সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - রংপুর

সেই দুর্ঘটনা চোখে দেখার পর রাস্তায় উঠতেই ভয় লাগে

আমার বয়স পঁয়তাল্লিশ, আমি একটি এনজিওতে মাঠপর্যায়ে কাজ করি। কাজের জন্য রংপুরের আশপাশের গ্রামে গ্রামে যেতে হয় আমাকে। কয়েক মাস আগে মাঠের কাজে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনেই একটা বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আমি নিজে আঘাত পাইনি। তবু সেই দিনটা মাথা থেকে কিছুতেই নামছে না।

এখন লম্বা পথে যাওয়ার কথা ভাবলেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই বুকটা ভারী হয়ে ওঠে। মাঠের কাজগুলো সহকর্মীদের দিয়ে করাতে হচ্ছে, আর আমার নিজের কাজ জমে যাচ্ছে দিনের পর দিন। রাতে অল্প একটু ঘুম আসে, তারপর জেগে শুয়ে থেকে চারপাশের শব্দ শুনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরটা ক্লান্ত লাগে, মনটাও অকারণে অস্থির থাকে।

একজন বয়স্ক সহকর্মী খেয়াল করলেন, আমি যাতায়াত এড়িয়ে চলছি। তিনি বললেন, মনের সমস্যার জন্য একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বললে হয়তো ভালো হবে। কোথা থেকে খোঁজ শুরু করব, সেটাই জানতাম না। তখন DoctorBD24-তে রংপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে আমার মতো সমস্যা শোনেন এমন ডাক্তারদের সম্পর্কে পড়তে শুরু করি।

2 available specialists found

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ কৃষ্ণ রায়

Qualifications এমবিবিএস, এমডি (সাইকিয়াট্রি)
অবস্থান রংপুর সিটি, রংপুর

Prof. Dr. Muhammad Abdul Monem

Qualifications MBBS, M.Phil (Psychiatry)
অবস্থান রংপুর সিটি, রংপুর

সেই দুর্ঘটনা চোখে দেখার পর রাস্তায় উঠতেই ভয় লাগে

নিজে নিজে সেরে যাবে, এই আশা ছাড়লাম যেদিন

অনেক সপ্তাহ ধরে নিজেকে বোঝাচ্ছিলাম, ভয়টা একা একাই কমে যাবে। কমেনি। পাশের উপজেলায় যাওয়াটাও এখন অনেক বড় কাজ মনে হয়। বের হওয়ার আগে মনে মনে বারবার রাস্তাটার কথা ভাবতে থাকি। অফিস থেকে মাঠের রিপোর্ট চাওয়া হলো, অথচ উত্তর আমার কাছে ছিল না।

প্রথম দিন ডাক্তারের সামনে বসে যা হলো

তিনি তাড়াহুড়ো করে ছোট উত্তরে কথা শেষ করেননি। শুরু থেকে পুরো ঘটনাটা বলতে দিলেন আমাকে, পরিবারের কাছে যা বলিনি, সেসব কথাও। ঘুম কেমন হয়, দিনগুলো কীভাবে কাটে, আগেও এমন কিছু হয়েছিল কিনা, এসব জানতে চাইলেন। শরীরের কথাও জিজ্ঞেস করলেন, আগের রিপোর্টগুলোর খোঁজ নিলেন। সেদিন তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বললেন, আরও কয়েকবার বসে ধাপে ধাপে এগোনো হবে।

সেরে ওঠা নিয়ে তিনি যেভাবে বললেন

এই ধরনের সমস্যায় বদল ধীরে আসে, তিনি সোজাসাপটা বললেন। নির্দিষ্ট সময়ে বসে নিয়মিত কথা বলার কথা বললেন তিনি, সপ্তাহটা কেমন গেল সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি একটা ওষুধও শুরু করলেন, সেটা কী কাজ করবে তা বুঝিয়ে দিলেন। পরিবারের লোকজন এর মধ্যে কতটা থাকবেন, সেটা আমার স্বস্তি অনুযায়ী হবে, তিনি বললেন। এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাড়ির সবাই একসঙ্গে দুশ্চিন্তা করুক, আমি চাইনি।

ওষুধটা নিয়ে আমার নিজের নিয়ম

তিনি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, ঠিক সেই সময়ে আর সেই পরিমাণেই ওষুধটা খাই আমি। খাওয়ার পর অস্বস্তি লাগলে নিজে থেকে বাদ না দিয়ে লিখে রাখি, পরেরবার তাঁকে জানাই। নিজের ইচ্ছায় হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কাজ আমি করব না। বদলাতে হলে তিনি শুনে বুঝে বদলে দেবেন।

ছোট ভাইয়ের জন্য অন্য রকম খোঁজ

এর মধ্যেই আমার ছোট ভাইয়ের শরীরে একটা ফোলা ধরা পড়ল, তার নিজের ডাক্তার বললেন অপারেশন লাগবে। তখন তাকে নিয়ে রংপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা ঘেঁটে শরীরের এই ধরনের সমস্যার জন্য ডাক্তার খুঁজতে সাহায্য করি। তাকে দেখে মনে হলো, প্রতিটি সমস্যার জন্য আলাদা ডাক্তারই লাগে।

দ্বিতীয়বার যাওয়ার আগে মনে জমে থাকা প্রশ্ন

তিনি শুধু শুনবেন, নাকি আমাকে অনেক প্রশ্নও করবেন?

আমার ক্ষেত্রে দুটোই হয়েছে। আগে তিনি শুনলেন, তারপর ঘুম, কাজ, পরিবার আর শরীর নিয়ে প্রশ্ন করলেন। তাঁর প্রশ্নে নিজের অনেক অভ্যাস আমি নতুন করে খেয়াল করলাম।

ওখানে বলা সব কথা কি বাড়িতে জানাতেই হবে?

না। পরিবার কতটা জানবে, সেটা আমার সম্মতি অনুযায়ী হবে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পরিষ্কার করে বলেছেন। বাড়িতে কী জানাবেন আর কখন জানাবেন, সিদ্ধান্তটা আপনারই থাকবে।

আমার শরীরের দিকটাও পরীক্ষা করা লাগতে পারে কি?

তিনি সোজা বলেছেন, ঘুম ভাঙার পেছনে শরীরের কোনো কারণ থাকতে পারে মনে হলে আগে অন্য ডাক্তারকে দিয়ে সেটা দেখিয়ে নিতে বলবেন। শরীর নিয়ে তিনি আন্দাজে কিছু বলেননি।

রাস্তার ভয়ের কথা খুলে বলতে লজ্জা লাগলে কী করব?

আমারও লজ্জা লেগেছিল, সামান্য যাতায়াতে ভয় পাওয়ার কথা বলতে। তিনি হাসেননি, কথাটা উড়িয়েও দেননি। প্রতিদিনের জীবনে এটা যে আসল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেভাবেই তিনি নিয়েছেন।

আগের মতো স্বাভাবিক লাগতে কত দিন লাগতে পারে?

নির্দিষ্ট কোনো দিনের হিসাব তিনি আমাকে দেননি, তাতে আমি খুশিই হয়েছি। তিনি বললেন, সামনের সাক্ষাৎগুলোতে ঘুম আর যাতায়াতের অবস্থা দেখে একসঙ্গে ঠিক করা হবে।

কোন দিনে নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা সামলানো কঠিন হয়ে গেলে কী করব?

নিজেকে আঘাত করার মতো চিন্তা যদি এতটাই চেপে বসে যে ঠেকানো মুশকিল মনে হয়, সেই ভার নিয়ে ঘরে বসে থাকবেন না। বাড়ির কাছের কাউকে তখনই মুখে বলে ওই দিনের মধ্যেই হাসপাতালে চলে যান। কয়েক রাত একদম ঘুম না এলে আর মন ছুটতে থাকলেও একই কাজ করবেন। হঠাৎ ভয় বেড়ে খাওয়া বা গোছলের মতো কাজও না পারলে সেদিনও হাসপাতালে যেতে হবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.