সেরা রেডিওলজিস্ট - পাবনা

টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়ে গোড়ালি মচকে গেছে, সন্ধ্যায় ফুলে ওঠে

আমার বয়স পঞ্চান্ন, পাবনায় সংসারটা আমিই চালাই, মানে সারা দিনের ছোটাছুটি আমার পায়ের ওপর। প্রতিদিন সকালে গলির শেষের টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে যাই। গত মঙ্গলবার পাশের মাটি ছিল কাদা, ভরা বালতি তুলতেই স্যান্ডেল পিছলে গেল। বাঁ গোড়ালিটা মুচড়ে গেল শরীরের নিচে। বালতি উল্টে কাদায় বসে রইলাম কিছুক্ষণ, ব্যথার চেয়ে লজ্জাই বেশি লেগেছিল তখন।

সন্ধ্যার মধ্যে গোড়ালি ফুলে বালিশের মতো হয়ে গেল। এখনো তাই হয়, সকালে মোটামুটি ঠিক, সন্ধ্যা নামলেই ফোলা আর টানটান। আমার ডাক্তার দুইবার দেখেছেন, দাঁড়িয়ে ভর দিতে বলেছেন। তিনি বললেন, সিদ্ধান্তের আগে গোড়ালির ভেতরের ছবি দেখতে চান। ছবি তোলা হয়ে গেছে। এখন সংসার চলছে আমার বসে থাকাকে ঘিরে, আর রিপোর্টটা তাঁর হাতে পৌঁছানোর অপেক্ষা আমার কাছে শেষ হচ্ছে না।

এক প্রতিবেশী জিজ্ঞেস করলেন, এমন ছবি কে পড়েন, সেদিন আমার কাছে উত্তর ছিল না। পরে ছেলে বুঝিয়ে বলল, রেডিওলজিস্ট ছবিগুলো দেখে চিকিৎসা করা ডাক্তারের জন্য রিপোর্ট লেখেন। আমি শুরুতে DoctorBD24-তে পাবনার ডাক্তারদের তালিকা দেখলাম, এই পড়ার কাজটা কারা করেন তা জানতে। এই ধারাবাহিকতাটা বুঝতে পেরে অপেক্ষার মধ্যে মনটা একটু শান্ত হলো।

1 available specialists found

Dr. Md. Zahir Uddin Khan

Qualifications MBBS, PGT (Medicine), CCD (BIRDEM), DMU (Ultrasonography)
অবস্থান পাবনা সদর, পাবনা

টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়ে গোড়ালি মচকে গেছে, সন্ধ্যায় ফুলে ওঠে

সকাল আমাকে ভুল বোঝায়, সন্ধ্যাই সত্যি বলে

ঘুম থেকে উঠলে গোড়ালিটা প্রায় স্বাভাবিকই দেখায়। মনে হয়, আজ বুঝি ঠিক হয়ে গেছে। তারপর দিনের কাজ এসে চাপে ওর ওপর, উঠান জুড়ে বারবার আসা-যাওয়ার ভিড়ে। সন্ধ্যার রান্না শুরু হতে হতে স্যান্ডেলের ফিতা গভীর দাগ কেটে বসে। দিন শেষ করি টুলে পা তুলে বসে, অন্যরা সেই ছোটাছুটি করছে যা সাধারণত আমিই করি।

ডাক্তার ভেতরের ছবি দেখতে চাইলেন কেন

ফোলাটা তিনি চোখে দেখেছেন, চাপ দিলে কোথায় ব্যথা তাও বুঝেছেন। কিন্তু গাঁটের ভেতরটা তিনি দেখতে পাননি, সেটা নিজেই পরিষ্কার করে বললেন। আন্দাজ ভুল হলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভুল ধরনের বিশ্রাম বা কাজ চলতে পারে। তাই তিনি ছবি তোলাতে পাঠালেন, আর লিখিত রিপোর্ট না পেয়ে এই পা কীভাবে ব্যবহার করব তা তিনি বলবেন না।

যাঁর সঙ্গে হয়তো কোনো দিন দেখাই হবে না

কোথাও একজন রেডিওলজিস্ট আমার গোড়ালির ছবিগুলো নিয়ে বসবেন। ছবিতে যেসব দিক ধরা পড়েছে, ধীরে ধীরে প্রতিটা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এই গোড়ালির পুরোনো ছবি থাকলে নতুনগুলোর পাশে খুলে মিলিয়ে দেখা হবে তুলনার জন্য। তিনি যা দেখবেন তা রিপোর্ট হয়ে যাবে আমার ডাক্তারের কাছে, আমার একা বসে মাথা ঘামানোর জন্য নয়। তারপর ডাক্তার নিজের পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে সামনের পথটা আমাকে বুঝিয়ে বলবেন।

এই অপেক্ষায় আমার ওষুধের কিছুই বদলাবে না

অনেক দিন আগে আমার ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ আছে, আর তা ঘিরে নিয়মটা এই বাড়িতে ঘড়ির কাঁটার মতো চলে। রিপোর্ট লেখা চলাকালে সেই নিয়মে কোনো হাত পড়বে না। যিনি আমার গোড়ালির ছবি পড়ছেন তিনি ওই নিয়ম জানেন না, বদলানোর কথাও তাঁর নয়। কিছু বদলাতে হলে আমার নিজের ডাক্তার নিজেই বলবেন, কারণ নিয়মটা তিনিই ঠিক করে দিয়েছিলেন।

জায়ের বহুদিনের হাঁটুর সমস্যা

আমার ছবির কথা শুনে জা জিজ্ঞেস করলেন, একই পথে তাঁর হাঁটুর সমাধান হবে কিনা, যেটা বছরের পর বছর ভোগাচ্ছে। আমি বললাম, প্রতিটি সমস্যার ডাক্তার আলাদা হয়। যেখানে অপারেশনের কথা ওঠে, সেখানে নিজের ডাক্তারের পরামর্শের পর এদিকের পরিবারগুলো DoctorBD24-তে পাবনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে থাকেন। তাঁর হাঁটুর জন্য আগে দরকার তাঁর নিজের ডাক্তারের হাত আর বিচার, আমার আন্দাজ নয়।

বারবার মনে ফিরে আসা প্রশ্নগুলো

রাত পেরোলেই ফোলা কমে যায়, তাহলে ছবি কেন?

কারণ ওপরে শান্ত দেখালেও গাঁটের ভেতরে কিছু থেকে যেতে পারে যার যত্ন দরকার। পরিকল্পনা ঠিক করার আগে ডাক্তার ভেতরের অবস্থাটা দেখে নিতে চান।

আমার গোড়ালির ছবির রিপোর্ট লিখবেন কে?

রেডিওলজিস্ট লিখবেন। শরীরের ভেতরের ছবি দেখা আর তা পরিষ্কার লিখিত রিপোর্টে সাজানোই ওই ডাক্তারের পুরো পেশা।

আমাকে কি আবার ছবি তোলাতে পাঠানো হতে পারে?

হতে পারে। প্রথম ছবিতে কোনো কোণ বোঝা কঠিন থাকলে আরেক দফা ছবি তাঁকে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ দেয়।

রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত গোড়ালিকে বিশ্রামেই রাখব?

ডাক্তার দেখানোর সময় তিনি যা বলেছিলেন আমি তাই মানছি। সীমাটা তিনি এখনকার জন্য ঠিক করে দিয়েছেন, রিপোর্ট এলে পরে বদলাতেও পারেন।

ছবি যিনি পড়েন তিনি কি রোগীর ওষুধ কখনো বদলান?

আমার ক্ষেত্রে কখনোই নয়। আমার ওষুধের দায়িত্ব শুধু আমার নিজের ডাক্তারের, বদলের কথা একমাত্র তাঁর মুখ থেকেই আমি মানব।

হঠাৎ কোন বদল দেখলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে?

গোড়ালিতে সতর্কবার্তা ছাড়া তীব্র ব্যথা উঠলে, কিংবা রক্তপাত বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ঘরে বসে থাকা বোকামি হবে। শরীরের কোথাও হঠাৎ দুর্বলতা এলেও একই পথ, সোজা সেদিনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.