সেরা রেডিওলজিস্ট - রাজশাহী

স্টেশনের উঠানে পিছলে পড়ার পর সকালের হাঁটা থেমে আছে

আমার বয়স ঊনপঞ্চাশ, গত বছর রেলের অফিস থেকে অবসর নিয়েছি। চাকরির সময় থেকেই সকালে হাঁটার অভ্যাসটা রয়ে গেছে। এক ভেজা সকালে পুরোনো এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে উঠানের দিকে গিয়েছিলাম। রাতের বৃষ্টিতে জায়গাটা ছিল পিচ্ছিল। পা হড়কে আমি একপাশে পড়ে যাই। ব্যথাটা নিতম্বের গভীরে গিয়ে বসে। বাড়ি ফিরতে সেদিন দ্বিগুণ সময় লেগেছিল।

আমার নিজের ডাক্তার আমাকে পরীক্ষা করে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটা মন দিয়ে শুনলেন। তিনি বললেন, পরের সিদ্ধান্তের আগে নিতম্বের ভেতরের ছবি দেখা দরকার। ছবি তোলা শেষ। এখন শুধু লিখিত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পালা। প্রতিদিন সকালে বাইরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে ভাবি, আবার কবে ওখানে হাঁটতে পারব। বেশিক্ষণ বসে থাকলেও ব্যথা করে। দাঁড়িয়ে থাকলেও একই অবস্থা। না জেনে অপেক্ষা করাটাই সবচেয়ে কঠিন লাগছে।

বাড়িতে বসে আমি জানতে চাইছিলাম, এমন ছবি খুঁটিয়ে দেখার কাজটা আসলে কার। এক প্রতিবেশী বললেন, এই কাজ রেডিওলজিস্টের, তিনি ছবি পড়ে রিপোর্ট তৈরি করেন। কোথা থেকে খোঁজ শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি শুরু করি DoctorBD24-তে রাজশাহীর ডাক্তারদের তালিকা দিয়ে, যাতে বুঝতে পারি কারা এই ধরনের কাজ করেন। সেখান থেকে এই ডাক্তারদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হলো।

1 available specialists found

Dr. Md. Ishaque Ali

Qualifications MBBS, MPHIL (Radiotherapy)
অবস্থান রাজশাহী সিটি, রাজশাহী

স্টেশনের উঠানে পিছলে পড়ার পর সকালের হাঁটা থেমে আছে

অবসরের দিনে হাঁটাটাই ছিল বড় সঙ্গ

অবসরের পর সকালের হাঁটাটা আমার কাছে ছোট ব্যাপার ছিল না। ওই সময়েই পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হতো, শরীরটাও সচল থাকত। পড়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশীরা জিজ্ঞেস করেন, রাস্তায় আর দেখা যায় না কেন। আমি সত্যি কথাটাই বলি। নিতম্বে ব্যথা রয়ে গেছে, আর রিপোর্ট না দেখে আমার ডাক্তার পরের পরামর্শ দিতে চান না। হাঁটাটা যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি মিস করছি।

ছবি পড়ার কাজটা যেভাবে হয়

আগে ভাবতাম ছবি তোলা হলেই রিপোর্ট নিজে নিজে তৈরি হয়ে যায়। এখন বুঝি, একজন ডাক্তার প্রতিটি ছবি ধীরে ধীরে মন দিয়ে দেখেন। আগের ছবি বা রিপোর্ট থাকলে নতুনগুলোর পাশে মিলিয়ে দেখা যায়। তাতে আগের অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থা বোঝা সহজ হয়। তাঁর লেখা রিপোর্ট যায় আমার নিজের ডাক্তারের কাছে, যিনি আমার পুরো ইতিহাস জানেন। কাজের এই ভাগটা আমার কাছে যুক্তিসংগত লাগে।

আমার ওষুধের তালিকায় কেউ হাত দেননি

পড়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই আমি নিয়মিত কিছু ওষুধ খাই, যা আমার ডাক্তার ঠিক করে দিয়েছেন। সেই তালিকা অন্য কেউ বদলাননি, ছবি পড়ার কাজেও তা বদলায় না। আমি প্রতিটি ওষুধ তাঁর সাজিয়ে দেওয়া নিয়মেই খেয়ে যাচ্ছি। কোনো ওষুধে সমস্যা হলে সরাসরি তাঁকেই বলব। নিজে নিজে কিছু বদলে ফেলার ঝুঁকি আমি নেব না।

চাচার জন্য দরকার হলো অন্য ধরনের ডাক্তার

আমি যখন অপেক্ষায়, তখন আমার চাচার পেটের একটা সমস্যা কিছুতেই সারছিল না। তাঁর ডাক্তার বললেন, অপারেশন লাগতে পারে, তাই একজন সার্জনকে দেখানো উচিত। পরিবারের সবাই মিলে রাজশাহীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখলাম সেই আলাদা সমস্যার জন্য। তাঁর অবস্থা আমাকে মনে করিয়ে দিল, প্রতিটি সমস্যার নিজস্ব ডাক্তার আছে। আমার প্রয়োজন ছবি পড়ায়। তাঁর প্রয়োজন অপারেশনের সিদ্ধান্তে।

মাথায় ঘুরতে থাকা প্রশ্নগুলো

যিনি আমার ছবি পড়বেন, তাঁর সঙ্গে কি দেখা হবে?

হতে পারে তাঁর সঙ্গে বসে কথা বলাই হবে না। তাঁর মূল কাজ ছবিগুলো নিয়ে, চেম্বারের ঘরের বাইরে। আপনার কাছে পৌঁছায় তাঁর লেখা রিপোর্ট, আপনার নিজের ডাক্তারের মাধ্যমে। এই ধরনের কাজে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

ছবি অস্পষ্ট এলে আবার তোলা লাগবে?

তিনি আন্দাজে কিছু না লিখে আরও ছবি চাইতে পারেন। অপেক্ষার মধ্যে আবার ছবি তোলা বিরক্তিকর লাগতে পারে। তবু তাড়াহুড়োর পড়ার চেয়ে যত্নের পড়া অনেক ভালো। আপনার ডাক্তার বুঝিয়ে বলবেন এর মানে কী।

রিপোর্টই কি ঠিক করে দেবে আমার নিতম্বের পরের ধাপ?

না, রিপোর্ট আপনার ডাক্তারকে পথ দেখায়, তাঁর জায়গা নেয় না। তিনি রিপোর্টের সঙ্গে নিজের পরীক্ষা আর আপনার ইতিহাস মিলিয়ে দেখেন। পরের সিদ্ধান্ত আপনাদের দুজনের আলোচনাতেই হয়। আমার ডাক্তার আমাকে এভাবেই বুঝিয়েছেন।

রিপোর্ট আসার আগেই কি সকালের হাঁটা আবার শুরু করব?

মন চাইলেও আমি তা করিনি। পরামর্শ ছাড়া ব্যথা নিতম্ব নিয়ে হাঁটলে ক্ষতি বাড়তে পারে। রিপোর্ট তাঁর হাতে এলে আমি তাঁর কাছেই জানতে চাইব। ততদিন বাড়ির ভেতরে হালকা চলাফেরাই আমার সীমা।

ছবি পড়া ডাক্তার কি আমার নিয়মিত ওষুধ বদলে দিতে পারেন?

না, এটা তাঁর কাজের মধ্যেই পড়ে না। আপনার ওষুধ থাকে যিনি দিয়েছেন, সেই ডাক্তারের অধীনেই। ছবির রিপোর্টে ওষুধ বদলের কোনো কথা থাকে না। ওষুধ নিয়ে চিন্তা থাকলে নিজের ডাক্তারকেই জানান।

আজ রাতে ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠলে রিপোর্টের জন্য বসে থাকব, নাকি হাসপাতালে যাব?

বাড়িতে বসে না থেকে সেদিনই হাসপাতালে যান। হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে তখনই চিকিৎসা দরকার। শ্বাস নিতে কষ্ট, রক্তপাত বা শরীরে হঠাৎ দুর্বলতা নামলেও সেদিনই যেতে হবে। রিপোর্ট অপেক্ষা করতে পারে। আপনি পারেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.