সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - হবিগঞ্জ
পাতার ঝুড়িটা যেন প্রতি মৌসুমে ভারী হচ্ছে
আমার বয়স আটান্ন। ছোটবেলা থেকে চা-বাগানের সারিতে কাজ করি। এখন ঢাল বেয়ে উঠতে গেলেই হাঁটুতে ব্যথা ধরে, কোমরের নিচটা দুপুরের আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পিঠের পাতার ঝুড়িটা মনে হয় ওজনের দ্বিগুণ। সবচেয়ে বেশি ভোগায় ভোরের আঙুলগুলো। পাতা তোলা শুরুর আগে আঙুলগুলো জড় হয়ে থাকে, নাড়াতেই সময় লাগে। বোতাম লাগাতে গেলেও আজকাল অন্যের সাহায্য নিতে হয়।
এই সমস্যা এক মৌসুমে আসেনি। ধীরে ধীরে জড়তা দিনের বেশ খানিকটা জুড়ে থেকে যেতে লাগল, সাপ্তাহিক ছুটির বিশ্রামেও আর সারত না। বাগানের ডাক্তার আমার কথা শুনলেন, হাঁটু চেপে দেখলেন, মুঠো বন্ধ করে দেখতে বললেন। তারপর বললেন, এভাবে ছড়িয়ে পড়া গাঁটের সমস্যার জন্য এমন ডাক্তার দরকার, যিনি সারাক্ষণ গাঁটের চিকিৎসা নিয়েই থাকেন। তাঁর কথায় আমি রিউমাটোলজিস্টের খোঁজে বের হলাম।
খোঁজ শুরু করলাম ভাইপোর মোবাইল দিয়ে। হবিগঞ্জ জেলার ডাক্তারদের তালিকা ঘেঁটে দেখলাম, এদিকে কারা চেম্বার করেন আর মানুষ কীভাবে বিশেষজ্ঞ খুঁজে পায়। আমার নিজের খোঁজটা সেখান থেকেই শুরু, ধীরে ধীরে বুঝতে শেখা কাকে দেখাতে হবে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
পাতার ঝুড়িটা যেন প্রতি মৌসুমে ভারী হচ্ছে
প্রথম দিন তিনি জানতে চাইলেন আমার দিনগুলোর কথা
প্রথম দেখায় তিনি ব্যথার কথা কম, আমার রোজকার কাজের কথা বেশি শুনলেন। কোন গাঁটে আগে ধরে। কবে থেকে শুরু। ভোরে জড়তা বেশি, নাকি বিশ্রামের পরে। আগের অসুখের কথাও জিজ্ঞেস করলেন, ক্লান্তির কথাও। তারপর হাঁটু ভাঁজ করে দেখলেন, কোমরে চাপ দিয়ে পরীক্ষা করলেন, দুই হাতের মুঠো খুলিয়ে বন্ধ করালেন নিজের চোখের সামনে। সেদিন তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
পরীক্ষা আর ছবি ছাড়া তিনি এগোতে চাইলেন না
আগের রিপোর্টগুলো তিনি আগে পড়লেন। তারপর বললেন, পরিকল্পনা ঠিক করার আগে রক্ত পরীক্ষা লাগবে, হাঁটু আর হাতের গাঁটের ছবিও লাগবে। আন্দাজে এগোনো যাবে না। একই রকম ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, পরীক্ষাগুলো সেগুলো আলাদা করতে সাহায্য করে। ফল হাতে পেলে আবার বসা হবে, তারপর সামনের পথের কথা।
এই চিকিৎসা মাসের হিসাবে চলে
শুরুতেই তিনি পরিষ্কার বলে দিলেন, এমন সমস্যা এক দেখায় শেষ হয় না। মাসের পর মাস ধরে সামলাতে হয়, মাঝে খারাপ দিন আসবেই। আমার চলমান ওষুধ যেভাবে দেওয়া আছে, ঠিক সেভাবেই চলবে। কোনো সকালে গাঁট ভালো লাগলেই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করব না, নিজে বদলাবও না। বদল দরকার হলে সেটা করবেন যিনি ওষুধ দিয়েছেন, তিনিই।
পরের দেখাগুলোতে যা যা বদলায়
প্রতিবার তিনি আগের কথাগুলো আবার মিলিয়ে দেখেন। ভোরের জড়তা এখন কতক্ষণ থাকে। সারি বেয়ে উঠতে আগের চেয়ে সুবিধা হচ্ছে কিনা। ক্লান্তিটা কমেছে কিনা। তারপর পরিকল্পনায় অল্প অল্প বদল আসে, একবারে সব নয়। তিনি আরও বলে রেখেছেন একটা কথা। কোনো গাঁট এমনভাবে নষ্ট হলে, যা তাঁর চিকিৎসায় সারানো যাবে না, তিনি নিজেই বলবেন সার্জনের কাছে যেতে। আমার এক আত্মীয়ের হাঁটুর বেলায় ঠিক এমনটাই ঘটেছিল, তখন আমি হবিগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে তাঁর জন্য খোঁজ নিয়েছিলাম।
বাগানের গেটে বসে যেসব প্রশ্ন মাথায় এসেছিল
বাগানের কাজ কি ছেড়ে দিতে হবে?
তিনি বললেন, উদ্দেশ্য সেটা নয়। উদ্দেশ্য হলো ব্যথা কমিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া, আর মাসজুড়ে শরীরের সাড়া দেখে এগোনো।
ভোরেই জড়তা এত বেশি হয় কেন?
তাঁর ভাষায়, অনেকক্ষণ নড়াচড়া না হলে আমার মতো গাঁট শক্ত হয়ে থাকে, চলতে শুরু করলে আস্তে আস্তে ছাড়ে। এই ধরনটাই তিনি প্রতিবার খেয়াল করেন।
এক মাস পুরো বিশ্রাম নিলেই কি হতো না?
বিশ্রামে আমার আর সারছিল না আগেই। তিনি বললেন, বিশ্রাম দরকার ঠিকই, তবে গাঁটে গাঁটে ছড়িয়ে পড়া সমস্যা শুধু বিশ্রামে থামে না।
কতদিন পরপর দেখাতে হবে?
নির্দিষ্ট হিসাব নেই। শুরুতে দেখা ঘন ঘন হয়, পরিকল্পনা ঠিকঠাক চললে আর রিপোর্ট শান্ত থাকলে ধীরে ধীরে ফাঁক বাড়ে।
ব্যথা কি একেবারে চলে যাবে?
এমন আশ্বাস তিনি দেননি। বলেছেন, উন্নতি সাধারণত ধীরে আসে। ভোরগুলো সহজ হওয়া আর কাজে টিকে থাকাই এখানে আসল মাপ।
রাতে হঠাৎ কোনো গাঁট গরম হয়ে ফুলে উঠলে পরের দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করব?
না। কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠে প্রচণ্ড ব্যথা করলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলেও তাই, কোনো গাঁট হঠাৎ একদম নাড়ানো না গেলেও তাই। অপেক্ষা করা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.