সেরা রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ - দিনাজপুর
মাঠের কাজে ফিরতে চাই, অথচ কলসি তুললেই হাত কাঁপে
আমার বয়স ছেষট্টি, সারাজীবন এই জমিতেই চাষ করে এসেছি। এ বছর লম্বা এক অসুখে কয়েক সপ্তাহ বিছানায় পড়ে ছিলাম। অসুখ সারল বটে, কিন্তু শরীরটা যেন আমার নিজের রইল না। আমার চিকিৎসক বললেন, রোগটা গেছে, গায়ের জোরটা ফেরেনি। ধাপে ধাপে সেই জোর ফেরাতে তিনি আমাকে একজন রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠালেন।
চাষির জীবনে দুর্বলতা লুকিয়ে রাখার উপায় নেই। উঠানে হাঁটতে গেলেই কয়েক পা পর পা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। টিউবওয়েলের পাশে কলসিটা রাখা থাকে, সেটা তুলে আনতে গেলে দুইবার থামতে হয়। কোনো যন্ত্র বেশিক্ষণ ধরে রাখলে হাত দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এখন ভারী কাজগুলো ছেলেরা করে, আমি ক্ষেতের ধারে দাঁড়িয়ে দেখি। এই দাঁড়িয়ে দেখাটাই আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে। ছোট থেকে শুরু হলেও নিজের ভাগের কাজটা আবার করতে চাই।
এলাকার ক্লিনিকে জিজ্ঞেস করলাম, বিছানায় পড়ে থাকার পর জোর ফেরানোর কাজে কে সাহায্য করেন। তারা বললেন, রিহ্যাবিলিটেশন ডাক্তার আগে দেখেন রোগী দৈনন্দিন কোন কাজগুলো এখনো পারেন। তারপর সেই কাজগুলো ঘিরেই অনুশীলনের পরিকল্পনা করেন। কথাটা আমার মতো বুড়ো চাষির মাথায় ঢুকল ভালোভাবেই। এক সন্ধ্যায় ছোট ছেলে আমাকে দিনাজপুরের ডাক্তারদের তালিকা DoctorBD24-তে খুঁজতে সাহায্য করল। সেখানে একজনকে পেয়ে যাওয়ার দিন ঠিক করলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
মাঠের কাজে ফিরতে চাই, অথচ কলসি তুললেই হাত কাঁপে
তিনি আগে জানতে চাইলেন, আমার সকালটা ক্ষেতে কেমন কাটে
তিনি ব্যায়াম দিয়ে শুরুই করলেন না। শুরু করলেন আমার দিনটা দিয়ে। অসুখে কীভাবে বিছানায় পড়ে ছিলাম, পুরো কথা শুনলেন। আগের রিপোর্টগুলো মন দিয়ে দেখলেন। তারপর আমাকে দাঁড়াতে বললেন, অল্প হাঁটালেন। একটা খালি বালতি তুলতে দিয়ে দেখলেন কোথায় পা ছেড়ে দেয়। এই দেখাটাই তার পরিকল্পনার ভিত্তি।
উঠানের কাজ ভেঙে ভেঙে ছোট অনুশীলন
তার পরিকল্পনায় আমার পুরনো কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হলো। প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকার অনুশীলন, তারপর মাঝে বিশ্রাম নিয়ে অল্প হাঁটা। পা আর হাতের জন্য ধাপে ধাপে ব্যায়াম এলো, প্রতিটা ঘরে ধীরে দেখিয়ে দিলেন। শুরুতে কলসি পরিকল্পনার বাইরেই থাকল। খালি বালতিই ছিল আমার প্রথম ভার, সেটাও কম কাজ নয়। তিনি বললেন, শরীর তৈরি হলে কলসির পালা পরে আসবে।
অসুখের ওষুধে এই পরিকল্পনা হাত দেয় না
অসুখের পর আমার নিজের ডাক্তার যে ওষুধগুলো ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেগুলো এখনো চলছে। এই অনুশীলন শুরুর পর একটা ওষুধও বদলায়নি। ব্যায়ামের কাজ শুধু জোর আর স্থিরতা ফেরানো। আমার রিহ্যাবিলিটেশন ডাক্তার বলেছেন, অনুশীলন আর ওষুধ পাশাপাশি চলে। ওষুধে বদল লাগলে আমার নিজের ডাক্তারই করবেন।
আমার প্রতিবেশীর দরকার ছিল অপারেশনের মত, অনুশীলন নয়
আমার এক প্রতিবেশীর কুঁচকির কাছে ফোলা ছিল, ভার তুলতে গেলে কষ্ট পেতেন। তিনি জানতে চাইলেন, আমার ডাক্তার তাকেও সাহায্য করতে পারবেন কিনা। আমার ডাক্তার তার কথা শুনে বললেন, এখানে সার্জনের মত দরকার। জোর ফেরানোর অনুশীলন দিয়ে এটা হবে না। তিনি তাকে দেরি না করে পাঠিয়ে দিলেন। প্রতিবেশী দিনাজপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা DoctorBD24 থেকে একজনকে বেছে আলাদা করে দেখালেন। নিজের সীমা জানেন বলেই এই ডাক্তারের ওপর আমার ভরসা বাড়ল।
এই বয়সে এগোনো বলতে আমি যা বুঝি
তিনি আগেই বললেন, ছেষট্টি বছর বয়সে জোর ফেরে নিজের গতিতে। কোনো তরুণ শ্রমিকের সঙ্গে নিজেকে মেলানো যাবে না। আমার কাছে এগোনো মানে সাদামাটা কিছু ঘটনা। গত সপ্তাহে প্রথমবার লাঠি ছাড়া উঠানটা পার হলাম। গতকাল খালি বালতিটা থামা ছাড়াই দুইবার আনা নেওয়া করলাম। এগুলোই আমার ক্ষেতের ফিরে আসা।
তিনি কি কথা দিয়েছেন, আমি আবার পুরোদমে ক্ষেতের কাজ করতে পারব?
না, এমন কোনো কথা তিনি দেননি। তিনি বলেছেন, ধাপে ধাপে যতটা পারা যায় গড়ে তুলব। কতদূর যাওয়া যাবে, সময়ের সঙ্গে শরীরই তা দেখিয়ে দেবে।
পরেরবার গেলে তিনি কী দেখেন?
তিনি আবার আমার হাঁটা আর ভার তোলা দেখেন। বাড়িতে কোনটা কঠিন লেগেছে, তাও জানতে চান। তারপর অনুশীলন একটু বাড়ান, নয়তো একই রাখেন। তাকে না দেখিয়ে কিছু বদলায় না।
বাড়িতে অনুশীলনের সময় ছেলেরা কি পাশে থাকতে পারে?
হ্যাঁ, তিনি বরং উৎসাহ দিয়েছেন। দাঁড়ানো আর হাঁটার অনুশীলনে এক ছেলে কাছাকাছি থাকে। তাদের কাজ পাশে থেকে নিরাপত্তা দেওয়া। ব্যায়ামগুলো চলবে ঠিক যেভাবে তিনি শিখিয়ে দিয়েছেন।
অনুশীলনের মাঝে মাথা ঘুরলে কী করব?
সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ে বিশ্রাম নিতে হবে, এটা তার পরিষ্কার নির্দেশ। মাথা ঘোরা বারবার হলে পরের অনুশীলনের আগেই তাকে জানাতে হবে। তার মতে, এটা নিয়ে জোর খাটানো সাহস নয়।
কলসি বাদ দিয়ে খালি বালতি দিয়ে শুরু কেন?
কারণ ভারটা হতে হবে আজকের জোর অনুযায়ী, মনে থাকা পুরনো জোর অনুযায়ী নয়। হালকা ভার ঠিকমতো তোলা ভারী ভারের ভুল তোলার চেয়ে বেশি কাজ দেয়। ওজন বাড়বে শুধু তিনি বললে।
বাড়িতে হঠাৎ কোন সমস্যা হলে সেদিনই হাসপাতালে ছুটব কেন?
শরীরের একপাশে আচমকা জোর চলে গেলে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। প্রস্রাব বা পায়খানা আটকে রাখতে না পারাও তেমনই একটা লক্ষণ। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারলেও তাই। জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড অস্বস্তি থাকলেও সেদিনই যেতে হবে। পরের নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করা এসব ক্ষেত্রে ঠিক হবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.