সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - খুলনা

সারাদিন ঠান্ডা পানিতে হাত, আঙুলগুলো আর কথা শোনে না

চিংড়ি বাছাইয়ের কাজ করি আমি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টেবিলে ঝুঁকে থাকতে হয়। পানি ঠান্ডা, টেবিল ভেজা, হাত দুটো ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতেই থাকে। এ বছর আঙুলে এমন এক ব্যথা শুরু হয়েছে, যা বিশ্রামেও সারে না। সন্ধ্যা নামলে আঙুলগুলো লাঠির মতো শক্ত হয়ে থাকে। ডান হাতের একটা আঙুল ফুলে থাকে, পুরোটা ভাঁজ হয় না। কাজ ধীর হয়ে যায়, পাশের জন তাড়া দেয়।

প্রথমে ভেবেছিলাম ঠান্ডার জন্যই এমন হচ্ছে। শীত গেল, ব্যথা রয়ে গেল। তারপর কব্জিতেও ব্যথা যোগ হলো। বাড়ি ফিরতে ফিরতে হাতে জোর থাকে না। কোনো কোনো সকালে কাপ ধরার মতো করে আঙুল বাঁকাতেই বেশ সময় লেগে যায়। নিজের ডাক্তার হাত দুটো ভালো করে দেখে বললেন, মাসের পর মাস এভাবে আঙুল ফুলে জড় হয়ে থাকা সাধারণ ক্লান্তির ব্যাপার নয়। এটা রিউমাটোলজিস্টের কাজ। যাঁর সারাদিনই কাটে এমন গাঁট নিয়ে, যা সহজে শান্ত হতে চায় না।

স্বামী বাজারে জিজ্ঞেস করে নানা নাম শুনে এলেন। প্রত্যেকের মুখে আলাদা নাম। আমি নিজে দেখে নিতে চাইলাম। রাতে কাজ শেষে তাঁর মোবাইলে DoctorBD24-তে খুলনার ডাক্তারদের তালিকা খুলে একে একে দেখলাম। বাসে যাওয়া যায়, এমন চেম্বার খুঁজেছি। আর খুঁজেছি এমন কাউকে, যিনি রোজই এ রকম গাঁটের সমস্যা দেখেন।

1 available specialists found

Dr. M. Mahmud Hossain

Qualifications MBBS, BCS (Health), and MD in Rheumatology from BSMMU, and has advanced training in musculoskeletal ultrasonography.
অবস্থান খুলনা সিটি, খুলনা

সারাদিন ঠান্ডা পানিতে হাত, আঙুলগুলো আর কথা শোনে না

কিছু জিজ্ঞেস করার আগে তিনি আমার হাত দুটো দেখলেন

প্রথম বসাতেই তিনি কলম হাতে নিলেন না। আঙুলগুলো ছড়াতে বললেন, মুঠো করতে বললেন, কব্জি উল্টে দেখালেন নিজে। তারপর শুরু হলো প্রশ্ন। ফোলাটা কবে থেকে খেয়াল করছি। কোন আঙুলগুলোতে কষ্ট বেশি। সকালগুলো কেমন যায়। আগের অসুখ-বিসুখের কথা। আমার আগের রিপোর্টগুলো ধীরে ধীরে পড়লেন। তাড়াহুড়ো করে কিছু ঠিক হবে না, সেটা প্রথম দিনই বুঝিয়ে দিলেন।

পরীক্ষাগুলো থেকে তিনি কী বুঝতে চান

তিনি রক্ত পরীক্ষা আর হাত ও কব্জির গাঁটের ছবি চাইলেন। আঙুল জড় হয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে তিনি বোঝালেন। ভুল কারণ ধরে এগোলে মাসের পর মাস নষ্ট হয়। ছবিতে গাঁটের ভেতরের অবস্থা ধরা পড়বে। রক্তের রিপোর্ট ভেতরে কী চলছে, তার খবর দেবে।

কাজ থামবে না, তাই পরিকল্পনা কাজের ফাঁক গলেই চলবে

এক মাস টেবিল ছেড়ে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সেটা সঙ্গে সঙ্গে বুঝলেন। তাই সাহায্যটা আমার শিফটের বিরুদ্ধে নয়, শিফট ঘিরেই সাজানো হলো। প্রতিবার তিনি আঙুলগুলো আবার দেখেন, কী বদলাল জিজ্ঞেস করেন, অল্প অল্প করে ঠিক করেন। তাড়াতাড়ি সারিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি কোনোদিন দেননি। দিয়েছেন ধীরে ধীরে শক্ত ভিতের কথা।

আমার পুরনো ওষুধে তিনি হাত দেবেন না

আরেকটা সমস্যার জন্য আমি অনেক আগের থেকে একটা ওষুধ খাই, নিজের ডাক্তারের দেওয়া। তিনি ওটার কথা জিজ্ঞেস করলেন, তারপর যেমন ছিল তেমনই রেখে দিলেন। ওটা আমার আর যে ডাক্তার দিয়েছেন, তাঁর মধ্যেকার বিষয়, তিনি বললেন। আর কোনো সপ্তাহে আঙুল ভালো থাকলেই আমি নিজের খেয়ালে কিছু বন্ধ করে দেব না। প্রেসক্রিপশন বদলান শুধু যিনি সেটা লিখেছেন, তিনিই।

যে গাঁটের জন্য অন্য হাতের দরকার

আমার স্বামী দুই বছর আগে নৌকার মই থেকে পড়ে হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিলেন। হাঁটুটা এখনো মাঝে মাঝে ছেড়ে দেয়। জিজ্ঞেস করলাম, তিনিও কি এখানেই দেখাবেন? তিনি হেসে না বললেন, ভদ্রভাবে কিন্তু পরিষ্কার করে। আঘাতে ক্ষতি হওয়া গাঁট, যেখানে মেরামতের কাজ লাগতে পারে, সেটা সার্জনের এলাকা। স্বামীর জন্য তিনি খুলনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখতে বললেন।

দ্বিতীয়বার গিয়ে যা যা জানতে চেয়েছিলাম

ঠান্ডা পানির কাজটা কি চালিয়ে যেতে পারব?

তিনি কাজ ছাড়তে বলেননি। আমাদের সংসারের পক্ষে সেটা সম্ভবও নয়। শিফটের মধ্যে কম কষ্টে কাজ চালানোর উপায় নিয়ে কথা হলো। কাজে যদি অগ্রগতি উল্টে যেতে থাকে, তখন আমরা দুজনে মিলে ভাবব, তিনি বললেন।

একটা আঙুল বাকিগুলোর চেয়ে বেশি ফোলে কেন?

এ ধরনের সমস্যায় সব গাঁট এক গতিতে চলে না, তিনি বললেন। একটা বেশি জ্বলে উঠতে পারে, পাশেরটা চুপ থাকতে পারে। তাই প্রতিবার তিনি আঙুলগুলো আলাদা করে মিলিয়ে দেখেন, নোট রাখেন।

এই আঙুলটা কি আবার পুরোপুরি ভাঁজ হবে?

তিনি প্রতিশ্রুতি দেননি। সেই সততার জন্যই তাঁকে সম্মান করি। কিছুটা ফিরতে পারে ধীরে ধীরে। কিছুটা নাও ফিরতে পারে। তিনি যা বলেছেন, মেপে দেখতে থাকবেন, ঠিক করতে থাকবেন, আমাকে ফাঁকা আশা খাওয়াবেন না।

কতদিন পর পর যেতে হবে?

শুরুতে ঘন ঘন, অবস্থা থিতু হলে ফাঁক বাড়বে। প্রতিবার দেখাটা পুরো হয়। তিনি ভাঁজ করেন, জিজ্ঞেস করেন, মিলিয়ে দেখেন। তারপরই ঠিক করেন কিছু বদলাবে কিনা।

জড়তা যদি এরপর হাঁটুতে শুরু হয়?

তাহলে এবারের মতো মাসের পর মাস চুপ না থেকে আগেভাগে জানাতে হবে। নতুন গাঁট যোগ হওয়া তাঁর জানা দরকারি খবর। লুকিয়ে রাখলে সমস্যা শুধু এগিয়ে যাওয়ার সময় পায়।

গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠল আর সঙ্গে জ্বর এল, এটা কি পরের দেখা পর্যন্ত রাখা যায়?

না। তিনি খুব পরিষ্কার করে বলেছেন। গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে ওঠা, জ্বরসহ গাঁটে ব্যথা, কিংবা গাঁট হঠাৎ একদম নাড়ানো না যাওয়া মানেই সেদিনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.