সেরা রেডিওলজিস্ট - কুষ্টিয়া

সাইকেল থেকে পড়ার পর নিতম্ব নিয়েই আটকে আছে পড়াশোনা

আমার বয়স ২৭ বছর, কুষ্টিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। তিন সপ্তাহ আগে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে গেটের কাছে একটা রিকশা বাঁচাতে গিয়ে সাইকেল থেকে পড়ে যাই। বাঁ দিকে জোরে আঘাত লেগেছিল। কালশিটে দাগ কদিনে মিলিয়ে গেল, কিন্তু নিতম্বের গভীরে ব্যথাটা থেকে গেল। লম্বা লেকচারে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠল, আর ক্লাসরুমের সিঁড়ি হাঁটার চেয়ে বেশি কাঁদায়। আমার ডাক্তার দাঁড়ানো আর হাঁটার ভঙ্গি দেখলেন, ঠিক কীভাবে পড়েছিলাম তা জেনে নিলেন। তারপর নিতম্বের ভেতরের ছবি তোলার জন্য পাঠালেন। তিনি বললেন, ছবি পড়া না হলে ক্লাস, সাইকেল বা বিশ্রাম নিয়ে তিনি কিছু বলবেন না।

ছবি তোলা হয়ে গেছে একবারের যাওয়াতেই। তারপরের অপেক্ষাটা মনে হচ্ছে অনেক লম্বা। আমার নিতম্ব থামলেও সেমিস্টার তো থামে না। অ্যাসাইনমেন্ট জমছে, নোটিশ বোর্ডে ক্লাস টেস্টের তারিখও উঠে গেছে। লেকচারের ফাঁকে বারবার ফোন দেখি, যেন খবরটা এখনই আসবে। সিনিয়র এক আপা বললেন, এই ছবি পড়েন একজন রেডিওলজিস্ট, যাঁর পুরো প্রশিক্ষণই ছবি বিচার আর রিপোর্ট লেখা নিয়ে। রিপোর্ট যাবে আমার ডাক্তারের কাছে, তারপর তিনি বলবেন আমার নিতম্বের কী করা দরকার। ধাপগুলো মাথায় ঢুকেছে। শুধু গতি সেমিস্টারের চেয়ে ধীর।

এই পড়ে যাওয়ার আগে সত্যি বলতে ভাবতাম, যেকোনো ডাক্তার ছবিতে একনজর তাকিয়েই উত্তর পেয়ে যান। আসলে ছবি পড়ার কাজটা কারা করেন তা জানতে অনলাইনে খুঁজতে গিয়ে পৌঁছালাম DoctorBD24-তে কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের পেজে। সেখানে নানা ধরনের ডাক্তারের তালিকা পড়ে বুঝলাম, চিকিৎসার কাজ কতটা ভাগে ভাগ করা। আমার ডাক্তার আমার চিকিৎসা করেন। আরেকজন, এই কাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, আমার ছবিগুলো ধরে ধরে পড়েন। দুটো কাজই গুরুত্বপূর্ণ, গুলিয়ে ফেললে কারো লাভ নেই।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সাইকেল থেকে পড়ার পর নিতম্ব নিয়েই আটকে আছে পড়াশোনা

চুপচাপ বসে থাকাটাই আসল ঝামেলা

ছবি তোলার পরের সময়টাই যে সবচেয়ে কঠিন, এটা কেউ আগে বলে দেয় না। লাইব্রেরিতে ব্যাগ ঠেস দিয়ে একপাশ হয়ে বসি, কয়েক মিনিট পরপর জায়গা বদলাই। বন্ধুরা আমার বই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে তুলে দেয়, ভাব দেখায় যেন কিছুই হয়নি। আমার ডাক্তার বলে দিয়েছেন, অপেক্ষার দিনগুলো নিজের আন্দাজ দিয়ে না ভরতে। তিনি বোঝালেন, যিনি ছবি পড়েন তিনি সেগুলো পরপর সাজিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন, রোগীর আগের ছবি থাকলে তার সঙ্গে মেলান। ছবির কোনো অংশ অস্পষ্ট থেকে গেলে ফাঁকটা ঘিরে না লিখে তিনি আরেক দফা ছবি চাইতে পারেন। রিপোর্ট শেষ পর্যন্ত আমার ডাক্তারের কাছে পৌঁছালে আমরা ভয়ের বদলে তথ্য ধরে পরিকল্পনা করব।

আমার রুমমেটের পথটা অন্য দিকে

আমার হোস্টেলের রুমমেট এসব শুনে সহানুভূতি দেখায়, কারণ তার নিজের ডাক্তার তাকে অন্য পথে যেতে বলেছেন। তার পেটে বারবার ব্যথা ফিরে আসে, না কমলে অপারেশনের কথা উঠেছে। গত সপ্তাহে সে জানতে চাইল, পরিবারগুলো সার্জন খোঁজে কীভাবে, তখন দুজনে ফোনে কুষ্টিয়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকা ঘেঁটে দেখলাম। ওর প্রশ্ন অপারেশন আর সেরে ওঠার সময় নিয়ে। আমার প্রশ্ন একটা রিপোর্ট আর নিতম্ব নিয়ে। এক ঘরে থেকেও দুজনের চিকিৎসার পথ যে কত আলাদা হতে পারে, তা বুঝছি এখন।

ছোট একটা ওষুধের নিয়ম, ছোঁয়াছুঁয়ির বাইরে

পড়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই আমার ডাক্তারের ঠিক করা একটা নিয়মিত ওষুধ আমি খাই, পড়ে গিয়ে সেই নিয়মে কিছুই বদলায়নি। যিনি আমার নিতম্বের ছবি পড়বেন, সেই নিয়মে তাঁর কোনো ভূমিকাই নেই। তিনি ওষুধ থামাবেন না, বদলাবেন না, পরিমাণও এদিক ওদিক করবেন না। ওষুধের সিদ্ধান্ত থাকে সেই ডাক্তারের হাতে যিনি তা দিয়েছিলেন, প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত। আমার কাজ শুধু যেভাবে বলা হয়েছে ঠিক সেভাবে খেয়ে যাওয়া।

লেকচারের ফাঁকে করা প্রশ্নগুলো

রেডিওলজিস্ট আমার নিতম্ব নিয়ে রিপোর্টে আসলে কী লিখবেন?

তিনি লিখবেন ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে, আমার চিকিৎসা করা ডাক্তারের জন্য তৈরি রিপোর্টে। ছবির বাইরে তিনি আন্দাজ করবেন না, যা দেখছেন তা কমিয়ে বা বাড়িয়েও লিখবেন না। তারপর আমার ডাক্তার সেই রিপোর্ট আমাকে সাধারণ কথায় বুঝিয়ে বলবেন।

রিপোর্ট দেখেই কি জানা যাবে আবার সাইকেল চালাতে পারব কিনা?

শুধু রিপোর্টে তা জানা যাবে না। রিপোর্টে থাকে ছবির কথা, তার বেশি কিছু নয়। সাইকেল, ক্লাস আর বিশ্রামের প্রশ্ন আমার ডাক্তারের, তিনি উত্তর দেবেন এক হাতে রিপোর্ট আর অন্য হাতে আমার সেমিস্টারের হিসাব নিয়ে।

আমার ছবির কোনো অংশ অস্পষ্ট থেকে গেলে কী হবে?

তাহলে সৎ উত্তর হলো আরেক দফা ছবি, যদি যিনি পড়ছেন তিনি তা চান। অস্পষ্ট ছবির ওপর পুরো সেমিস্টার সাজানোর চেয়ে আরও কয়েকটা দিন হারানো আমার কাছে ভালো। রিপোর্টের ছদ্মবেশে আন্দাজ কোনো ছাত্রের কাজে আসে না।

আমার ডাক্তার নিজে আমার সঙ্গে বসে ছবিগুলো পড়লেন না কেন?

কারণ ছবি ঠিকমতো পড়া নিজেই একটা পূর্ণাঙ্গ বিশেষজ্ঞের কাজ। রেডিওলজিস্ট প্রতিটা কর্মদিন কাটান আমার মতো ছবির ভেতরে। আমার ডাক্তার সেই প্রশিক্ষিত চোখের ওপর ভরসা করেন, আর নিজের সময়টা দেন আমার চিকিৎসায়।

রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ক্লাস বাদ দেব?

আমার ডাক্তার বলেছেন, নিতম্বটা আরামে রেখে জোর না দিলে ক্লাসে বসা চলবে। আতঙ্কের কথা নয়, তাঁর কথাই আমি মানছি। ব্যথার ধরন বদলে গেলে রিপোর্ট আসার আগেই তাঁকে জানাব।

কিছু একটা হঠাৎ খুব গড়বড় লাগলে রিপোর্টটাই কি আগে আসা উচিত?

কখনোই না। ব্যথা হঠাৎ তীব্র হলে, রক্তপাত হলে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে সেদিনই হাসপাতালের চিকিৎসা দরকার। কোনো অঙ্গ হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলেও তাই, রিপোর্ট থাকুক বা না থাকুক। শরীর চিৎকার করছে, এমন সময় এক টুকরো কাগজের অপেক্ষায় হোস্টেলের ঘরে বসে থাকা যায় না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.