সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - কুমিল্লা

সকালে হাত খুলতেই অনেকক্ষণ লেগে যায়, হাঁটুও সায় দেয় না

আমি সারাজীবন প্রাইমারি স্কুলে পড়িয়েছি। দুই বছর হলো অবসর নিয়েছি, ভেবেছিলাম দিনগুলো ধীরে ধীরে আরামে কাটবে। কিন্তু এখন আমার হাত আর হাঁটুই আমাকে ধীর করে দিয়েছে। নিজের ডাক্তার সব কথা শুনে বললেন, গাঁটের এমন সমস্যা একজন রিউমাটোলজিস্টকে দেখানো দরকার। এই ডাক্তারদের কাজই হলো বারবার ফিরে আসা গাঁটের ব্যথা আর জড়তা নিয়ে।

ঘুম থেকে উঠলেই জড়তাটা সবচেয়ে বেশি টের পাই। আঙুলগুলো যেন আটকে থাকে, শার্টের বোতাম লাগাতেও কষ্ট হয়। বেলা বাড়লে কিছুটা ছাড়ে, কিন্তু পুরোপুরি যায় না। মসজিদে যাওয়ার ছোট পথটুকুতেও হাঁটুতে ব্যথা লাগে। সিঁড়িতে উঠি এক ধাপ এক ধাপ করে। আগে আমি জোরে হাঁটতাম, এখন সবাই আমাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়।

এমন সমস্যা নিয়েই যে আলাদা ডাক্তার আছেন, তা আমার জানা ছিল না। বিশ্বস্ত মানুষদের কাছে খোঁজ নিলাম, আর কুমিল্লায় জেনারেল সার্জনদের তালিকা DoctorBD24-তে দেখে বুঝলাম এসব পেজে তথ্য কীভাবে সাজানো থাকে। সেই খোঁজ থেকে শিখলাম কী কী জিজ্ঞেস করতে হয়। এখন চাই এমন একজন ডাক্তার, যিনি পুরো ইতিহাস শুনে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন।

1 available specialists found

Dr. Shadab Saud Sunny

Qualifications MBBS, BCS (Health), MD (Rheumatology), ECRD (Switzerland), MACR (USA) European League Certified In Musculoskeletal Ultrasound
অবস্থান ফেনী সদর, ফেনী

সকালে হাত খুলতেই অনেকক্ষণ লেগে যায়, হাঁটুও সায় দেয় না

আমার সকালের কথাটাই আগে বললাম

তিনি চাইলেন আমি নিজের মতো করে সব বলি। তাই সকাল দিয়েই শুরু করলাম, কারণ আমার দিনটা সেখানেই ঠিক হয়ে যায়। বললাম ঘুম ভাঙার পর আঙুল ছাড়তে কতক্ষণ লাগে। কোন কোন গাঁটে বেশি কষ্ট হয়, আর হাঁটুর সমস্যা হাতের পরে এসেছে, সেটাও বললাম। তিনি ক্লান্তির কথা জানতে চাইলেন, আগের অসুখের কথাও শুনলেন। আমার আগের রিপোর্টগুলো তাঁর টেবিলেই ছিল, পরীক্ষা করার আগে সেগুলো তিনি পড়ে নিলেন।

পরীক্ষাটা হলো ধীরে, মন দিয়ে

আঙুলের প্রতিটা গাঁট তিনি আলতো করে টিপে নাড়িয়ে দেখলেন, হাঁটুতেও একইভাবে দেখলেন। দাঁড়ানো, বসা আর ঘরের ভেতর কয়েক পা হাঁটা তিনি খেয়াল করলেন। বললেন, একটা জায়গার ব্যথার চেয়ে অনেকগুলো গাঁটের ধরনটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটাও বললেন, নিশ্চিত করে কিছু বলার আগে রক্তের পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি লাগতে পারে। তাঁর এই অপেক্ষা আমার ভালো লেগেছে।

ঢাকায় থাকা ছেলের একটা কথা

আমার ছেলে ঢাকায় থাকে, দূর থেকে সে দুশ্চিন্তা করে। সে বলল, এই বিশেষ কাজটা আসলে কী, অন্য রোগীরা কী খোঁজে, তা বুঝতে সে ঢাকার রিউমাটোলজিস্টদের তালিকা দেখেছে। তাতে ফোনে কথা বলার সময় সে আমাকে ভালো প্রশ্ন করতে পারে। আমি আমার খোঁজ এখানেই চালাই, আর সে থাকে আমার দ্বিতীয় কান।

আগে থেকে চলা ওষুধ নিয়ে কথা

নিজের ডাক্তারের দেওয়া কয়েকটা ওষুধ আমি নিয়মিত খাই। জিজ্ঞেস করলাম, এখন সেগুলোতে কিছু বদলানো লাগবে কি না। উত্তরটা ছিল সোজা। ওষুধগুলো যেভাবে দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই খেয়ে যেতে হবে। কোনো সকালে একটু ভালো লাগলেই নিজে থেকে কোনোটা বন্ধ করা যাবে না। বদল দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি ওষুধটা দিয়েছেন। অন্য কেউ না, বাড়িতে বসে আমার আন্দাজ তো একেবারেই না।

অগ্রগতি বুঝব ছোট ছোট কাজে

তিনি বোঝালেন, আমার মতো সমস্যা সাধারণত লম্বা সময় ধরে সামলাতে হয়, এক সপ্তাহে মিটে যায় না। ফলোআপে এসে তিনি দেখেন জড়তা কেমন আচরণ করছে, দরকার হলে পরিকল্পনা বদলান। ভালো হওয়ার গতি যে ধীর হতে পারে, সে কথা তিনি লুকাননি। এটাও পরিষ্কার বললেন, কোনো কোনো গাঁটের সমস্যা সার্জনের কাছে যাওয়ার বিষয়। আমারটা সেদিকে গেলে তিনি নিজেই বলবেন, পাঠিয়েও দেবেন। আমার মাপকাঠি সহজ। কষ্ট ছাড়া শার্টের বোতাম লাগানো। আগের গতিতে মসজিদ পর্যন্ত হাঁটা।

বের হওয়ার আগে যা যা জিজ্ঞেস করলাম

দিনের শুরুতেই জড়তাটা এত বেশি লাগে কেন?

তিনি বললেন, সকালের এই ধরনটা তাঁর কাছে একটা ইঙ্গিত। সেজন্যই তিনি জানতে চান, ঘুম ভাঙার পর আঙুল ছাড়তে আপনার কতক্ষণ লাগে।

রক্তের পরীক্ষা আর ছবিতেই কি সব একবারে পরিষ্কার হবে?

একবারে না, তিনি বললেন। এগুলো ছবির একেকটা অংশ জোগায়। আপনার ইতিহাস আর পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

এটা কি শুধু বয়সের ব্যাপার, চিকিৎসার কিছু নেই?

তাঁর কথা, শুধু বয়স দিয়ে এমন ছড়িয়ে পড়া ধরন ব্যাখ্যা করা যায় না, যা প্রতিদিন সকালে এতক্ষণ থাকে। তাই অবহেলা না করে ঠিকমতো দেখতে চান তিনি।

আমার কোনো গাঁটে অপারেশন দরকার হলে কী হবে?

তাহলে তিনি সরাসরি বলে দেবেন। কোন গাঁটের সমস্যা সার্জনের বিষয়, তা বোঝা তাঁর কাজেরই অংশ। রোগীকে আটকে না রেখে তিনি সেদিকেই পাঠান।

পরিবর্তন ধীর হলে ফলোআপে গিয়ে লাভ কী?

ধীর পরিবর্তনও নজরে রাখা দরকার। প্রতিবার তিনি আগেরবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন গাঁট কেমন নড়ছে, কেমন লাগছে। কারণ পেলেই কেবল পরিকল্পনা বদলায়।

গাঁটে হঠাৎ কোন বদল দেখলে আজই হাসপাতালে যেতে হবে?

কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠে খুব ব্যথা করলে সেদিনই যান। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলেও তা জরুরি ধরে নিন। আর কোনো গাঁট হঠাৎ একদম নাড়ানো না গেলে বাড়িতে বসে থাকবেন না। আজই হাসপাতালে পৌঁছান।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.