সেরা রেডিওলজিস্ট - জামালপুর
কনুইয়ের রিপোর্ট না এলে রিকশা চালানো থেমে আছে
আমার বয়স চৌত্রিশ বছর, জামালপুরে অটোরিকশা চালিয়ে আমার সংসার চলে। দুই সপ্তাহ আগে রাস্তার পাশে পিছলে পড়ে ডান কনুইতে জোরে আঘাত পাই। কালশিটে দাগ মিলিয়ে গেলেও হাত ভাঁজ করলে এখনো টান লাগে আর ব্যথা করে। যিনি আমাকে পরীক্ষা করেছেন তিনি পরের ধাপ ঠিক করার আগে ছবি দেখতে চাইলেন। তাই আমার কনুইয়ের ভেতরের ছবি তোলা হয়েছে, এখন অপেক্ষা চলছে।
হাত থেমে থাকলে রোজগারও থেমে যায়, অপেক্ষাটা তাই আরও ভারী লাগে। রাস্তায় না নামা প্রতিটা দিন মানে ঘরের খরচ নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা। মনে মনে হাতল ঘুরিয়ে দেখি, চালাতে গেলে কতটা লাগতে পারে। ডাক্তার কথা দিয়েছেন রিপোর্ট দেখার পর তার পরিকল্পনা আমাকে বুঝিয়ে বলবেন। আগেভাগে অনুমান করলে অপেক্ষা শুধু কঠিনই হবে, তা আমি বুঝি।
স্ট্যান্ডে আরেক চালক জানতে চাইলেন আমার ছবিগুলো আসলে কে পড়বেন। আমি ধরে নিয়েছিলাম যারা ছবি তুলেছেন তারাই সব উত্তর দিয়ে দেবেন। তিনি বললেন আলাদা একজন ডাক্তার সারাদিন এই ধরনের ছবি নিয়েই কাজ করেন। কথাটা শুনে অবাক হয়ে আমি জামালপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে এই খোঁজের ধরনটা বুঝতে শুরু করলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
কনুইয়ের রিপোর্ট না এলে রিকশা চালানো থেমে আছে
যে হাতে সংসার চলে সেই হাতের চিন্তা
রিকশা চালানোয় কনুইয়ের উপর চাপ পড়ে প্রতিটা মোড়ে আর প্রতিটা ঝাঁকুনিতে। পড়ে যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে ভারী কিছু তুলতেও এখন দুবার ভাবি। আমার চিকিৎসা করা ডাক্তার রিপোর্ট হাতে না পেয়ে আমাকে আগাম কিছু বলতে চাননি। তার কথা না শুনে তাড়াহুড়ো করে রাস্তায় নামলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তাই কষ্ট হলেও আমি তার নির্দেশের অপেক্ষাতেই আছি।
রিপোর্ট লেখা ডাক্তারের কাজটা যেভাবে বুঝলাম
রিপোর্টের পেছনের এই ডাক্তারের একটাই কাজ, আর সারাদিন তিনি সেটাই করেন। আমার কনুইয়ের তোলা ছবিগুলো তিনি ধৈর্য ধরে ভালো করে দেখেন। আগের ছবি বা আগের কোনো রিপোর্ট থাকলে নতুনগুলোর সঙ্গে তা মিলিয়ে নেন। তার লেখা রিপোর্ট পৌঁছে যায় যিনি আমাকে সামনাসামনি পরীক্ষা করেছেন তার কাছে। কোনো ছবি যথেষ্ট পরিষ্কার না হলে অনুমানের বদলে তিনি আরও ছবি চাইতে পারেন। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত তার হাতে নয়, সে কথা তিনি নিজেও পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
অপেক্ষার দিনে ওষুধের নিয়ম বদলায়নি
আমি আগের ওষুধগুলো আগের সময় আর নিয়ম মেনেই খেয়ে যাচ্ছি। কনুইয়ের ছবি পড়া ডাক্তার সেই তালিকায় কিছু যোগ বা বাদ দেবেন না। বদল দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত আসবে তার কাছ থেকেই যার দেওয়া ওষুধে আমার চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। রিপোর্ট লেখা ডাক্তার আমার জন্য কিছু শুরুও করবেন না, বন্ধও করবেন না।
অপারেশনের কথা শুনে ঘাবড়ে যাওয়া এক প্রতিবেশী
আমাদের প্রতিবেশীর শরীরের পাশের দিকে এক সমস্যায় অপারেশন লাগতে পারে বলে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। আমাকে অনলাইনে খুঁজতে দেখে তিনি জানতে চাইলেন এমন খোঁজ পরিবার থেকে কীভাবে শুরু করা যায়। আমি তাকে জামালপুরের জেনারেল সার্জনের পেজ দেখিয়ে দিলাম যাতে ছেলেকে পাশে নিয়ে প্রোফাইলগুলো দেখতে পারেন। তার পথ আর আমার পথ এক নয়, তবু শুরুটা জানা থাকায় তার মনের ভার কিছুটা কমল।
কাউন্টারে জিজ্ঞেস করা কথাগুলো
আমার কনুইয়ের ছবি নিয়ে রিপোর্ট লেখা ডাক্তার কী করেন?
তিনি ছবিগুলো ভালো করে দেখে যা বোঝেন তা পরিষ্কার করে রিপোর্টে লেখেন। সেই রিপোর্ট তৈরি হয় আমার যত্ন নেওয়া ডাক্তারের জন্য।
তিনি কি নিজে আমার কনুইয়ের চিকিৎসা করবেন?
না, কনুইয়ের চিকিৎসা তার কাজের মধ্যে পড়ে না। আমার নিজের ডাক্তারই আমার যত্ন নেন আর চিকিৎসার প্রতিটা সিদ্ধান্ত নেন।
একবারের ছবিতে কাজ না হলে কী হয়?
তিনি তখন আরেকবার ছবি তোলার কথা বলতে পারেন। পরিষ্কার ছবি থাকলে আমার ডাক্তারের ভরসা করার মতো রিপোর্ট লেখা সহজ হয়।
অপেক্ষার মধ্যে আমার চলতি ওষুধ বন্ধ রাখব কি?
না, নিজের ডাক্তার যেভাবে দিয়েছেন সেভাবেই খেয়ে যান। ছবির সঙ্গে যুক্ত কেউ আমাকে কোনো বদলের কথা বলেননি।
আমার ডাক্তার কখন আমাকে পরের কথা বুঝিয়ে বলবেন?
লিখিত রিপোর্ট তার হাতে পৌঁছে তিনি পড়ে নিলেই তা হবে। তারপর কাজ, বিশ্রাম আর সেরে ওঠা নিয়ে তিনি আমাকে বোঝাবেন।
কোন লক্ষণ দেখা দিলে আজকেই হাসপাতালে ছুটতে হবে?
হঠাৎ তীব্র ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট, রক্তপাত কিংবা হঠাৎ দুর্বলতা মানেই সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। এমন লক্ষণ নিয়ে রিপোর্টের আশায় ঘরে বসে থাকবেন না কখনো।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.