটা কি আগের মতোই করতে পারব?
তিনি বললেন, লক্ষ্য হলো সময়ের সঙ্গে আমার দিনগুলো সহজ করা। ব্যথা একেবারে চলে যাবে, এমন কথা তিনি দেননি। গাঁট কেমন সাড়া দেয়, তা দেখে আমরা একসঙ্গে পরিকল্পনা ঠিক করব।
সকালে আঙুলের জড়তা এত বেশি থাকে কেন?
তিনি বললেন, বিশ্রামের পর জড়তা এই ধরনের সমস্যার একটা দিক, যা তিনি খতিয়ে দেখছেন। সেজন্যই সকালের কথা এত করে জিজ্ঞেস করেছেন। পরীক্ষার ফল এলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে।
পরীক্ষার ফল কবে নাগাদ জানা যাবে?
তিনি বললেন, পরেরবার বসে রিপোর্টগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। না দেখে তিনি আন্দাজে কিছু বলবেন না। ছবি পরিষ্কার না এলে আবার ছবি লাগতে পারে, তাও জানিয়ে রাখলেন।
দুই দেখার মাঝখানে আমি কী খেয়াল রাখব?
তিনি বললেন, কোন গাঁটে ব্যথা বাড়ল, সকালের জড়তা কতক্ষণ থাকল, ক্লান্তি কেমন রইল, এগুলো মনে রাখতে। সহজ ভাষায় লিখে রাখলে পরেরবার বলতে সুবিধা হবে।
কদিন ভালো লাগলেই কি নিয়মিত ওষুধ ছেড়ে দিতে পারি?
না। এ নিয়ে তিনি খুব পরিষ্কার। কদিন ভালো লাগা মানেই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করার কারণ নয়। বদলের সিদ্ধান্ত শুধু যিনি ওষুধ দিয়েছেন, তাঁরই।
কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠলে আমি কী করব?
তিনি বললেন, সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর এসে এই ব্যথার সঙ্গ নিলেও একই ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো গাঁট হঠাৎ একদম নাড়ানো না গেলেও পরের দেখার অপেক্ষা না করে সেদিনই যেতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.