সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - চট্টগ্রাম
রেঞ্চ ধরলেই কব্জি জমে যায়, কাজ পড়ে থাকে
আমার বয়স তেত্রিশ, ছোট একটা ওয়ার্কশপে রিকশা সারাই করি। সকালে স্প্যানার ধরতে গেলেই কব্জিতে টান পড়ে। দুপুরের দিকে কনুইও ব্যথা করতে থাকে। একটু বসে বিশ্রাম নিলেই গাঁটগুলো আবার জমে ওঠে। সন্ধ্যা নামতে নামতে শরীরে অদ্ভুত এক ক্লান্তি ভর করে। আমার নিজের ডাক্তার সব শুনে বললেন, গাঁটের এমন সমস্যা যিনি নিয়মিত দেখেন, তাঁকে দেখানো দরকার।
চাকার নাট টাইট দেওয়া সহজ কাজ মনে হয়। কিন্তু মাঝপথে হাত ধীর হয়ে গেলে থামতে হয়। যন্ত্রপাতি হাত থেকে পড়ে যায় মাঝে মাঝে। শক্ত বোল্ট ঘোরাতে গেলে ব্যথা হাত বেয়ে ওঠে। কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকে, আমি হাত ঝাঁকিয়ে আবার শুরু করি। কোনো দিন কাজ শেষ হয় দেরিতে। কোনো দিন শেষের ঘূর্ণিটা ছোট সহকারীকে দিতে হয়।
রিউমাটোলজিস্ট শব্দটা আগে শুনলেও নিজের হাতের সঙ্গে মেলাইনি। ডাক্তার বোঝালেন, ফিরে ফিরে আসা গাঁটের ব্যথা আর জড়তা নিয়েই তাঁদের কাজ। বিশ্রামের পর জমে যাওয়া আর সন্ধ্যার ক্লান্তি, দুটোই সেই বর্ণনায় পড়ে। একদিন ওয়ার্কশপ ফাঁকা থাকতে ফোনে খোঁজ শুরু করলাম। জমে যাওয়া গাঁটের চিকিৎসা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া চট্টগ্রামের তালিকা খুলে এই ধরনের কাজ করেন এমন নামগুলো আলাদা করে রাখলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
রেঞ্চ ধরলেই কব্জি জমে যায়, কাজ পড়ে থাকে
প্রথমে পুরো সপ্তাহের গল্পটাই শুনলেন
কোন কোন গাঁটে ব্যথা, কবে থেকে শুরু, সব জানতে চাইলেন। বিশ্রামের পর জড়তা কেমন থাকে, সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। ক্লান্তির কথা আর আগের অসুখের কথাও বাদ গেল না। তারপর আগের রিপোর্টগুলো পড়ে নিলেন ধীরে ধীরে। তখনও কোনো সিদ্ধান্তের কথা ওঠেনি।
আঙুলের চাপে হাতের পরীক্ষা
প্রতিটা কব্জির চারপাশে হালকা চাপ দিয়ে দেখলেন কোথায় বেশি লাগে। কনুই ধীরে ভাঁজ করে কতটা খোলে, খেয়াল করলেন। এক পাশের সঙ্গে আরেক পাশ মিলিয়ে দেখলেন। শেষে তাঁর আঙুল শক্ত করে ধরতে বললেন। পুরো পরীক্ষাটা চলল ধীর গতিতে।
রক্তের পরীক্ষা আর গাঁটের ছবির কথা
তিনি বললেন, রক্তের পরীক্ষা থেকে কিছু সূত্র মিলতে পারে। গাঁটের ছবিও দরকার হতে পারে বলে জানালেন। একবারের দেখায় সব উত্তর মেলে না, সেটা আগেই বলে দিলেন। এই ধরনের সমস্যা সাধারণত সময় নিয়ে সামলাতে হয়। আমি ফিরে ফিরে যাব, বদলগুলো জানাব, তিনি ধাপে ধাপে ঠিক করবেন।
আমার চলতি ওষুধে হাত দেওয়া হবে না
একটা বিষয় তিনি প্রথম দিকেই পরিষ্কার করলেন। আমি যেসব ওষুধ খাই, সেগুলো লেখা মাত্রা আর সময় মেনেই চলবে। ভালো একটা সপ্তাহ গেলেই নিজে থেকে বন্ধ করার সুযোগ নেই। বদলের দরকার মনে হলে প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া ডাক্তারের কাছেই আগে যেতে হবে। ততদিন প্রেসক্রিপশন যেমন আছে, তেমনই চলবে।
চাচার হাঁটুটা অন্য হাতের কাজ
আমার চাচা পুরনো সড়ক দুর্ঘটনার পর হাঁটু সোজা করতে পারেন না। তাঁর সমস্যার ধরন আমারটার মতো নয়। ডাক্তার বললেন, ওই হাঁটু একজন সার্জনকে সামনে থেকে দেখতে হবে। চাচাকে খুঁজে দিতে গিয়ে আমি চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখেছিলাম। সেদিন বুঝলাম, এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে শেষ, আরেকটা সেখান থেকে শুরু।
বেরোনোর আগে যা যা জিজ্ঞেস করেছিলাম
আমার নিজের ডাক্তার নিজে না দেখে পাঠালেন কেন?
তিনি বললেন, একদিনের ব্যথা নয়, পুরো ধারাটাই আসল। বিশ্রামের পর ফিরে আসা ব্যথা, জড়তা আর ক্লান্তি মিলিয়ে দেখতে হয়। এই ধারাটা নিয়েই বিশেষজ্ঞের সারাদিনের কাজ। তাই এই পাঠানোটা তাঁর কাছে যুক্তিযুক্ত ছিল।
কব্জি আর কনুই পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি কী করেন?
প্রতিটা গাঁট ধীরে নাড়িয়ে দেখেন ব্যথাটা কোথায় বসে। চারপাশে চাপ দিয়ে দুই পাশ মিলিয়ে নেন। ধরতে বা সোজা করতে বলতে পারেন তাঁর হাতের বিপরীতে। মিনিট কয়েক লাগে, তাড়াহুড়ো নয়।
এক দফা পরীক্ষায় কি পুরো উত্তর মিলে যাবে?
সম্ভবত না, তিনি নিজেই সেটা বলে দিলেন। রক্তের পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি গল্প আর পরীক্ষার পাশে প্রমাণ জোগায়। কিছু উত্তর পরের দেখাগুলোতেই ধীরে ধীরে আসে। আগে থেকে অনুমান করার বদলে তিনি ধীরে গড়তে চান।
ওয়ার্কশপ ছেড়ে বারবার যাওয়া আমার পক্ষে কঠিন। উপায় কী?
তিনি দেখাগুলোর মধ্যে এমন ফাঁক রাখার কথা বললেন, যাতে অগ্রগতি সত্যিই বোঝা যায়। মাঝের সময়ে কোন কাজ সহজ হলো, কোনটা কঠিন, আমি মনে রাখি। প্রতিটা দেখায় সেই হিসাবের সঙ্গে তাঁর পরীক্ষা মেলান তিনি। সেখান থেকেই পরিকল্পনায় ছোট ছোট বদল আসে।
একদিন কি আমাকেও সার্জনের কাছেই পাঠাতে পারেন?
হ্যাঁ, যদি কোনো গাঁট তাঁর চিকিৎসায় সারার বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। সেই সিদ্ধান্ত পরীক্ষা আর ছবি, দুটো মিলিয়ে আসবে। অন্যের কাছে পাঠানো মানে ব্যর্থতা নয়। মানে সমস্যাটা অন্য হাতের কাজ।
রাতে হঠাৎ কোনো গাঁট গরম হয়ে ফুলে গেলে কী করব?
সেই সকালে বসে দেখার সুযোগ নেই। গরম, ফোলা আর খুব ব্যথা করা গাঁটের জন্য সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলে সেটাও একই গুরুত্ব পায়। হঠাৎ একদম নাড়ানো যাচ্ছে না, এমন গাঁটও তাই। দেরি না করে সেদিনই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.