সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - কুষ্টিয়া
তাঁত চলে সারাদিন, কাঁধ দুটো তার দাম দেয়
পাওয়ার লুমে তাঁত বুনি আমি। মাকুর কাজ সারাদিন থামে না। একই ভঙ্গিতে হাত দুটো দিনে হাজার বার ওঠানামা করে। দুই বছর আগে দুপুর গড়ালেই কাঁধে ব্যথা শুরু হতো। এখন কনুইতেও ব্যথা ধরে, সন্ধ্যা নামলে ঘাড় শক্ত হয়ে থাকে। সুতোয় গিঁট দিতে গেলে কিংবা ছিঁড়ে পড়া সুতো তুলতে গেলে আঙুলে ব্যথা লাগে। তাঁতির হাত ধীর হলে রোজগার কমে যায়। তাই মুখ খোলা উচিত ছিল আগেই, তবু চুপ করে ছিলাম অনেক দিন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিশ্রাম নিলেই শরীর ছেড়ে দিত আগে। এখন আর দেয় না। জড়তা রাত পেরিয়ে থেকে যায়। সকালে তাঁতে বসা মানে পুরনো ইঞ্জিন চালু করার মতো অবস্থা। নিজের ডাক্তার হাত দুটো নাড়িয়ে দেখলেন, কবে থেকে শুরু হয়েছে জিজ্ঞেস করলেন। তারপর বললেন, এভাবে এক গাঁট থেকে আরেক গাঁটে ছড়িয়ে পড়া জড়তা শুধু খাটুনির ফল নয়। আমাকে রিউমাটোলজিস্টের কাছে যেতে বললেন। যাঁর কাজই হলো এমন গাঁট নিয়ে, যা মালিককে মাসের পর মাস ভোগায়।
মালিক আধা দিনের ছুটি দিলেন ব্যাপারটা গোছানোর জন্য। শহরে থাকা এক চাচাতো ভাই মোবাইলে খুঁজতে সাহায্য করল। দুজনে মিলে DoctorBD24-তে কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের তালিকা দেখলাম। বাড়ি ফেরার পথের কাছাকাছি চেম্বারগুলো টুকে রাখলাম। এমন ডাক্তার চেয়েছি, যিনি বুঝবেন আমার হাত শুধু শরীরের অংশ নয়, আমার জীবিকাও।
2 available specialists found
Dr. M. Mahmud Hossain
তাঁত চলে সারাদিন, কাঁধ দুটো তার দাম দেয়
শুরুটা তাঁতের দোষ ভেবেই কেটেছে
এক বছর সবাইকে বলে গেছি, তাঁতের কাজটাই ভারী। তাঁতিদের গায়েও ব্যথা থাকে। কিন্তু তাদের ব্যথা ঘুমের পর ছেড়ে যায়, আমারটা যেতে শুরু করল না। কাঁধ থেকে কনুইয়ে গেল, তারপর ঘাড়ে, তারপর আঙুলে। এভাবে ছড়িয়ে পড়া জিনিসের জন্য অন্য ধরনের চোখ দরকার, আমার ডাক্তার বললেন।
আমার কথা আর পুরনো রিপোর্ট মিলিয়ে তিনি যা বুঝলেন
সবার আগে তিনি পুরো গল্পটা শুনতে চাইলেন। কোন গাঁটে আগে, কোনটায় পরে। সকালের জড়তা কেমন। ক্লান্তি কি এর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। আগের অসুখের ইতিহাস। তারপর পুরনো রিপোর্টগুলো পড়লেন, হাত দুটো নাড়িয়ে দেখলেন, গাঁটে গাঁটে চাপ দিয়ে বুঝলেন কোনটা কতদূর যায়।
বড় কথা বলার আগে রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি
যেসব গাঁটে কষ্ট বেশি, সেগুলোর রক্ত পরীক্ষা আর ছবি চাইলেন তিনি। রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত তিনি দিকের কথা বলবেন, চূড়ান্ত মত নয়। আন্দাজের ওপর দাঁড়ানো পরিকল্পনা আমার আরও বেশি মাস খরচ করত, জানার ওপর দাঁড়ানো পরিকল্পনার চেয়ে।
ছোট ছোট বদল, বারবার যাচাই
আমার যত্নের কিছুই এক বসায় চূড়ান্ত হয়নি। তিনি একটা শুরুর পরিকল্পনা দিলেন, তারপর রিভিউর জন্য ডাকলেন। প্রতিবার তিনি মাপেন কোনটা কতটা নড়ল, তাঁতের দিনগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, ছোট ছোট ধাপে বদল আনেন। সেরে ওঠা ধীর গতিরই। তিনি কোনোদিন এটাকে এর চেয়ে দ্রুত বলে সাজিয়ে বলেননি।
আগের ওষুধ আগের জায়গাতেই থাকল
পুরনো সমস্যার জন্য নিজের ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ খাই। রিউমাটোলজিস্ট সেগুলো ঠিক যেমন ছিল, তেমনই রেখে দিলেন। ওগুলো বদলানো তাঁর কাজ নয়। কোনো সপ্তাহে কাঁধটা সহজ লাগলেও আমি নিজে থেকে বন্ধ বা বদল করব না। বদল দরকার হলে সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি ওষুধগুলো দিয়েছেন, তিনিই।
যে ক্ষেত্রে তিনি নিজে কেসটা রাখলেন না
আমার চাচা গত বছর ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। কাঁধটা আজও ঠিকমতো কাজ করে না। জিজ্ঞেস করলাম, ওটাও কি তাঁর কাজের মধ্যে পড়ে? তিনি না বললেন। পড়ে গিয়ে ক্ষতি হওয়া কাঁধ, যেখানে মেরামতের দরকার হতে পারে, সেটা সার্জনের কাজ। চাচার জন্য তিনি কুষ্টিয়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখিয়ে দিলেন।
একজন তাঁতির জিজ্ঞাসা
এসব কি শুধু তাঁতের কাজের জন্যই হলো?
তিনি একটামাত্র কারণে সব সীমাবদ্ধ রাখলেন না। তাঁত আমার কাঁধে রোজ চাপ দেয় ঠিকই। তবে শুধু কাজের ক্লান্তি সাধারণত এভাবে গাঁটে গাঁটে ছড়ায় না, রাত পেরিয়েও থেকে যায় না। এই ধরনটারই তিনি যত্ন নিচ্ছেন।
যেসব গাঁটে এখনো তেমন ব্যথা নেই, সেগুলোর ছবি কেন?
গাঁট ভেতরে কেমন আছে আর ভালো দিনে কেমন লাগছে, দুটো এক জিনিস নয়। দেরিতে আন্দাজ করার চেয়ে তিনি আগেভাগে দেখে নিতে চান। ছবিগুলো পরের বারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে লাগবে।
সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোতে তাঁত থামিয়ে দেব?
এটা নিয়ে খোলামেলা কথা হয়েছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ পুরো বিশ্রাম আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তিনি জানেন। খারাপ দিনে যেখানে পারি গতি কমাই। কাজ যদি কোনোদিন পরিকল্পনাকে হারিয়ে দিতে থাকে, তিনি চান সেটা আমি তাঁকে জানাই।
এক দেখা থেকে আরেক দেখায় কী তফাত হয়?
বেশিরভাগই ছোট ছোট জিনিস। কাঁধটা একটু বেশি উঠছে। সকালের জড়তা একটু তাড়াতাড়ি ছাড়ছে। তিনি এগুলো হিসাব রাখেন, পরিকল্পনা এক ধাপ করে বদলান। কিছুই লাফ দিয়ে এগোয় না।
আগের গতিতে আবার তাঁত চালাতে পারব?
তিনি তারিখের প্রতিশ্রুতি দেননি, পুরোপুরি ফেরার কথাও নয়। সেই জন্যই তাঁকে বেশি বিশ্বাস করি। আগে শক্ত ভিতে দাঁড়ানোই লক্ষ্য। গতি ফিরলে, গাঁটগুলো থিতু হওয়ার পেছন পেছনই ফিরবে।
কোনো সকালে কনুই গরম হয়ে ফুলে উঠল আর একদম নাড়ানো গেল না, তখন কী করব?
তিনি বললেন, সেদিনই হাসপাতালে যাবেন, আমার জন্য অপেক্ষা করবেন না। গাঁট গরম হয়ে ফুলে ওঠা, জ্বরসহ গাঁটে ব্যথা আসা, কিংবা গাঁট হঠাৎ আটকে গিয়ে একদম না নড়া, এগুলো সেদিনেরই বিষয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.