সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - ফেনী
দুপুর গড়ালেই কলম ধরতে কষ্ট হয়
আমি একটা প্রাথমিক স্কুলে পড়াই। সারাদিন হাতের কাজ লেগেই থাকে। বোর্ডে লিখতে হয়, খাতা দেখতে হয়, আবার ছোটদের হাত ধরে রাস্তা পার করতেও হয়। গত শীতের পর থেকে আমার কব্জি আর আঙুলের গাঁটে ব্যথা শুরু হয়েছে। দুপুর হতে না হতেই ব্যথাটা বাড়ে। কলম ধরে খাতা দেখতে গেলে আঙুল ঠিকমতো বাঁকে না। সকালে ঘুম থেকে উঠলে আঙুলগুলো জমে থাকে। যেই আঙুলে বিয়ের আংটি পরি, সেটা ফুলে গিয়ে আংটিটা আটকে থাকে।
প্রথমে ভেবেছিলাম শীতের কারণে হচ্ছে, হয়তো নিজে নিজেই সেরে যাবে। শুক্রবারে বিশ্রাম নিলে একটু কমত, আবার সপ্তাহ শুরু হলেই ফিরে আসত। আমার নিজের ডাক্তারকে দেখালাম। তিনি গাঁটগুলো টিপে টিপে দেখলেন, সকালের জড়তা কতক্ষণ থাকে জানতে চাইলেন। তারপর বললেন, এই ধরনের গাঁটের সমস্যা নিয়ে যাঁরা সারাক্ষণ কাজ করেন, তিনি হলেন রিউমাটোলজিস্ট। আমার উচিত অনুমান করে বসে না থেকে তাঁকে দেখানো।
রিউমাটোলজিস্ট আমি চিনতাম না। রাতে খাওয়ার পর ফোন হাতে নিয়ে খুঁজতে শুরু করলাম। প্রথমে ফেনীতে বসেন এমন ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা খুলে ধীরে ধীরে দেখলাম। নাম আর বসার সময় পড়লাম মন দিয়ে। লম্বা তালিকা আমার দরকার ছিল না। আমি খুঁজছিলাম এমন কাউকে, যাঁর কাজের জায়গাটাই গাঁটের এই সমস্যা।
1 available specialists found
Dr. Shadab Saud Sunny
দুপুর গড়ালেই কলম ধরতে কষ্ট হয়
প্রথম বসায় তিনি যা যা জানতে চাইলেন
ভেবেছিলাম হাত দুটো দেখে ওষুধ লিখে দেবেন। কিন্তু তিনি অনেকক্ষণ ধরে প্রশ্ন করলেন। কোন কোন গাঁটে ব্যথা। কবে থেকে শুরু। সকালে উঠে জড়তা ছাড়তে কতক্ষণ লাগে। সারাদিন ক্লান্ত লাগে কিনা। আগে কী কী অসুখ গেছে সেটাও। তারপর আঙুল আর কব্জির প্রতিটা গাঁট বাঁকিয়ে টিপে দেখলেন। আমার আগের রিপোর্টগুলোও তিনি মন দিয়ে দেখলেন, তার আগে চিকিৎসা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি কেন লাগল
তিনি বললেন, শুধু হাত দেখে পুরো ব্যাপারটা বোঝা যায় না। তাই কিছু রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি লাগবে। পরীক্ষায় ভেতরে কী চলছে জানা যাবে, ছবিতে গাঁটের এখনকার অবস্থা দেখা যাবে। ফল হাতে না আসা পর্যন্ত বড় কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তাড়াহুড়ো করে কিছু না বলাটা আমার ভালো লেগেছিল।
সময় নিয়ে চলার পরিকল্পনা
তিনি পরিষ্কার করে বললেন, আমার মতো গাঁটের সমস্যা একদিনে মেটে না। ধীরে ধীরে, দেখা করে করে এগোতে হয়। উন্নতি আসবে আস্তে আস্তে, মাঝে মাঝে খারাপ সপ্তাহও যাবে। আগের ডাক্তার যেভাবে ওষুধ দিয়েছেন, আমার ওষুধ সেভাবেই চলবে। বদল দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত তাঁরই হাতে থাকবে। গাঁট দুদিন ভালো লাগলেই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। প্রতিবার দেখায় তিনি গাঁটের অবস্থা দেখে পরিকল্পনায় বদল আনা লাগবে কিনা ঠিক করবেন।
যে সমস্যা তাঁর নয়, সার্জনের
আমি জানতে চাইলাম, গাঁট যদি কখনো খারাপভাবে নষ্ট হয়ে যায় তখন কী হবে। তিনি বললেন, সেটা তাঁর কাজের বাইরে, সার্জনের কাজ। এমন হলে তিনি আড়াল না করে সরাসরি বলে দেবেন। এই সৎ কথাটা মনে গেঁথে গেছে। কয়েক মাস পরে আমার চাচার পুরনো হাঁটুর আঘাত ফুলে উঠলে আমি ফেনীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা থেকে তাঁর জন্য ঠিক ধরনের ডাক্তার খুঁজেছিলাম।
সহকর্মীরা আমাকে যা জিজ্ঞেস করে
আঙুলের জড়তা কমে আবার আগের মতো খাতা দেখতে পারব তো?
সেই আশাই করা যায়, তবে আস্তে আস্তে। লক্ষ্য হলো স্কুলের দিনজুড়ে গাঁটের কষ্ট কমা, আর সেটা বোঝা যাবে মাস ধরে, একবার দেখাতেই নয়।
বোর্ডে লেখা কি বন্ধ করে দেব?
না। তিনি বলেছেন কাজ চালিয়ে যেতে। ব্যথা বাড়লে হাতকে একটু বিশ্রাম দিলেই হবে। বেশি খাতা দেখার কাজটা এক সন্ধ্যায় শেষ না করে সপ্তাহজুড়ে ভাগ করে নিতে বলেছেন।
প্রথম দিনেই তিনি আমার ওষুধ বদলালেন না কেন?
কারণ তখনো পরীক্ষার ফল তাঁর হাতে আসেনি। রক্তের রিপোর্ট আর গাঁটের ছবি সামনে না পেয়ে আগের ডাক্তারের দেওয়া কোনো কিছুতে তিনি হাত দিতে চাননি।
কদিন পরপর দেখা করতে হবে?
শুরুতে ঘন ঘন, যাতে গাঁট কেমন সাড়া দিচ্ছে তিনি দেখতে পান। পরে ব্যবধান বাড়বে। প্রতিবার একই গাঁটগুলো আবার দেখে দরকার হলে পরিকল্পনায় বদল আনবেন।
কোনো সপ্তাহে ফোলা বেশি থাকে। এটা কি তাঁকে বলব?
হ্যাঁ, বলতে হবে। তিনি বলেছেন কোন সপ্তাহগুলো খারাপ যায় আর তখন আমি কী কাজে ছিলাম, সেটা খেয়াল রাখতে। এই ধরনের ধারাবাহিকতাই দেখার সময় পরিকল্পনা বিচার করতে কাজে লাগে।
রাতে হঠাৎ একটা গাঁট গরম হয়ে ফুলে উঠল আর খুব ব্যথা করল। পরের দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করব?
না। এ নিয়ে তিনি পরিষ্কার ছিলেন। হঠাৎ কোনো গাঁট গরম হয়ে ফুলে উঠলে আর প্রচণ্ড ব্যথা হলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলেও তাই। কোনো গাঁট একদম নাড়ানো না গেলেও অপেক্ষা করা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.