সেরা রেডিওলজিস্ট - খুলনা

ঝুড়ি তুলতে তুলতে কোমরটা এখন রিপোর্টের মুখ চেয়ে আছে

আমার বয়স ৪৫ বছর, খুলনার বাইরে একটা চিংড়ির খামারে কাজ করি। সূর্য ওঠার আগেই দিন শুরু হয়, পুকুর থেকে ওজনঘর পর্যন্ত চিংড়ির ঝুড়ি তুলে নেওয়া আমার কাজ। ঝুড়ির পর ঝুড়ি, বছরের পর বছর। কোমরের নিচের দিকটা অনেক দিন ধরেই জানান দিচ্ছিল, প্রথমে আস্তে, পরে জোরে। বিশ্রাম নিলে দিন দুয়েক ভালো লাগত, তার বেশি না। আমার ডাক্তার কথা শুনলেন, কোমরে হাত বুলিয়ে দেখলেন, ঝুঁকতে আর সোজা হতে বলে দেখলেন। তারপর বললেন, সবকিছুর আগে কোমরের ভেতরের ছবি তুলতে হবে। ছবি পড়া না হলে কাজ বা চিকিৎসা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

ছবি তোলা শেষ, কিন্তু রিপোর্ট এখনো আসেনি। এই ফাঁকটুকুতেই আমার দুশ্চিন্তা থাকে। খামারের মালিক বারবার জানতে চাইছেন, পুরোদমে ঝুড়ি তোলার কাজে আমি কবে ফিরতে পারব। তাঁর প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নেই, আমার ডাক্তারের কাছেও নেই। এক সহকর্মী বলল, এই পড়ার কাজটা করেন এমন এক ডাক্তার, যিনি সারাদিন এছাড়া আর কিছু করেন না। তিনি ছবি দেখে সেই রিপোর্ট লিখবেন, যার ভরসায় আমার ডাক্তার এগোবেন। ভারী ঝুড়ি আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছে। তাড়াহুড়ো করে বোঝা তুললেই তা উল্টে পড়ে।

কোমরটা বিগড়ে যাওয়ার আগে এমন ডাক্তারের কথা আমি শুনিনি। জানার ইচ্ছায় চারপাশে জিজ্ঞেস করলাম, তারপর অনলাইনে খুঁজতে শুরু করলাম। প্রথমে গেলাম DoctorBD24-তে খুলনার ডাক্তারদের তালিকায়, কারা ছবি পড়ে রিপোর্ট লেখেন তা বুঝতে। যত পড়লাম, কাজের ভাগটা তত পরিষ্কার হলো। একজন ডাক্তার আমার দেখাশোনা করেন। আরেকজন নতুন চোখে আমার ছবিগুলো পড়েন। এখন আমার একমাত্র কাজ অপেক্ষা করা, রিপোর্টটা যিনি পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ঝুড়ি তুলতে তুলতে কোমরটা এখন রিপোর্টের মুখ চেয়ে আছে

হালকা কাজ, ভারী প্রশ্ন

আপাতত খামার আমাকে হালকা কাজে রেখেছে, বাছাই আর জাল মেরামতের কাজে। কোমরটা তাতে স্বস্তি পাচ্ছে, কিন্তু মন বারবার ওই রিপোর্টের দিকেই ফিরে যায়। আগের মতো ঝুড়ি তুলতে পারব তো আবার? এখনই কেউ তা বলতে পারছে না, আর আমার ডাক্তার সেই শূন্যতা আন্দাজ দিয়ে ভরতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, যিনি ছবি পড়বেন তিনি অংশ অংশ করে পুরোটা দেখবেন, জাল বোনার মতো ধৈর্য নিয়ে। আমার কোমরের আগের কোনো ছবি কোথাও থাকলে সেগুলো নতুন ছবির পাশে রাখা হবে মিলিয়ে দেখার জন্য। আর প্রথম ছবির কোনো অংশ অস্পষ্ট থাকলে আরও ছবি চাওয়া হতে পারে। তাড়াতাড়ি আন্দাজের চেয়ে ধীরে কিন্তু নিশ্চিত পড়াই আমার জন্য ভালো।

আমার সহকর্মীর ব্যাপারটা আরেক রকম

খামারের আরেকজন মানুষ, রহিম, তাঁর সমস্যাটা অন্য দিকে যাচ্ছে। তাঁর ডাক্তার পেটের ভেতরে একটা ফোলা পেয়েছেন, সেটা নিয়ে অপারেশনের কথা বলেছেন। এমন কাজ কোন সার্জনরা করেন তা জানতে রহিম আমাকে জিজ্ঞেস করল, কাজের পর এক সন্ধ্যায় দুজনে মিলে খুলনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখলাম। ওর পথ হয়তো অপারেশনের টেবিলের দিকে যাবে। আমার পথ আপাতত শুধু একটা রিপোর্ট আর একবার বসে কথা বলা পর্যন্ত। তারপর কোন দিকে যাব, রিপোর্ট পৌঁছালে আমার ডাক্তারই তা ঠিক করবেন।

আমার ওষুধ এক ডাক্তারের কথাতেই চলে

প্রতিদিন আমি যে ওষুধ খাই, তা আমার নিজের ডাক্তার ঠিক করে দিয়েছেন, সেই ব্যবস্থা এক চুলও নড়েনি। যিনি আমার কোমরের ছবি পড়বেন, আমার ওষুধের তালিকার সঙ্গে তাঁর কোনো দেখাই হবে না, আর এমনটাই থাকা উচিত। ওষুধ শুরু করা, বন্ধ করা বা মাত্রা এদিক ওদিক করা থাকবে শুধু তাঁর হাতে, যিনি তা দিয়েছেন, আর কারো হাতে নয়। ছবি পড়া ডাক্তারের কলম আমার জন্য রিপোর্ট লেখে, ওষুধের নির্দেশনা নয়। কোমর ভালো লাগুক বা খারাপ, খবরটা সবার আগে আমার নিজের ডাক্তারই পাবেন।

জোরে জোরে যেসব প্রশ্ন করেছিলাম

আমার ডাক্তার নিজে ছবিগুলো পড়ে নিলেন না কেন?

তিনি বললেন, চাইলে তিনি ছবির দিকে তাকাতে পারেন, কিন্তু সারাদিন ছবি পড়া একটা আলাদা দক্ষতা। রেডিওলজিস্ট বছরের পর বছর শিখে ছবি বিচার করে পরিষ্কার রিপোর্ট লেখেন। চট করে এক নজর দেখার ওপর না রেখে, সেই শেখা পড়ার ওপর ভর করেই আমার ডাক্তার চিকিৎসা সাজাতে চান।

রিপোর্টই কি ঠিক করে দেবে আমি আবার ঝুড়ি তুলতে পারব কি না?

একা রিপোর্ট নয়। রিপোর্টে থাকে ছবিতে যা দেখা গেল তার বর্ণনা। আমার ডাক্তার সেটা মেলাবেন আমার কোমরের অনুভূতি আর কাজের চাহিদার সঙ্গে। কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত আসবে পুরো কথোপকথন থেকে, একটা কাগজ থেকে নয়।

ছবি অস্পষ্ট উঠলে তখন কী হবে?

তখন যিনি পড়ছেন তিনি অস্পষ্ট অংশ নিয়ে লেখা না সাজিয়ে আরও ছবি চাইতে পারেন। জানি, অপেক্ষা আরও লম্বা হবে। কিন্তু আন্দাজের ওপর দাঁড়ানো রিপোর্ট আমার কোমর আর চাকরি দুটোকেই ঝুঁকিতে ফেলত।

রেডিওলজিস্ট কি ফলাফল নিয়ে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলবেন?

তাঁর লিখিত রিপোর্টই তাঁর কথা বলার মাধ্যম, সেটা যাবে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে। সেই ডাক্তার আমার পুরো ইতিহাস আর কাজের ধরন জানেন। তিনি আমার সঙ্গে বসে রিপোর্টটা সহজ কথায় বুঝিয়ে দেবেন।

অপেক্ষার সময়টায় কাজ একদম ছেড়ে দেব?

আমার ডাক্তার বলেছেন, রিপোর্ট পড়া না হওয়া পর্যন্ত হালকা কাজ চলবে, ভারী তোলা নয়। আমি সেই সীমা মেনে চলছি। কাজের ধরনে বদল এলে তা আসবে রিপোর্ট সামনে পাওয়ার পরেই।

কোনো রাতে কোমরের ব্যথাটা হঠাৎ বেড়ে গেলে কী করব?

সেই রাতের জন্য রিপোর্টের কথা ভুলে যেতে হবে। ব্যথা হঠাৎ তীব্র হলে, রক্তপাত হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, কিংবা হাতে পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা নেমে এলে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। কাগজ সব ঠিক করে দেবে ভেবে বাড়িতে শুয়ে থাকা চলবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.