সেরা রেডিওলজিস্ট - ফেনী

এতদিন পরেও ঘরের কাজে কব্জির ব্যথাটা ছাড়ে না

আমার বয়স সাতচল্লিশ, সারাদিনের সব কাজ আমার দুই হাতেই চলে। রান্না, কাপড় ধোয়া, উঠান ঝাড়ু দেওয়া, টিউবওয়েল থেকে পানি তোলা, কিছুই বাদ নেই। কয়েক সপ্তাহ আগে রান্নাঘরের কাছে ভেজা মেঝেতে পা পিছলে আমি ডান কব্জির ওপর পড়ে যাই। ফোলাটা কয়েক দিনে নেমে গেল। ভেতরের চিনচিনে ব্যথাটা রয়েই গেল।

আমার ডাক্তার জানতে চাইলেন, মুঠো করলে বা মোচড় দিলে ব্যথা কেমন লাগে। তিনি বললেন, পরের সিদ্ধান্তের আগে কব্জির ছবিগুলো ভালো করে পড়া দরকার। ছবি তোলা হয়ে গেছে, এখন আমি লেখা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। প্রতিদিন আটা মাখার সময় কব্জিটা নাড়িয়ে দেখি। ব্যথা এখনো জানান দেয়, আর এই অপেক্ষা মনকে অস্থির করে তোলে।

শুরুতে জানতামই না, এসব ছবি মন দিয়ে দেখা কার কাজ। পাশের বাড়ির একজন বললেন, রেডিওলজিস্ট ছবিগুলো খুঁটিয়ে দেখে চিকিৎসা করা ডাক্তারের জন্য রিপোর্ট লেখেন। সেখান থেকেই আমার খোঁজ শুরু, ফেনীর ডাক্তারদের তালিকা ঘেঁটে শুধু বোঝার চেষ্টা করলাম এই পড়ার কাজটা কারা করেন। তাড়াহুড়োর আন্দাজ আমার দরকার নেই। ধীরে, যত্ন নিয়ে পড়াটাই আমার কাছে বড় কথা।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

এতদিন পরেও ঘরের কাজে কব্জির ব্যথাটা ছাড়ে না

একটা কব্জি থেমে গেলে থামে অনেকগুলো কাজ

ভেজা কাপড় নিংড়াতে গেলেই ব্যথাটা জানান দেয় সবার আগে। রুটি বেলার সময় চাপ পড়লেই কব্জি মোচড় খায়। কেটলি তুলতে গেলে বাম হাতকে এগিয়ে আসতে হয় মাঝপথে। ছোট্ট একটা পিছলে পড়া, অথচ তার রেশ টানছে রোজকার প্রতিটা কাজে। সংসারের কাজে হাতের বিকল্প যে নেই, সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাই।

ছবির সামনে বসে যিনি লেখেন, তার কাজের ধরন

আমার ডাক্তার আমাকে সামনে বসিয়ে দেখেন, হাত নাড়িয়ে পরীক্ষা করেন। রেডিওলজিস্টের কাজ তার থেকে আলাদা ঘরে, আলাদা ভঙ্গিতে। তিনি ছবিগুলোর সামনে বসে একটা একটা করে খুঁটিয়ে দেখেন। আগের কোনো ছবি থাকলে পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে নেন। কোনো ছবি ঝাপসা হলে আন্দাজে কিছু না লিখে সেটা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন। তার লেখা রিপোর্টটাই ফিরে যায় আমার ডাক্তারের হাতে।

আগের ওষুধ চলছে আগের নিয়মেই

ছবি তোলার আগেই আমার ডাক্তার ব্যথার দিনগুলোর জন্য ওষুধ দিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলো চলছে ঠিক তার দেওয়া নিয়ম ধরেই, বাড়তিও নয়, কমতিও নয়। ছবি পড়া ডাক্তার সেই ওষুধে হাত দেন না, বদলানোর কথাও বলেন না। বদল লাগলে সেটা জানাবেন আমার নিজের ডাক্তার, যিনি শুরু থেকে আমার অবস্থাটা দেখছেন। এই ভাগাভাগিটা আমার কাছে পরিষ্কার থাকাই ভালো।

চাচাতো ভাইয়ের সমস্যাটা ছিল আরেক রকম

গত শীতে আমার চাচাতো ভাইয়ের পেটে একটা ফোলা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিল। তার ডাক্তার অপারেশনের কথা তুলেছিলেন, ওটা আমার পথ থেকে একদম আলাদা পথ। তখন পরিবারের সবাই মিলে ফেনীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখেছিলাম তার ডাক্তারের কথামতো। ওর ঘটনা দেখে বুঝলাম, সমস্যা অনুযায়ী ডাক্তারও আলাদা হয়। আমার অপেক্ষা এখন ছবি আর রিপোর্ট ঘিরেই।

মনে ঘুরতে থাকা প্রশ্নগুলো

আমার ডাক্তার যে রিপোর্টের কথা বারবার বলেন, সেটা লেখেন কে?

লেখেন একজন রেডিওলজিস্ট। তিনি আমার কব্জির ছবিগুলো যত্ন করে দেখে তার মতামত লিখে দেন। সেই লেখা পড়েই আমার ডাক্তার পরের সিদ্ধান্তের দিকে এগোন।

রিপোর্ট হাতে পেলেই কি আমার চিকিৎসা ঠিক হয়ে যাবে?

না, রিপোর্ট শুধু ছবিতে যা দেখা গেছে তা জানায়। চিকিৎসা ঠিক করার দায়িত্ব আমার নিজের ডাক্তারের, যিনি আমাকে সরাসরি পরীক্ষা করেছেন। দুজনের কাজ এখানে আলাদা আলাদা।

ছবি আবার তুলতে হতে পারে, এমনটা কি হয়?

হয়, কোনো ছবি ঝাপসা এলে বা দরকারি দিকটা বাদ পড়লে। শুনতে বিরক্ত লাগলেও এটা আমার ভালোর জন্যই। ঝাপসা ছবির ওপর ভরসা করে এগোনোর চেয়ে পরিষ্কার ছবি অনেক নিরাপদ।

রিপোর্ট পেতে ঠিক কত দিন লাগবে, জানা আছে কি?

ঠিক দিনক্ষণ কেউ আমাকে বলেননি, আমিও জোর করিনি। মন দিয়ে পড়তে সময় লাগতেই পারে। তাড়াহুড়োর পড়ার চেয়ে একটু দেরির যত্নের পড়া আমার কাছে ভালো।

অপেক্ষার এই দিনগুলোতে কব্জিকে পুরো বিশ্রাম দেব?

আমার ডাক্তার ভারী চাপ এড়িয়ে হালকা নড়াচড়া চালিয়ে যেতে বলেছেন। আমি তার কথাই মানছি, পাড়ার লোকের পরামর্শ নয়। নিয়ম বদলাতে হলে তিনিই আমাকে জানাবেন।

রাতে হঠাৎ ব্যথা অসহ্য হয়ে উঠলে রিপোর্টের অপেক্ষা করব?

মোটেই না। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। রিপোর্টের অপেক্ষায় বাড়িতে বসে থাকা তখন বুদ্ধির কাজ নয়। আগে হাসপাতাল, কাগজপত্র পরে আসবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.