সেরা বাত ও জোড়া বিশেষজ্ঞ - বগুড়া

সকালে উঠলেই আঙুল ফুলে থাকে, বোর্ডে লিখতে কষ্ট হয়

আমার বয়স আটত্রিশ, বগুড়ায় একটা স্কুলে পড়াই। কয়েক মাস ধরে সকালের দিকে হাত ফুলে যায় আর ব্যথা করে। বোর্ডে লেখা কিংবা কলম ধরে রাখা এখন বেশ কষ্টের। নিজের ডাক্তার সব শুনে হাত পরীক্ষা করে বললেন, গাঁটের এই ধরনটা একজন জয়েন্ট বিশেষজ্ঞের দেখা উচিত। আগে ভাবতাম কাজের চাপেই বুঝি এমন হচ্ছে।

ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ঘণ্টায় জড়তা সবচেয়ে বেশি থাকে। বোতাম লাগানো, কল ছাড়া, টিফিন বাক্স খোলা, সবই তখন ঝামেলার। বিকেলের দিকে হাত কিছুটা সহজ হলেও ক্লান্তি থেকেই যায়। হালকা ক্লাসের দিনেও শরীরটা অবসন্ন লাগে। মাঝে মাঝে হাতের আঙুল বাঁকাতেও সময় লাগে অনেকটা। স্কুলে পৌঁছে প্রথম পিরিয়ডের আগেই হাত দুটো ভারী লেগে আসে।

গাঁটের ব্যথা নিয়েই আলাদা একজন ডাক্তার আছেন, তা আগে জানতাম না। ডাক্তার বুঝিয়ে দিলেন, বারবার ফিরে আসা গাঁটের ব্যথা আর সকালের জড়তা রিউমাটোলজিস্টের কাজের মধ্যে পড়ে। খোঁজের শুরুতে বগুড়ার ডাক্তারদের তালিকা দেখে প্রোফাইলগুলো পড়ে নিলাম। তারপর একজনকে বেছে দেখা করার সময় নিলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সকালে উঠলেই আঙুল ফুলে থাকে, বোর্ডে লিখতে কষ্ট হয়

আগে তিনি আমার সকালগুলোর খবর নিলেন

রিউমাটোলজিস্ট জানতে চাইলেন কোন কোন গাঁটে কষ্ট হয় আর শুরুটা কবে থেকে। সকালের জড়তা, ফোলা ভাব আর সারাক্ষণের ক্লান্তি নিয়ে কথা হলো বিস্তারিত। আগের অসুখের কথা জিজ্ঞেস করে পুরনো রিপোর্টগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। তারপর ব্যথা করা গাঁটগুলো একটা একটা করে পরীক্ষা করলেন। ধীরে এগিয়েছেন, প্রতিটা ধাপ বুঝিয়েও দিয়েছেন।

তিনি বললেন, এ ধরনের সমস্যা সাধারণত সময় নিয়ে সামলাতে হয়, একবারের দেখায় মিটে যায় না। উত্তরটা আমার আশা মতো ছিল না। তবু তাড়াহুড়োর আশ্বাসের চেয়ে এটাই ভালো লেগেছে।

রক্ত পরীক্ষা আর ছবির কথা সহজ করে বললেন

তিনি জানালেন, কিছু রক্ত পরীক্ষা আর গাঁটের ছবি ধরনটা বুঝতে সাহায্য করবে। তাড়াহুড়ো করে বা ব্যাখ্যা ছাড়া কিছুই করতে দেননি। ফলাফল দেখেই পরের পরামর্শ ঠিক হবে, তিনি এমনটাই বললেন। পরের দেখাগুলোতে গাঁট কেমন সাড়া দিচ্ছে দেখে তিনি ব্যবস্থা বদলাবেন। পুরো সময়টায় আমার নিজের ডাক্তারও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকছেন।

চাচার হাঁটুর জন্য দরকার পড়েছিল সার্জনের চোখ

গত বছর পড়ে গিয়ে চাচার হাঁটুতে বড় চোট লেগেছিল। তাঁর সমস্যাটা ছিল আলাদা, কারণ গাঁটটাই আঘাত পেয়েছিল। পরিবারের সবাই বগুড়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে একজন সার্জনকে তাঁকে দেখালেন। রিউমাটোলজিস্ট নিজেই বললেন, আঘাত পাওয়া গাঁট সার্জনের কাছেই যাওয়া উচিত।

যেসব ওষুধ ইতিমধ্যে খাচ্ছি

আগে থেকে চলা ওষুধগুলো যেভাবে দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই চলছে। কোনো গাঁটে আরাম লাগলেই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। বদলের সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি ওষুধটি লিখে দিয়েছেন, তিনিই। কোনো ওষুধে অসুবিধা হলে দেখা করে সেটা জানানোই ঠিক হবে।

মাথায় যেসব প্রশ্ন ছিল

সকালের দিকটাই এত খারাপ লাগে কেন?

তিনি বললেন, বিশ্রামের পর জড়তা তাঁর কাজে প্রায়ই দেখা একটা ধরন। প্রতিদিন সকালে জড়তা কতক্ষণ থাকে, সেটা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এখন স্কুলে যাওয়ার আগে আমি সেই সময়টা খেয়াল করি।

একবারের দেখায় কি সমস্যাটা ধরা পড়ে যাবে?

সম্ভবত না, আর তিনি সেটা খোলাখুলি বলেছেন। পরীক্ষার ফল আর ধরনটা দেখার সময় দুটোই তাঁর দরকার। সিদ্ধান্ত আসবে ধাপে ধাপে, পরের দেখাগুলো জুড়ে।

পূর্ণ দিনের ক্লাস কি চালিয়ে যেতে পারব?

আপাতত পারব, লেখা আর মুঠো ধরার কাজে তাঁর দেওয়া ছোট কিছু বদল মেনে। কোন কাজে ব্যথা বেড়ে যায়, সেটা খেয়াল রাখতে বলেছেন। পরের বার সেই তালিকা নিয়ে আমরা একসঙ্গে বসব।

শুধু একটা গাঁটেই বারবার কষ্ট হলে কী হবে?

তিনি সেই গাঁট আবার পরীক্ষা করে ছবিগুলো দেখে নেবেন। সার্জনের দেখা দরকার মনে হলে তিনি সোজা বলে দেবেন। অন্যের ভাগের কেস তিনি নিজের কাছে আটকে রাখবেন না।

হাত দুটোকে কি পুরোপুরি বিশ্রামে রাখব?

না, পুরোপুরি বিশ্রামের পরামর্শ তিনি দেননি। দিনের মধ্যে হালকা ব্যবহারে গাঁট নড়াচড়ার মধ্যে থাকে। তবে শক্ত মুঠোর কাজ আর একটানা লম্বা লেখা ভাগ করে নিতে বলেছেন।

গাঁটের হঠাৎ কোন অবস্থায় সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে?

কোনো গাঁট হঠাৎ গরম হয়ে ফুলে উঠে প্রচণ্ড ব্যথা করলে। গাঁটের ব্যথার সঙ্গে জ্বর এলেও সতর্ক হতে হবে। হঠাৎ কোনো গাঁট একদম নাড়ানো না গেলেও তাই। এসবের কোনোটা নিয়েই বাড়িতে বসে থাকা চলবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.