সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - সাভার
হোস্টেলের রাতগুলোতে বাড়ির কথা ভেবে কান্না পায়
আমার বয়স চব্বিশ, আমি সাভারে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করি আর হোস্টেলে থাকি। আমার বাড়ি এখান থেকে অনেক দূরে, বাবা-মা আর ছোট ভাইবোনের সংসার চলে আমার পাঠানো টাকায়। প্রথমে ভেবেছিলাম, কাজের চাপে মন অন্য দিকে থাকবে। কিছুদিন পর বুঝলাম, সেভাবে হচ্ছে না।
বেশিরভাগ রাতে বিছানায় শুয়ে নিঃশব্দে কাঁদি, যেন পাশের মেয়েরা টের না পায়। খাবারের রুচি চলে গেছে আমার। কোনো কোনো দিন দুপুরে দুই-তিন লোকমা খেয়েই উঠে যাই। মেশিনে হাত চলে ঠিকই, কিন্তু মনটা বারবার বাড়ির দিকে চলে যায়। এক মন বলে ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাই, আরেক মন মনে করিয়ে দেয়, বাড়িতে টাকাটা খুব দরকার।
রুমের এক বড় আপা এক সন্ধ্যায় পাশে বসে জানতে চাইলেন, আমি এত চুপ হয়ে গেছি কেন। তিনি বললেন, মনের কষ্টের কথা ঠিকমতো শোনেন এমন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। এমন ডাক্তার আগে কখনো খুঁজিনি আমি। ফোনে DoctorBD24-তে সাভারের ডাক্তারদের তালিকা খুলে ধীরে ধীরে দেখতে থাকি, কারা এই ধরনের কাজ করেন।
1 available specialists found
Dr. Md. Faijul Islam
হোস্টেলের রাতগুলোতে বাড়ির কথা ভেবে কান্না পায়
মনের ভেতর প্রতিদিন যে তর্কটা চলে
চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে যাব, নাকি থেকে গিয়ে টাকা পাঠাতে থাকব? এই একই তর্ক প্রতিদিন মাথার ভেতর ঘোরে। বাড়ি গেলে মনটা হালকা হবে, কিন্তু সংসারে টান পড়বে। থেকে গেলে টাকাটা যাবে, অথচ আমি আরও ভেঙে পড়ছি। বাইরের কাউকে দরকার ছিল, যিনি পক্ষ না নিয়ে পুরোটা শুনবেন।
প্রথম বসায় তিনি যা যা জানতে চাইলেন
বাড়ি ছাড়ার দিন থেকে এখনকার রাতগুলো পর্যন্ত পুরো গল্পটা আগে তিনি শুনলেন। শেষ কবে সারা রাত ঘুমিয়েছি, খাওয়ার রুচি কবে থেকে কমেছে, কারখানায় দিনগুলো কীভাবে কাটে, এসব জিজ্ঞেস করলেন। শরীরের সাধারণ অবস্থা আর আগে কোনো ডাক্তার দেখালে সেই রিপোর্টের কথাও জানতে চাইলেন। আগেও এমন ভারী লেগেছিল কিনা, সেটাও তিনি জিজ্ঞেস করলেন। আমি ধীরে উত্তর দিলাম, তিনি তাড়া দেননি।
তাঁর পরিকল্পনা, আর যা তিনি আশ্বাস দেননি
তিনি বললেন, নির্দিষ্ট বিরতিতে বসে কথা হবে, ঘুম আর খাওয়া কেমন যাচ্ছে তা তিনি খেয়াল রাখবেন। একটা ওষুধও দিলেন, কখন খেতে হবে তা বুঝিয়ে দিলেন। তাড়াতাড়ি ফল পাওয়ার বড় কোনো আশ্বাস তিনি দেননি। পরিবার আমার কাছ থেকে শুধু ততটুকুই জানবে, যতটুকু আমি জানাতে চাই, তিনি বললেন। এটা শুনে মন খুলে কথা বলতে পারলাম।
তাঁর দেওয়া ওষুধে আমার স্থির থাকা
তিনি লিখে দেওয়া নিয়মেই প্রতিদিন একই সময়ে ওষুধটা খাই, নিজে থেকে কিছু যোগ করি না। যেদিন ওষুধে শরীর ভারী লাগে, সেদিনের কথা লিখে রাখি, পরের সাক্ষাতে তাঁকে বলি। অবস্থা খারাপ হলে তার আগেও জানাই। একটু ভালো লাগল বলেই হুট করে বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি আমি নেব না। পরিমাণ বদলাতে হলে তিনি শুনে বদলে দেবেন।
রুমমেটের জন্য অন্য সমস্যার খোঁজে
আমার রুমমেটের কোমরের কাছে একটা চাকা হয়েছে, এলাকার এক ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করে ফেলে দিতে হবে। এক রাতে দুজনে বসে সাভারের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে শরীরের এই সমস্যার জন্য কাকে দেখাবে, তা ঠিক করতে সাহায্য করি। পাশাপাশি খুঁজলেও দুজনের প্রয়োজন কত আলাদা, সেদিন টের পেলাম।
শুরুর দিকে আমার জানতে চাওয়া বিষয়গুলো
বাড়ির জন্য মন খারাপটাই কি তাঁর কাছে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, কারণ এটা আমার ঘুম, খাওয়া আর কাজ সবকিছুতে ছড়িয়ে পড়েছে। জীবন চালানো কঠিন হয়ে গেলেই সেটা যথেষ্ট কারণ।
তিনি কি আমাকে চাকরি ছেড়ে বাড়ি যেতে বলবেন?
না, সেই সিদ্ধান্ত তিনি আমার হয়ে নেননি। থাকা আর চলে যাওয়া, দুই দিকই তিনি আমাকে গুছিয়ে ভাবতে সাহায্য করেছেন। সিদ্ধান্তটা আমারই থাকায় বেশি কাজ হয়েছে।
আমার বলা কথা কি পরিবার থেকে আলাদা রাখা যাবে?
যাবে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বুঝিয়ে বলেছেন, আমি সম্মতি দিলেই কেবল পরিবারকে এর মধ্যে আনা হবে। তাঁর সামনে বসে আপনি যা বলেন, তা আপনার আর তাঁর মধ্যেই থাকে।
ঘুম না হওয়ার পেছনে শরীরের কোনো কারণ থাকলে কী হবে?
তিনি বলেছেন, তেমন সন্দেহ হলে আগে অন্য ডাক্তারকে দিয়ে শরীরের দিকটা পরীক্ষা করিয়ে নিতে পাঠাবেন। শরীরের দিকটা আগে পরিষ্কার হওয়া তিনি জরুরি মনে করেন।
বাড়ির কথা মনে পড়া মানেই কি আমি দুর্বল?
তিনি মাথা নেড়ে না বললেন। হোস্টেলে থাকা অনেক মেয়েরই এমন টান লাগে, আর এতে আমার শক্তি নিয়ে খারাপ কিছু বোঝায় না, তিনি বললেন। এই একটা কথা আমার মনে গেঁথে আছে।
কোন খারাপ দিনে দেরি না করে হাসপাতালে যেতেই হবে?
নিজের ক্ষতি করার চিন্তা যদি এমনভাবে ধরে যে আটকানো প্রায় অসম্ভব মনে হয়, দেরি করবেন না। তক্ষুনি পাশের কাউকে ডেকে দিন শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালে পৌঁছে যান। কয়েক রাত ঘুম একেবারে না হলেও আর মন শান্ত না হলেও সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। হঠাৎ গোছল বা খাওয়ার মতো কাজ নিজে করতে না পারলে হোস্টেলের ঘরে না থেকে সেদিনই হাসপাতালে যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.