সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - যশোর

বাজারের পথটা ছোট, হাঁটু দুটো তাকে লম্বা করে দেয়

একত্রিশ বছর ধরে সাইকেলে করে চিঠি বিলি করেছি, গলি গলি ঘুরে, রোদে বৃষ্টিতে। এখন অবসরের জীবন, আর যে পা দুটো এতদিন এত কাজ করেছে, তারা এখন ধীর হয়ে গেছে। বাজারের পথে দুই গলি পেরোলেই হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। সকালে উঠলে হাঁটু যেন আটকে থাকে। বিছানার কিনারায় বসে কয়েকবার ভাঁজ করে তবেই ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারি। হাতের আঙুলগুলোও ইদানীং জড় হয়ে আসে। শার্টের বোতাম লাগাতে সময় লাগে আগের চেয়ে বেশি।

দুই-তিন বছর ধরে এটা ধীরে ধীরে বেড়েছে। ভেবেছি বয়সের দোষ, চুপ করে থেকেছি। বিশ্রাম নিয়েছি বেশি, হাঁটা কমিয়েছি। তাতে জড়তা কমেনি। এক হাঁটু থেকে আরেক হাঁটুতে গেছে, তারপর আঙুলে এসে পৌঁছেছে। শেষে নিজের ডাক্তারের কাছে গেলাম। তিনি হাঁটু চেপে দেখলেন, দাঁড়াতে বলে লক্ষ্য করলেন, পুরো কথাটা শুনলেন। তারপর বললেন, এ রকম ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া জড়তার কাজ রিউমাটোলজিস্টের। তাঁর কাছেই শুরু থেকে দেখানো উচিত।

খুঁজবো কোথা থেকে, সেটাই জানা ছিল না। ভাইপো মোবাইলে ডাক্তার খোঁজার উপায় দেখিয়ে দিল। আমি DoctorBD24-তে যশোরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে ধীরে ধীরে দেখলাম, যেমন করে একসময় রাস্তা অনুযায়ী চিঠি সাজাতাম। বড় নামের পেছনে ছুটিনি। চেয়েছি এমন কাউকে, যাঁর রোজকার কাজই এ রকম গাঁটের সমস্যা নিয়ে, আর যাঁর চেম্বার প্রয়োজনে হেঁটেও যাওয়া যায়।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

বাজারের পথটা ছোট, হাঁটু দুটো তাকে লম্বা করে দেয়

হাঁটু দেখার আগে তিনি যা যা জানতে চাইলেন

ভাবছিলাম, গিয়েই তিনি হাঁটু দেখবেন। তা হলো না। আগে অনেকক্ষণ ধরে প্রশ্ন করলেন। জড়তা কবে থেকে শুরু। কোন কোন গাঁটে পৌঁছেছে, কোনটার পর কোনটা। সকালের জড়তা কতক্ষণ থাকে। আগের চেয়ে ক্লান্তি বেশি লাগে কিনা। পুরনো কোনো অসুখ আছে কিনা। তারপর হাঁটু আর আঙুল একটা একটা করে ভাঁজ করে দেখলেন।

রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি কেন দরকার হলো

আমার আগের রিপোর্টগুলো তিনি মন দিয়ে পড়লেন। তারপর বললেন, কোনো সিদ্ধান্তের আগে রক্ত পরীক্ষা আর হাঁটু ও হাতের গাঁটের ছবি চাই। একই রকম ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বাইরে থেকে হাতে যা বোঝা যায় না, ছবিতে তা ধরা পড়ে। সেদিন কিছুই চূড়ান্ত হলো না।

মাসের হিসাবে বাঁধা একটা ধীর পরিকল্পনা

প্রথম দিনেই তিনি বলে দিলেন, আমার মতো গাঁটের যত্ন লম্বা সময় ধরে চলে। একবারের দেখায় এটা শেষ হওয়ার নয়। তাই এমন পরিকল্পনা দিয়ে শুরু হলো, যা আমি আসলেই মেনে চলতে পারব। মাঝে মাঝে রিভিউর দিনে তিনি দেখেন কোনটা কমেছে, কোনটা কমেনি, সেই অনুযায়ী একটু একটু বদলান। ধীর মানেই আশাহীন নয়।

আগে থেকে চলা ওষুধগুলো যেমন আছে, তেমনই থাকবে

অন্য সমস্যার জন্য আমি বছর ধরে কিছু ওষুধ খাই, নিজের ডাক্তারের দেওয়া। রিউমাটোলজিস্ট এ ব্যাপারে পরিষ্কার কথা বললেন। ওগুলো ঠিক যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে। তিনি বদলাবেন না। কোনো সকালে হাঁটুটা ভালো লাগলেই আমি নিজে থেকে বন্ধও করব না। বদল দরকার হলে যিনি ওষুধ দিয়েছেন, তিনিই সেটা ঠিক করবেন।

কোন হাঁটু সার্জনের কাছে যাবে, সেটাও তিনি বলে দিলেন

আমার ছোট ভাই কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিল। হাঁটুটা পুরো সোজা হয় না এখনো। জিজ্ঞেস করলাম, ওর ব্যাপারটাও কি এ রকম কাজের মধ্যে পড়ে? তিনি মাথা নাড়লেন। আঘাতে ক্ষতি হওয়া গাঁট, যেটা হাতে মেরামতের দরকার হতে পারে, সেটা সার্জনের কাজ। ভাইয়ের জন্য তিনি যশোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখতে বললেন।

বাড়ি ফিরে যেসব প্রশ্ন মাথায় ঘুরছিল

বাজারে হেঁটে যাওয়া কি ছেড়ে দিতে হবে?

তিনি চান না, আমিও চাই না। পরিকল্পনার উদ্দেশ্যই হলো আমাকে হাঁটতে রাখা, তুলোয় মুড়ে রাখা নয়। কোনো দিন লাঠি ভর করে ধীরে যাই। হাঁটা একেবারে ছেড়ে দেওয়া আমাদের দুজনের কাছেই শেষ কথা।

সকালগুলো সহজ হতে কতদিন লাগবে?

তিনি কোনো তারিখ দেননি, আর সেই জন্যই তাঁর ওপর ভরসা বাড়ল। ছোট ছোট লক্ষণ দিয়ে বিচার হবে আগে। ঘুম ভাঙার পর জড়তা কত মিনিট থাকে, বোতাম লাগাতে এখনো যুদ্ধ করতে হয় কিনা, এসব।

একটা হাঁটুতে শুরু হয়ে আরেকটাতে গেল কেন?

এই ধরনটার জন্যই তিনি উত্তর দেওয়ার আগে পরীক্ষা চেয়েছেন। আমার মতো সমস্যা প্রায়ই এক গাঁটে আটকে থাকে না। ছবি আর রক্তের রিপোর্ট দেখে বোঝা যাবে এটা ছড়াচ্ছে কিনা। পরিকল্পনাটা তৈরি হবে সেভাবেই।

পরীক্ষা শেষ না হলে কি তিনি সাহায্য শুরুই করবেন না?

প্রথম দেখা থেকেই তিনি পথ দেখিয়েছেন। বিশ্রাম, নড়াচড়া, সিঁড়ি ব্যবহার নিয়ে। তবে লম্বা পরিকল্পনাটা রিপোর্ট হাতে না পেলে তিনি ঠিক করবেন না। তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে কারও লাভ নেই, তিনি বললেন।

রিভিউর দিনে আসলে কী বদলায়?

তিনি গাঁটগুলো আবার ভাঁজ করে আগের বারের সঙ্গে মেলান। সকাল, ঘুম আর ক্লান্ত দিনের কথা জিজ্ঞেস করেন। তারপর পরিকল্পনায় ছোট ছোট বদল আনেন। নাটকীয় কিছু ঘটে না। সেটাই বোধহয় এই চিকিৎসার ধরন।

হাঁটু হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠলে আর একদম ভাঁজ না হলে রিভিউর দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। এ ব্যাপারে তিনি কড়া কথা বললেন। গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে ওঠা, জ্বরসহ ব্যথা আসা, কিংবা গাঁট একদম নাড়ানো না যাওয়া অপেক্ষার বিষয় নয়। সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.