সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - দিনাজপুর
মাঠে জিরিয়ে নিলেই হাঁটু আরও শক্ত হয়ে আসে, হাতেও ব্যথা ধরে
দিনাজপুরের বাইরে নিজের জমিতে চাষ করি, এই কাজ দিয়েই আমার সারা জীবন গড়া। গত এক বছর ধরে হাঁটু আর কোমরে নতুন ধরনের কষ্ট শুরু হয়েছে। নিজের ডাক্তার যত্ন করে জিজ্ঞেস করলেন কখন ব্যথাটা বেশি বাড়ে, তারপর বললেন গাঁটের বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। তিনি রিউমাটোলজিস্টের কথাই বললেন, যাঁদের কাজ বারবার ফিরে আসা গাঁটের ব্যথা আর জড়তা নিয়ে।
কাজ করার চেয়ে থামলেই কষ্টটা বেশি টের পাই। গাছের ছায়ায় একটু বসে জিরিয়ে নিলে হাঁটু যেন জমে যায়। আবার উঠতে সময় লাগে, প্রথম কদমগুলো চলে ধীরে। অনেকক্ষণ ঝুঁকে কাজ করলেও কোমর একই রকম আচরণ করে। সকালের দিকে হাতিয়ারের হাতল ধরলেও হাতে ব্যথা ধরে।
ভাবতাম ভারী পরিশ্রম আর বয়সই হয়তো কারণ। কিন্তু হালকা কাজের সপ্তাহেও একই অবস্থা থেকে গেল। তখন আশপাশে খোঁজ নিলাম, আর দিনাজপুরের ডাক্তারদের তালিকা দেখে বুঝলাম কে কোন সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। সেই খোঁজেই জানলাম, এই জড়তার জন্য আলাদা ধরনের ডাক্তার আছেন। কোনো সিদ্ধান্তের আগে তিনি যেন আমার পুরো অবস্থাটা শোনেন, এটাই চাই।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
মাঠে জিরিয়ে নিলেই হাঁটু আরও শক্ত হয়ে আসে, হাতেও ব্যথা ধরে
মৌসুম ধরে যেভাবে কষ্টটা এলো
বললাম, সমস্যাটা এক সপ্তাহে আসেনি। একটা মৌসুম জুড়ে ধীরে ধীরে এসেছে, আগে হাঁটুতে, তারপর কোমরে, শেষে হাতে। তিনি জানতে চাইলেন কোন কোন গাঁটে ব্যথা, কোনটা কখন যোগ দিল, আর বিশ্রামের পর জড়তা কেমন আচরণ করে। ক্লান্তির কথাও শুনলেন, অনেক আগের অসুখের কথাও। কথা বলার সময় আমার আগের রিপোর্টগুলো তাঁর পাশেই খোলা ছিল। হাঁটুতে হাত দেওয়ার আগে তিনি পুরো বর্ণনাটা শুনে নিলেন।
পরীক্ষা যেমন হলো, কথাও তেমন সোজা
হাঁটু দুটো তিনি ধীরে ভাঁজ করে আবার সোজা করলেন, নিচু টুল থেকে আমাকে উঠে দাঁড়াতে বললেন। তাঁর আঙুল শক্ত করে ধরে আমার মুঠোর জোর যাচাই করলেন। বললেন, কোনো মত দেওয়ার আগে রক্তের পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি চাইতে পারেন। বোঝালেন, এমন গাঁটের সমস্যা সাধারণত লম্বা সময় ধরে সামলাতে হয়, মাঝে মাঝে দেখা করে। বড় কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দিলেন না।
পাশের জমির মানুষটার দরকার ছিল সার্জন
পাশের জমির চাষি গাড়ির দুর্ঘটনায় একটা গাঁটে আঘাত পেলেন, তাঁর ঘটনা আমার চেয়ে আলাদা। তাঁর ডাক্তার বললেন, ওই গাঁট সার্জনকে দিয়ে দেখাতে হবে। কোথায় নিয়ে যাবে ঠিক করতে তাঁর ছেলেরা দিনাজপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে নাম মিলিয়েছিল। এখানকার ডাক্তারও একই কথা বললেন। আমার কোনো গাঁটে সার্জন লাগলে তিনি আগেভাগেই বলবেন, সেদিকে পাঠিয়েও দেবেন।
নিজের ডাক্তারের ওষুধ আগের নিয়মেই চলবে
গত শীতে নিজের ডাক্তারের দেওয়া কয়েকটা ওষুধ আমি খাচ্ছি। জিজ্ঞেস করলাম, এই নতুন সমস্যায় সেগুলো বদলাবে কি না। বদলাবে না, অন্তত আমার হাতে না। প্রতিটা ওষুধ যেভাবে দেওয়া হয়েছে, একইভাবে, একই সময়ে খেয়ে যাব। কোনো সকালে হাঁটু একটু ছাড়া মনে হলেই ডোজ বাদ দেওয়ার সংকেত তা না। বদল দরকার হলে সেটা করবেন যিনি ওষুধ দিয়েছেন, আমার পুরো ইতিহাস জেনে।
আসছে মাসগুলো থেকে আমার প্রত্যাশা
তিনি বললেন, ফলোআপে দেখা গেলেই বোঝা যাবে জড়তা পিছু হটছে, নাকি জায়গা ধরে রেখেছে। প্রতিবার তিনি আগেরবারের সঙ্গে মেলাবেন আমার হাঁটা, মুঠোর জোর আর বিশ্রামের অবস্থা। পরিকল্পনা বদলাতে পারে, কিন্তু প্রমাণের ভিত্তিতেই। ধীর গতিতে আমার আপত্তি নেই। যেটা আমার কাজে লাগবে না, তা হলো নিশ্চয়তার ভান করা আন্দাজ, আর তিনি সেরকম কিছু দেননি।
আবহাওয়ার খবর শোনা মানুষের প্রশ্ন
জিরিয়ে নিলে হাঁটু ভালো না হয়ে আরও খারাপ হয় কেন?
তিনি বললেন, বিশ্রামের সময় জড়তা বেড়ে যাওয়া একটা পরিচিত ধরন, যেদিকে তিনি নজর দেন। সেজন্যই তিনি ঠিক করে জানতে চান, কখন আপনার গাঁট নাড়াতে সবচেয়ে কষ্ট হয়।
আমাকে কি মাঠের কাজ ছেড়ে দিতে হবে?
তিনি তা বলেননি। আসছে দেখাগুলোতে গাঁট কেমন সাড়া দেয়, তিনি আগে তা দেখতে চান। কাজ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত প্রমাণের পরে আসে, আগে না।
হাতে গাঁট অনুভব করতে পারলে রক্তের পরীক্ষা আর কী যোগ করে?
তাঁর হাত বলে দেয় আজ গাঁট কেমন নড়ছে। পরীক্ষাগুলো বুঝতে সাহায্য করে ভেতরে এই ধরনটা কীসে চলছে, আপনার ইতিহাস আর ছবির পাশাপাশি।
ধরতে গেলেই হাতে সবচেয়ে বেশি ব্যথা করে। সেটাও কি নজরে থাকবে?
হ্যাঁ। হাঁটা আর বসা থেকে ওঠার পাশাপাশি মুঠোর জোরও তিনি প্রতিবার যাচাই করবেন।
ছবি দেখে যদি মনে হয় সার্জনের দেখা উচিত, তখন?
তখন তিনি পরিষ্কার বলে দেবেন, পাঠিয়েও দেবেন। তিনি বললেন, এই সীমানা লুকিয়ে রাখা বিশেষজ্ঞ কারো উপকার করেন না, রোগীর তো নয়ই।
গাঁটের কোন হঠাৎ সমস্যায় আজই আমার হাসপাতালে যাওয়া দরকার?
কোনো গাঁট গরম হয়ে ফুলে উঠে প্রচণ্ড ব্যথা করলে আজই দেখাতে হবে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর আসাটাও তিনি বসে না থাকার আরেকটা লক্ষণ বললেন। আর কোনো গাঁট হঠাৎ আটকে গিয়ে একদম নাড়ানো না গেলে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছে যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.