সেরা রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ - বাগেরহাট

অনেক দিন বিছানায় থেকে পা দুটো দুর্বল, ঘেরের পথ এখন অনেক দূর মনে হয়

আমার বয়স আটান্ন, চিংড়ি চাষ করেই জীবিকা চলে। এই মৌসুমের শুরুতে লম্বা অসুখে কয়েক সপ্তাহ বিছানায় পড়ে ছিলাম। জ্বর আর দুর্বলতা ধীরে ধীরে কেটেছে, কিন্তু পা দুটো আগের মতো হয়নি। প্রথম যেদিন দাঁড়াতে গেলাম, হাঁটু কাঁপতে লাগল। নিজের উঠান পেরোনোটাই তখন অন্য কারো কাজ মনে হচ্ছিল।

অসুখের আগে প্রতিদিন ভোরে ঘেরে হেঁটে যেতাম। পানি দেখতাম, খাবার ছড়াতাম, কাদায় দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতাম। এখন দরজা পর্যন্ত যেতেও কারো হাত ধরতে হয়। বসা থেকে উঠতে পরিবারের সাহায্য লাগে, দেয়াল ধরে কয়েক পা হাঁটি। আবার বসে পড়লে মনে হয় সারাদিনের কাজ শেষ করে এলাম।

আমার চিকিৎসা করা ডাক্তার বললেন, এখন শুধু বিশ্রামে হবে না, ধাপে ধাপে শক্তি ফেরাতে হবে। তিনি একজন রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে বললেন, যিনি দৈনন্দিন চলাফেরা ফিরিয়ে আনার কাজ করেন। এই নামটা আগে শুনিনি। শুরুতে DoctorBD24-তে বাগেরহাটের ডাক্তারদের তালিকা ঘেঁটে বুঝতে চাইলাম, এই ডাক্তার আসলে কী ধরনের কাজ করেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

অনেক দিন বিছানায় থেকে পা দুটো দুর্বল, ঘেরের পথ এখন অনেক দূর মনে হয়

প্রথমে তিনি দেখলেন নিজের ঘরেই আমি কীভাবে চলি

প্রথম দেখায় রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ অসুখটা কীভাবে এগিয়েছে তা শুনলেন। আগের রিপোর্টগুলো তিনি ধীরে ধীরে পড়লেন। তারপর আমাকে দাঁড়াতে, কয়েক পা হাঁটতে, পায়ের দিকে ঝুঁকতে বললেন। কোন দৈনন্দিন কাজ এখনো পারি আর কোনটা হাতছাড়া হয়েছে, তিনি খেয়াল করে রাখলেন।

তাড়াতাড়ি সেরে যাওয়ার বড় কথা তিনি বলেননি। কয়েক সপ্তাহ নিথর পড়ে থাকলে পায়ের শক্তি চুপিচুপি কমে যায়। সেই শক্তি ফেরানো ধীর কাজ। কোনো সপ্তাহে হয়তো একটু বেশিক্ষণ দাঁড়ানো যাবে। অন্য সপ্তাহে দেয়াল না ধরে কয়েক পা বেশি হাঁটা যাবে।

ঘের আর উঠান ঘিরেই সাজানো আমার কর্মসূচি

তিনি পায়ের জন্য ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়ামের কর্মসূচি সাজিয়ে দিলেন। কিছু অংশ ক্লিনিকে তাঁর চোখের সামনে হয়। বাকিটা বাড়িতে অনুশীলন, দিনে কয়েকবার ছোট ভাগে। দাঁড়ানোর অনুশীলন, পা ফেলার অনুশীলন, পেশি জাগানোর সহজ নড়াচড়া।

প্রতিবার ফলোআপে তিনি দেখেন কী বদলাল, সেই অনুযায়ী কর্মসূচি বদলে দেন। কঠিন লাগা ব্যায়াম এবার বেশিবার করতে হতে পারে। পা তৈরি নয় এমন কিছু তিনি পিছিয়ে দেন। আমার চিকিৎসা করা ডাক্তারের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখেন।

ওষুধ আর ব্যায়াম আলাদা আলাদা জায়গায় থাকে

অসুখের পর আমার চিকিৎসা করা ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়ে রেখেছেন, সেগুলো এখনো খাই। ব্যায়ামের কর্মসূচি তার কোনোটাকেই সরিয়ে দেয় না। দেখিয়ে দেওয়া অনুশীলন শক্তি বাড়ায়, ওষুধের কাজ সে করে না। কোনো ওষুধ বদলাতে হলে বদলাবেন সেই ডাক্তারই, এই ব্যবস্থায় অন্য কারো হাতে তা নেই।

আমার প্রতিবেশীর বেলায় দরকার ছিল অপারেশন

পাশের ঘেরের প্রতিবেশীর কুঁচকিতে একটা ফোলা ছিল, ভারী কিছু তুললেই কষ্ট হতো। তার ডাক্তার তাকে ব্যায়ামের পথে নয়, অপারেশনের পথে পাঠালেন। এক সন্ধ্যায় দুজনে মিলে বাগেরহাটের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখেছিলাম, এই কাজ কারা করেন জানতে। তার পথ আর আমার পথ আলাদা, দুজনেরই দরকার ছিল নিজের ধরনের ডাক্তার।

শুরুর আগে যেসব কথা জেনে নিলাম

আটান্ন বছর বয়সে শক্তি ফেরানো কি সম্ভব?

তিনি বললেন, বয়স গতি কমায়, দরজা বন্ধ করে না। তাঁর অনেক কাজই আমার বয়সীদের নিয়ে। আসল কথা নিয়মিত অনুশীলন আর শরীরের অবস্থা সৎভাবে জানানো। বাদ দেওয়াটাই বেশি পিছিয়ে দেয়।

কত ঘন ঘন আমাকে যেতে হবে?

প্রথম কয়েক সপ্তাহে পা কেমন সাড়া দেয় তার ওপর এটা নির্ভর করে। শুরুতে দেখা ঘন ঘন হতে পারে, যাতে তিনি ভঙ্গিটা নিজে দেখতে পারেন। পরে বাড়ির অনুশীলনের ভার বাড়ে। প্রথম কয়েকবারের দেখাতেই তিনি ছন্দটা বুঝিয়ে দেবেন।

আমার ছেলে কি ব্যায়াম শিখে বাড়িতে সাহায্য করতে পারবে?

পারবে, আর তাতে সুবিধাই হয়। পরিবারের কেউ নড়াচড়া দেখে রাখলে ক্রম আর ভঙ্গি মনে করিয়ে দিতে পারে। আমার ছেলে সঙ্গে যাওয়ায় তিনি খুশি হয়েছিলেন। বাড়িতে আরেক জোড়া চোখ থাকলে অনুশীলন ঠিকঠাক হয়।

দাঁড়ানোর অনুশীলনে পায়ে ব্যথা হলে কী করব?

পেশি আবার জেগে উঠলে অনুশীলনের পর ক্লান্ত ধরনের ব্যথা স্বাভাবিক হতে পারে। ধারালো ব্যথা অন্য সংকেত, তা সঙ্গে সঙ্গে বলতে হবে। ভুল কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে কর্মসূচি হালকা করা তাঁর কাছে ভালো। কোথায় ব্যথা আর কখন শুরু, ঠিকঠাক বলুন।

এখন যেকোনো সমস্যা হলেই কি তিনি দেখবেন?

না। তাঁর কাজ চলাফেরা আর দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। অন্য ধরনের যত্ন দরকার হলে তিনি সরাসরি বলবেন। কোন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তাও দেখিয়ে দেবেন। এই স্পষ্ট কথার জন্যই পরিবার পরিকল্পনাটায় ভরসা রাখে।

কোন হঠাৎ বদল দেখলে অনুশীলন রেখে আজই হাসপাতালে যেতে হবে?

শরীরের এক পাশ নতুন করে দুর্বল হয়ে গেলে সেদিনই হাসপাতালে যান। প্রস্রাব বা পায়খানা আটকে রাখতে না পারলেও একই কথা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়ানো না গেলেও তাই। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা হলেও যেতে হবে। অনুশীলন পরে শুরু করা যাবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.