সেরা রেডিওলজিস্ট - নাটোর

ঘাটে পড়ে যাওয়ার পর হাঁটু নিয়ে উঠানের কাজ থেমে আছে

আমার বয়স ষাট, নাটোরে বাড়ির পাশের ছোট জমিটুকু আমিই দেখাশোনা করি। গত সপ্তাহে কলসি ভরে পানি আনতে পুকুরঘাটে নেমেছিলাম। সিঁড়ি ছিল ভেজা আর পিচ্ছিল। পা হড়কে গিয়ে কলসি গড়িয়ে পড়ল, আমি গিয়ে পড়লাম ডান হাঁটুর ওপর। পরদিন ব্যথা একটু কম মনে হলো বলে কাজে লেগে গেলাম। তিন দিনের মাথায় হাঁটু ভাঁজ করলেই টান আর ব্যথা দুটোই বাড়তে লাগল।

আমার নিজের ডাক্তার হাঁটুর চারপাশে চেপে দেখলেন, পড়লাম কীভাবে তা শুনলেন। তিনি বললেন, পরের সিদ্ধান্তের আগে হাঁটুর ভেতরের ছবি তোলা দরকার। ছবি তোলা হয়ে গেছে, এখন লিখিত রিপোর্টের অপেক্ষা। অপেক্ষাটাই সবচেয়ে কঠিন লাগছে। উঠান অগোছালো পড়ে আছে, সবজি বাগানে হাত পড়ছে না। মনে মনে শুধু ভাবি, এভাবে বসে থাকা আর কত দিন চলবে।

বাড়ি ফিরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম, এমন ছবি আসলে কে দেখে আর যা দেখেন তা কে লিখে দেন। সে বলল, এই কাজটা রেডিওলজিস্ট করেন, চিকিৎসা করা ডাক্তারের জন্য প্রতিটি ছবি মন দিয়ে দেখেন। সেদিন সন্ধ্যায় সে আমাকে DoctorBD24-তে নাটোরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে বুঝিয়ে দিল, কারা এই ছবি পড়ার কাজটা করেন। ছবি তোলা থেকে আমার ডাক্তারের হাতে উত্তর পৌঁছানো পর্যন্ত মাঝখানে কী হয়, সেটাই আমি জানতে চেয়েছিলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ঘাটে পড়ে যাওয়ার পর হাঁটু নিয়ে উঠানের কাজ থেমে আছে

হাঁটুটা আগের মতো ভাঁজ হয় না

পড়ে যাওয়ার আগে চুলার পাশে বসতে আমাকে ভাবতেই হতো না। এখন দেয়াল ধরে ধীরে ধীরে বসি। ওঠার সময়টা আরও কষ্টের। নাতি ভারী কাজগুলো নিজের ঘাড়ে নিয়েছে, যদিও ওর নিজের পড়াশোনা আছে। আমি একটু ঝাড়ু দিই, তারপর বসে পড়ি। দিনের কতটা কাজ হবে, সেটা এখন হাঁটুই ঠিক করে দেয়।

ছবি যিনি পড়েন, তিনি আসলে কী করেন

রেডিওলজিস্ট সারা দিন শরীরের ভেতরের তোলা ছবি দেখেই কাটান। আমার ছবি তোলা হয়েছে হাঁটুর, একাধিক দিক থেকে। তোলার কাজটা অল্প সময়ে শেষ হলেও তিনি ছবিগুলো দেখেন ধীরে, মন দিয়ে। একই হাঁটুর পুরোনো ছবি থাকলে পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখতেন। তারপর যা দেখলেন তা রিপোর্টে লিখে আমার নিজের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেন।

ওই রিপোর্ট পর্যন্তই তাঁর কাজ শেষ। এরপর যা হবে, তা আমার শুরু থেকে চিকিৎসা করা ডাক্তারের হাতে।

আমার ওষুধ আগের নিয়মেই চলবে

এই পড়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকে আমার ডাক্তারের দেওয়া দুটো ওষুধ আমি খাই। সেগুলো সকাল আর সন্ধ্যায় আগের নিয়মেই চলছে। ছবি পড়েন যিনি, ওষুধের ব্যাপারে তাঁর কোনো হাত নেই। কোনো ওষুধ বদলাতে হলে সেই কথা আসবে আমার নিজের ডাক্তারের কাছ থেকে, যিনি প্রথমে ওষুধটা আমাকে দিয়েছিলেন। ওই নিয়ম বদলানোর অধিকার আর কারও নেই।

চাচাতো ভাইয়ের কাঁধের কথা উঠল যখন

আমার অপেক্ষার কথা শুনে চাচাতো ভাই ফোনে তাঁর নিজের সমস্যার কথা তুললেন। বাজারে বস্তা তুলতে গিয়ে মাসের পর মাস তাঁর কাঁধে ব্যথা। আমি বললাম, শরীরের সব সমস্যার ঠিকানা ছবি পড়া ডাক্তার নন। কিছু সমস্যায় অপারেশন লাগে, আর নিজের ডাক্তার সেদিকে ইশারা করলে আমাদের দিকের পরিবারগুলো DoctorBD24-তে নাটোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে থাকেন। কোন পথটা তাঁর কাঁধের জন্য ঠিক, সেটা তাঁর ডাক্তারই বলে দেবেন।

মনে মনে ঘুরছিল যেসব প্রশ্ন

শুধু পড়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেই ডাক্তার সিদ্ধান্ত দিলেন না কেন?

তিনি ফোলা আর ব্যথা হাতে অনুভব করেছেন ঠিকই। কিন্তু গাঁটের ভেতরে ছবিতে কী দেখা যায়, তা জানার পরই তিনি পরের ধাপ ঠিক করতে চান।

ছবি তোলা হয়ে গেলে সেগুলো দেখবেন কে?

রেডিওলজিস্ট দেখবেন। মন দিয়ে ছবি পড়া আর পরিষ্কার করে রিপোর্ট লেখাই তাঁর প্রতিদিনের পুরো কাজ।

তিনি কি আমার হাঁটুর আরও ছবি চাইতে পারেন?

হ্যাঁ, চাইতে পারেন। প্রথম ছবিতে কোনো অংশ বোঝা কঠিন হলে আন্দাজে কিছু না বলে আরেক দফা ছবি চাওয়াই সৎ পথ।

রিপোর্টেই কি আমার চিকিৎসা ঠিক হয়ে যাবে?

না। রিপোর্টে ছবিতে যা দেখা গেছে তা লেখা থাকে, আর আমার ডাক্তার নিজে আমাকে পরীক্ষা করে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। চিকিৎসার কথা তিনি আমার সঙ্গে বসেই বলবেন।

অপেক্ষার এই সময়ে নিয়মিত ওষুধ বন্ধ রাখব?

না। ডাক্তার যেভাবে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই খেয়ে যাচ্ছি। ওষুধ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা হলে সরাসরি তাঁকেই জানাব।

হাঁটু হঠাৎ খুব ফুলে গেলে বা একদম হাঁটতে না পারলে কী করব?

তখন রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে ঘরে বসে থাকব না। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, শ্বাস নিতে কষ্ট কিংবা কোনো অঙ্গ হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.