সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - জামালপুর
মাঠের কাজ শেষ হওয়ার আগেই হাত ফুলে ওঠে
আমার বয়স তেতাল্লিশ, ধানক্ষেতই আমার জীবিকা। ভেজা মাঠে দুপুর গড়ালেই হাত ফুলে ভারী হয়ে আসে, চারা ধরতে গেলে আঙুলে টান লাগে। বসা থেকে উঠতে গেলেই হাঁটু জানান দেয়, আর রোপণের দিনে এমন ওঠাবসা শত শত বার। তার ওপর শরীরজুড়ে একটা ক্লান্তি লেগেই থাকে। ঘুমাই, খাই, তবু সকালে উঠে শরীর ঝরঝরে লাগে না। সন্ধ্যা নামলে হাতের আঙুলের গিঁটগুলো থরথর করে জ্বালা করে।
প্রথমে ভেবেছিলাম মৌসুমের ধকল। ভেজা মাঠের কাজে এমন হয়েই থাকে। কিন্তু ফোলা রাতভর থেকে যেতে লাগল, ছুটির দিনেও হাঁটুর ব্যথা কমল না। এলাকার ডাক্তার আমার কথা মন দিয়ে শুনলেন, হাত দেখলেন, সকালের অবস্থা জানতে চাইলেন। তারপর বললেন, হাত আর হাঁটু একসঙ্গে এভাবে মাসের পর মাস ভোগালে সেটা রিউমাটোলজিস্টের দেখার বিষয়। তাঁর কথাতেই এই খোঁজের শুরু।
বিশেষজ্ঞ খোঁজা আমার কাছে একদম নতুন ছিল। ছেলে সাহায্য করল, দুজনে মিলে জামালপুরের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা দেখলাম, কারা আছেন আর তাঁদের তথ্য কীভাবে সাজানো থাকে বুঝতে। ওখান থেকে শুরু করায় খোঁজটা সহজ লাগল।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
মাঠের কাজ শেষ হওয়ার আগেই হাত ফুলে ওঠে
পরীক্ষার আগে তিনি পুরো গল্পটা লিখে নিলেন
কোনো ওষুধের কথা দিয়ে শুরু হয়নি। তিনি চাইলেন ঘটনাটা পরপর শুনতে। ফোলা প্রথম কবে এল। কোন কোন আঙুলে। হাঁটু আগে, নাকি হাত। ভোরে উঠে কতটা জড়তা থাকে, কাজ শুরু করতে কতক্ষণ লাগে। আগের অসুখের কথা জিজ্ঞেস করলেন, ক্লান্তিটা বিশ্রামে সারে কিনা তাও। এরপর হাত আর হাঁটু পরীক্ষা করলেন, আগের রিপোর্টগুলো পৃষ্ঠা ধরে ধরে পড়লেন।
ছবি আর রক্ত পরীক্ষা ছাড়া বড় কথা নয়
তিনি রক্ত পরীক্ষা দিলেন, হাত আর হাঁটুর গাঁটের ছবিও। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এত পরীক্ষা করে দেখার পরেও কেন লাগবে। তিনি বললেন, বাইরে থেকে দেখে একরকম বোঝা যায়, ভেতরে কী হচ্ছে জানতে পরীক্ষা লাগে। দুটো দুই ধরনের জানা। দুটোই সামনে না এলে তিনি পরিকল্পনা ঠিক করবেন না। তাঁর এই সোজা কথাটা আমার ভালো লেগেছিল।
ওষুধ চলবে ঠিক আগের নিয়মেই
প্রথম দিনই একটা কথা তিনি ঠিক করে দিলেন। আমার চলতি ওষুধ যেভাবে চলছে, ঠিক সেভাবেই চলবে। কোনো সপ্তাহে ফোলা কমে গেল মানেই নিজে থেকে ওষুধ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি বললেন, অনুভূতি বদলায় তাড়াতাড়ি, গাঁট বদলায় ধীরে। ওষুধে বদল লাগলে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি ওষুধটা দিয়েছেন, পুরো অবস্থা দেখেই। মাঠে দাঁড়িয়ে আমি একা সেই সিদ্ধান্ত নেব না।
ধীরে ধীরে এগোনো, ছোট ছোট বদলে
তিনি গোপন করেননি, এই চিকিৎসা ধীরগতির। প্রতিবার দেখায় আগের পরিকল্পনা নতুন করে দেখা হয়, ছোটখাটো বদল আসে। কোনোবার ভোরগুলো সহজ হয়, কোনোবার তেমন বদল নেই। তিনি ভান করেন না। আর নিজের সীমাটাও স্পষ্ট বলেছেন। হাঁটু যদি এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে অপারেশন ছাড়া উপায় নেই, তিনি আমাকে ঘুরিয়ে রাখবেন না। সরাসরি বলবেন সার্জনের কাছে যেতে। গত শীতে আমার প্রতিবেশীর বেলায় ঠিক এমন সিদ্ধান্ত এসেছিল, তখন পরিবারের সবাই মিলে জামালপুরে জেনারেল সার্জনের খোঁজের তালিকা দেখে পরের ধাপটা বুঝেছিলাম।
পরের রোপণের আগে যেসব কথা জানতে চেয়েছিলাম
ভেজা মাঠের কাজ কি চালিয়ে যেতে পারব?
তিনি থামতে বলেননি। বলেছেন, এক মৌসুমে ফোলা কেমন আচরণ করে দেখা হবে, আর পরিকল্পনা সাজানো হবে আমার আসল জীবন ঘিরেই।
বিশ্রামের দিনেও হাত ফোলে কেন?
এই কথাটা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কাজ ছাড়াও ফোলা থেকে যাওয়া মানে গাঁটের ভেতরে কিছু চলছে, তাই পরীক্ষাগুলো জরুরি ছিল।
এক প্রস্থ চিকিৎসাতেই কি সব শেষ হয়ে যাবে?
তিনি বললেন, না। এমন গাঁটের সমস্যা সাধারণত লম্বা সময় ধরে দেখভাল করতে হয়, মাঝে মাঝে দেখা আর ছোট বদল দিয়ে।
ফিরে গেলে আপনি কী কী মিলিয়ে দেখেন?
ফোলা, ভোরের জড়তা, হাঁটুর অবস্থা আর ক্লান্তি কমছে কিনা। আগেরবারের লিখে রাখা অবস্থার সঙ্গে প্রতিবার মিলিয়ে দেখেন তিনি।
পরিবারের লোকজন ভয় পায়, এটা কি আরও ছড়াবে?
তিনি বললেন, কারো কারো ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে আরও গাঁটে ধরতে পারে। তাই সংকটের অপেক্ষা না করে নিয়মিত দেখা করাটাই জরুরি।
কোনো ভোরে যদি একটা গাঁট আগুনের মতো গরম, ফোলা আর একদম ভাঁজ করা না যায়, তখন?
তখন দেখা করার তারিখের অপেক্ষা করা যাবে না। হঠাৎ গরম হয়ে প্রচণ্ড ফুলে ওঠা গাঁট, গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কিংবা একদম আটকে যাওয়া গাঁট মানে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.