সেরা রেডিওলজিস্ট - চট্টগ্রাম
বন্দরে ভার তুলতে গিয়ে কোমরে লাগল, এখন সব আটকে আছে একটা রিপোর্টে
আমার বয়স আটচল্লিশ। চট্টগ্রাম বন্দরে রাতের শিফটে মাল ওঠানো আর বাছাইয়ের কাজ করি। তিন সপ্তাহ আগে আরেকজনের সঙ্গে ভারী বস্তা তুলতে গিয়ে বস্তাটা হাত ফসকে গেল। কোমরের নিচের দিকে জোরে টান লাগল, কংক্রিটের ওপর বসে পড়তে হলো। সেদিন সকালের পর থেকে ভারী কিছু আর তুলতে পারিনি।
আমার নিজের ডাক্তার কোমরটা পরীক্ষা করে জানতে চাইলেন, আঘাতটা কীভাবে লেগেছিল। তিনি বললেন, ভারী কাজে ফেরার সিদ্ধান্তের আগে কোমরের ভেতরের ছবি দেখা দরকার। ছবিগুলো এরপর তাড়াতাড়িই তোলা হলো। এখন সুপারভাইজার প্রায় রোজই রিপোর্টের খোঁজ নেন। ওই কাগজ ছাড়া ভার তোলার দলে ফিরতে পারছি না। হালকা কাজে বেতনও অনেক কম মেলে। বাড়িতে বসে থাকলেও মন পড়ে থাকে বন্দরেই।
চায়ের দোকানে এক সহকর্মী বললেন, রেডিওলজিস্ট নামে আলাদা একজন ডাক্তার সারাদিন এই ছবিগুলোই পড়েন। তিনি যে রিপোর্ট লেখেন, আমার নিজের ডাক্তার সেটা দিয়েই পরের কথা ভাবেন। আমি ভেবেছিলাম একই ডাক্তার সব কাজ করেন। সেদিন রাতে ফোনে DoctorBD24-তে চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকা দেখে বুঝতে চাইলাম, এই পড়ার কাজটা আসলে কারা করেন।
2 available specialists found
Prof. Dr. Pabitra Kumar Bhattacharjee
বন্দরে ভার তুলতে গিয়ে কোমরে লাগল, এখন সব আটকে আছে একটা রিপোর্টে
অন্যরা বস্তা তোলে, আমি গেটে দাঁড়িয়ে থাকি
হালকা কাজ মানে গুদাম ঝাড়ু দেওয়া আর গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা। আমার দলের লোকেরা বস্তা তোলে, আমি শুধু তাকিয়ে দেখি। মাস শেষে বেতনের কাগজে ফারাকটা চোখে পড়ে। ঘরের ঘাটতি মেটাতে আমার স্ত্রী বাড়তি সেলাইয়ের কাজ নিয়েছে। অপেক্ষা যত লম্বা হচ্ছে, সংসারের চাপ তত বাড়ছে। তাই এই রিপোর্টটা আমাদের কাছে শুধু কাগজ নয়।
যত্ন করে পড়া বলতে যা বুঝলাম
রেডিওলজিস্ট চোখ বুলিয়েই সরে যান না, এটুকু এখন বুঝেছি। তিনি প্রতিটা ছবির সেট নিয়ে সময় নিয়ে বসেন। পুরোনো ছবি থাকলে পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখেন। যা দেখেন, গুছিয়ে লিখে রিপোর্ট তৈরি করেন তিনি। সেই লেখা রিপোর্ট ফিরে যায় আমার নিজের ডাক্তারের কাছে। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ডাক্তারের হাতেই থাকে।
রিপোর্ট আমার ওষুধে হাত দেয় না
কোমরের ব্যথার জন্য নিজের ডাক্তার আমাকে ওষুধ দিয়েছেন। কাজের দিন আর ছুটির দিনে কীভাবে খেতে হবে, তাও বলে দিয়েছেন। কাগজে লেখা সেই নিয়ম আমি হুবহু মেনে চলছি এখনো। যিনি আমার ছবি দেখবেন, তিনি এই ওষুধের মাত্রা বদলাবেন না। বদলানোর কোনো কারণও তাঁর নেই। রিপোর্ট পড়ার পর বদল লাগলে নিজের ডাক্তার নিজেই আমাকে বলবেন।
শ্যালকের অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তা
গত মাসে আমার শ্যালককে তাঁর ডাক্তার বললেন, পেটের ফোলাটার অপারেশন লাগার সম্ভাবনা বেশি। নাম জানা কোনো সার্জন না থাকায় সে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছিল। একদিন তাকে পাশে বসিয়ে DoctorBD24-তে চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখলাম। ছোট একটা তালিকা সে নিজের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য লিখে রাখল।
দোকানে বসে যেসব কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম
ছবি পড়ার ডাক্তার কি বলে দেবেন আমি আবার ভার তুলতে পারব কিনা?
না। তিনি রিপোর্ট লিখে দেন, কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন আপনার নিজের ডাক্তার। রিপোর্ট পড়ার পাশাপাশি কোমরের অবস্থা দেখেও সেই সিদ্ধান্ত হয়। ব্যথা আর নড়াচড়া কেমন আছে, সেটাও তখন দেখা হয়।
প্রথম ছবিতে সব পরিষ্কার না এলে কী হবে?
তিনি আরেক সেট ছবি চাইতে পারেন। মনমতো না হলে সন্দেহ নিয়ে রিপোর্ট লেখা তিনি ঠিক মনে করেন না। আবার অপেক্ষা মানে বিরক্তি, তবু তাড়াহুড়োর রিপোর্টে কারো লাভ হয় না।
কোমরের পুরোনো ছবিও কি তিনি দেখবেন?
পুরোনো ছবি বা রিপোর্ট থাকলে তিনি নতুনগুলোর পাশে রেখে দুটোই দেখেন। আঘাতের পর থেকে কী বদলেছে, নিজের ডাক্তার তখন বুঝতে পারেন। মিলিয়ে দেখার এই কাজটা তাই ফেলনা নয়।
সুপারভাইজার তাড়া দিলে রিপোর্ট কি তাড়াতাড়ি আসবে?
কাজের জায়গার চাপে ছবি পড়ার যত্ন কমে না। সুপারভাইজারকে বলেছি, রিপোর্ট সরাসরি অফিসে যাবে না। রিপোর্টটা আসবে আমার নিজের ডাক্তারের মাধ্যমেই।
হালকা কাজে থাকা অবস্থায় ওষুধ বদলে ফেলব কি?
না। নিজের ডাক্তার যেভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন, কাজের দিনেও ছুটির দিনেও সেভাবেই খান। বদলের কথা উঠলে সেটা শুধু সেই ডাক্তারের সঙ্গেই হবে।
আজ রাতে ব্যথা পায়ে নেমে পা অবশ লাগলে রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করব?
অপেক্ষা করবেন না। কাগজের আশায় ঘরে বসে না থেকে সেদিনই হাসপাতালে যান। হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত বা হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিলেও হাসপাতালেই যেতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.