সেরা রেডিওলজিস্ট - দিনাজপুর

মই থেকে পড়ার পর উঠানের কাজ থেমে আছে

আমার বয়স তেষট্টি, দিনাজপুরের কাছে নিজের জমিতে চাষ করি। গত মাসে উঠানে একটা ডাল কাটতে মই বেয়ে উঠেছিলাম। পায়ের নিচে একটা ধাপ ভেঙে গেল। শক্ত হয়ে পাশের ওপর পড়লাম, সেদিন থেকে নিতম্বে ব্যথা। মেঝেতে বসতে গেলে ব্যথা লাগে। ওই পাশ ফিরে ঘুমালে ব্যথা আরও বাড়ে। আমার ডাক্তার হাত দিয়ে নিতম্বটা পরীক্ষা করে দেখলেন, তারপর ছবি তুলতে পাঠালেন।

ছবি তোলা হয়ে গেছে, এখন আমি এমন একটা কাজ করছি, যাতে আমি মোটেই ভালো নই। অপেক্ষা। উঠান আমার সঙ্গে অপেক্ষা করে না, মৌসুমও করে না। মনে ভয়, রিপোর্ট আসতে দেরি হবে। তার চেয়ে বড় ভয়, যিনি ছবি পড়বেন তিনি তাড়াহুড়ো করে পড়ে ফেলবেন কিনা। আমার ডাক্তার রিপোর্ট না পড়া পর্যন্ত আমি আর মইয়ে উঠব না। ভারী জিনিস তোলা আমার বাড়িতে নিষেধ, আমার নিজের হুকুমেই।

শহরে কাজ করে, এমন এক তরুণ প্রতিবেশী বুঝিয়ে বলল, আমার মতো ছবি কে পড়েন। সে বলল, একজন রেডিওলজিস্টের দিন কাটে ছবি আর রিপোর্ট নিয়েই, আর কিছু নয়। ওর ফোনে সে আমাকে দিনাজপুরের ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা দেখাল, সেখানে প্রতিটা ধরনের ডাক্তার নিজের জায়গায় আলাদা করে দেওয়া। আমার খোঁজ শুরু হয়েছিল সেই সন্ধ্যা থেকেই। আমি বুঝতে চাইছিলাম, আমার ছবিগুলো কার হাতে পড়েছে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

মই থেকে পড়ার পর উঠানের কাজ থেমে আছে

মইটা এখনো উঠানে হেলানোই আছে

পড়ে যাওয়ার পর থেকে মইটা আর সরাইনি। একই দেয়ালে হেলানো আছে, প্রতিদিন সকালে চোখে পড়ে। আমার বয়সী চাষি কাজকে ভয় পায় না। ভয় পায় কাজ করতে না পারাকে। আজকাল নিতম্বটাই ঠিক করে দেয়, কী করতে পারব আর কী ছাড়তে হবে। আমার ডাক্তার বাইরে থেকে আন্দাজ করতে রাজি হননি। তিনি বললেন, আগে ছবি দিয়ে নিতম্বের ভেতরটা দেখা দরকার।

যাঁর সঙ্গে দেখা হবে না, তিনি পড়ছেন আমার ছবি

কোথাও একজন ডাক্তার আছেন, যাঁর টেবিলে আমার ছবিগুলো পৌঁছেছে। তিনি আমার নাম জানেন না, আমার জমিও চেনেন না। তিনি চেনেন ছবিগুলো, আর সেটাই তাঁর শক্তি। তিনি ধীরে ধীরে ছবিগুলো দেখেন, নিতম্বের প্রতিটা অংশ পাশের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। আমার পুরনো ছবি কোথাও থাকলে তিনি সেগুলোও পাশে রাখতেন। তারপর তিনি আমার ডাক্তারের জন্য রিপোর্ট লেখেন, ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তা যত্ন করে লেখা থাকে সেখানে। এরপর কী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর নেওয়ার নয়।

আমার ওষুধ চলছে আমার ডাক্তারের ঠিক করা নিয়মেই

এই পড়ে যাওয়ার আগেই আমার ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ খাচ্ছিলাম। সেগুলো সকালে আর রাতে চলছে, ঠিক যতটা তিনি ঠিক করে দিয়েছেন ততটাই। আমার ছবি যিনি পড়ছেন, তাঁর এই ওষুধে কোনো কথা চলে না, তিনি কিছু বদলানও না। পরিমাণ কমানো বাড়ানো দরকার হলে আমার নিজের ডাক্তারই দেখা করে তা ঠিক করেন। আমার চিকিৎসায় নিয়মটা বরাবরই এমন ছিল, এখনো তাই আছে।

চায়ের দোকানে বসে তালিকা পড়া

চায়ের দোকানে বিশ্রাম নিতে নিতে প্রতিবেশীর ফোনে তালিকার আরও অংশ দেখলাম। আমরা একসঙ্গে দিনাজপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা পড়লাম, ওই ডাক্তাররা নিজের কাজের কথা কীভাবে লিখেছেন তা দেখলাম। অপেক্ষার সময়টা কাটল, অনেক কিছু শেখাও হলো। তালিকা হলো পড়ার আর জানার জায়গা। আমার নিজের পথ চলবে আমার ডাক্তার আর তাঁর রিপোর্ট দিয়েই।

স্থির থাকতে না পারা মানুষের প্রশ্ন

আমার নিতম্বের ছবি পড়বেন কে?

পড়বেন একজন রেডিওলজিস্ট। ছবি আর তা থেকে লেখা রিপোর্টই তাঁর প্রতিদিনের কাজ, আর তিনি সেই রিপোর্ট পাঠান আপনার ডাক্তারের কাছে।

এই ডাক্তার কি নিজে আমার নিতম্বের চিকিৎসা করবেন?

না। তিনি পড়েন আর লেখেন, চিকিৎসা থাকে আপনার নিজের ডাক্তারের কাছেই। তিনি নিজে থেকে আপনার কোনো চিকিৎসা শুরু করবেন না।

পড়ার ডাক্তার কি আবার ছবি তুলতে বলতে পারেন?

পারেন। ছবিগুলোর কোনো অংশ ভরসা করে পড়ার মতো পরিষ্কার না হলে তিনি সেই অংশের নতুন ছবি চাইতে পারেন।

আবার মইয়ে ওঠা আর ভার তোলা কবে থেকে পারব?

রিপোর্ট পড়ে আর নিতম্বটা আবার পরীক্ষা করে আপনার নিজের ডাক্তারই তা বলবেন। রেডিওলজিস্ট আপনাকে কাজে ফেরার ছাড় দেন না।

রিপোর্টটা আসবে আমার কাছে, নাকি আমার ডাক্তারের কাছে?

যে ডাক্তার আপনাকে ছবি তুলতে পাঠিয়েছেন, রিপোর্ট যায় তাঁর কাছেই। তিনি পরে আপনার সঙ্গে বসে বুঝিয়ে দেন, নিতম্বের জন্য এর মানে কী।

আজ রাতে ব্যথা অসহ্য হয়ে উঠলে রিপোর্টের অপেক্ষায় চুপ করে থাকব?

না, সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছান। ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠা, রক্ত যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট বা হঠাৎ পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বাড়িতে অপেক্ষা করার বিষয় নয়। রিপোর্ট কাগজ মাত্র, আপনার শরীর তা নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.