সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - রাজশাহী
রাত জেগে বিসিএসের পড়া পড়ি, তবু কিছুই মনে থাকে না
আমার বয়স ছাব্বিশ, বাড়িতে বসে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই পরীক্ষার ওপর আমার পরিবারের অনেক আশা জড়িয়ে আছে। টেবিলে বিষয় অনুযায়ী বই সাজিয়ে কঠোর একটা রুটিন বানিয়েছিলাম। গত চার মাসে সেই রুটিনটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েছে। রাত জেগে পড়ি বটে, কিন্তু আগের মতো মনে রাখতে পারি না।
বেশিরভাগ রাতে এখন ঘুম হয় মাত্র তিন-চার ঘণ্টা। বই বন্ধ করার পরও পড়ার পরিকল্পনা মাথায় ঘুরতেই থাকে। কোন অধ্যায় বাকি, কোন তারিখ কাছে, এসব ভাবতে ভাবতে রাত কাটে। সকালে পড়া পৃষ্ঠা বিকেল হতে না হতেই ভুলে যাই। বাড়ির ছোট কথাতেই মা আর ভাইয়ের ওপর রেগে উঠছি আজকাল। পরে লজ্জা লাগে, তবু সন্ধ্যা নামলেই বিরক্তি ফিরে আসে।
আমাদের পারিবারিক ডাক্তার শরীর পরীক্ষা করে ঘুমের কথা মন দিয়ে শুনলেন। তিনি বললেন, শরীরে পরিষ্কার কোনো কারণ তাঁর চোখে পড়েনি। তাঁর পরামর্শ, মাথার এই ছুটে চলা আর ভাঙা ঘুম নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা দরকার। পড়ার সমস্যার জন্য এমন ডাক্তারের কথা আগে ভাবিনি আমি। তবু বুঝতে পারছিলাম, এই অবস্থায় প্রস্তুতি চালানো যাবে না। শুরুতে DoctorBD24-তে রাজশাহীর ডাক্তারদের তালিকা দেখে আমার মতো রোগী দেখেন এমন কাউকে খুঁজলাম।
3 available specialists found
সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ শাফকাত ওয়াহিদ
Dr. Rakibuzzaman Chowdhury
Dr. Md. Jasim Uddin
রাত জেগে বিসিএসের পড়া পড়ি, তবু কিছুই মনে থাকে না
তিনি নম্বর নয়, আমার পড়ার টেবিলের কথা জিজ্ঞেস করলেন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথমে জানতে চাইলেন, সাধারণ দিনে আমার পড়ার টেবিলটা কেমন থাকে। কখন ঘুমাই, কখন উঠি, পড়ার ফাঁকে কী খাই, সবই তিনি জিজ্ঞেস করলেন। আগের পরীক্ষাগুলোর সময়ও মাথা এমন ছুটত কি না, সেটাও জানতে চাইলেন। পারিবারিক ডাক্তার আমার শরীর নিয়ে যা লিখেছিলেন, তিনি তা দেখলেন। বাড়িতে আমার রাগের কথাও তিনি শুনলেন, কোনো দোষ না ধরে।
সারারাত ছুটে চলা মাথা দিনে কিছু ধরে রাখতে পারে না
তিনি বোঝালেন, সারারাত চলতে থাকা মাথা দিনের পড়া গুছিয়ে রাখতে পারে না। অলসতার চেয়ে এই ব্যাখ্যাটাই আমার ভুলে যাওয়ার সঙ্গে বেশি মিলল। ভাঙা ঘুম আর অবিরাম পরিকল্পনা একে অপরকে বাড়িয়ে তোলে, বললেন তিনি। এই চক্র ভাঙতে একবারের লম্বা উপদেশ নয়, বারবার বসা লাগবে। চাপের কথাগুলো নিয়ে নিয়মিত বসে কথা বলার প্রস্তাব দিলেন তিনি।
চাচার জন্য তখন সার্জন খুঁজছিলাম আমরা
আমার চাচাকে বলা হয়েছে, কুঁচকির কাছের গোটাটা দ্রুত ফেলে দিতে হবে। আমি নিজে ডাক্তার খুঁজছিলাম বলে তিনি আমার সাহায্য চাইলেন। আমরা দুজনে রাজশাহীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে তাঁর জন্য দুটো নাম বেছে রাখলাম। তাঁর সমস্যায় হাতের কাজ আর অপারেশনের ঘর লাগে, লম্বা কথা নয়।
ওষুধের নিয়ম তিনি আমাকে লিখে দিলেন
তাঁর দেওয়া ওষুধ কীভাবে খেতে হবে, তিনি তা পরিষ্কার লিখে দিয়েছেন। ভালো দিন গেলেও আমি প্রতিদিন সেই লেখা নিয়মটাই মেনে চলি। এক রাত ভালো ঘুম হলো বলেই হঠাৎ বন্ধ করা হবে নিজের ঝুঁকি নেওয়া, তিনি বললেন। ওষুধে কোনো অসুবিধা হলে নিজে পরিমাণ না বদলে তাঁকে জানাতে হবে। বদল দরকার হলে সেটা তাঁর ঘরে বসে পর্যালোচনার সময় ঠিক হবে।
পড়া ফিরবে ধাপে ধাপে, এক লাফে নয়
তিনি বললেন, এক সকালে ভালো পড়া হলেই সাফল্য ধরে নেওয়া যাবে না। আগে ঘুমের হাল দেখা হবে, তারপর মনোযোগ কতক্ষণ ধরে রাখতে পারি। পরিবারকে যুক্ত করা হবে শুধু আমি নিজে চাইলে, তার আগে নয়। ঘুম ধীরে ফিরলে বাড়িতে বিরক্তিও কমে আসে প্রায়ই, বললেন তিনি। সামনের দুই সপ্তাহের জন্য তিনি আমার পড়ার পরিকল্পনাটা ছোট করে দিলেন।
যেসব সংশয় নিয়ে তাঁর কাছে গিয়েছিলাম
পড়ার সমস্যার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সত্যিই কিছু করতে পারবেন?
হ্যাঁ, যখন পড়ার সমস্যার পেছনে ভাঙা ঘুম আর ছুটে চলা মাথা থাকে। তিনি পাঠ্যবই নয়, আপনার ঘুম আর চাপ নিয়ে কাজ করেন। ঘুম স্থির হলে পড়া ধরে রাখাও প্রায়ই সহজ হয়ে আসে।
তিনি কি শুধু পড়া কমিয়ে আরাম করতে বলবেন?
না, লক্ষ্যটা তুচ্ছ না করে তিনি আমার সঙ্গে ছোট একটা পরিকল্পনা বানিয়েছেন। বিসিএস আপনার আর পরিবারের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তিনি তা মানেন। উদ্দেশ্য প্রস্তুতি ছেড়ে দেওয়া নয়, প্রস্তুতিটা স্থির করা।
ঘুম খারাপ হওয়ার পেছনে শরীরের কোনো কারণ থাকতে পারে কি?
তেমন সন্দেহ হলে তিনি তা আপনাকে জানিয়ে দেবেন। তখন ঠিক ডাক্তার দিয়ে সেই দিকটা আগে দেখিয়ে নিতে বলবেন।
মন স্থির হতে কয়বার যাওয়া লাগতে পারে?
সরাসরি জিজ্ঞেস করলেও তিনি আমাকে কোনো সংখ্যার প্রতিশ্রুতি দেননি। ঘুম আর মনোযোগের বদল দেখে প্রতিবার অগ্রগতির হিসাব করা হয়। এমন বদল সাধারণত ধীরে ধীরে জমে, তিনি আমাকে বলেছেন।
বাবা-মা কি আমার সঙ্গে বসে কথা শুনবেন?
একই বাড়িতে থাকলেও সেই পছন্দটা আপনার নিজেরই থাকে। আমি প্রথমে একা কথা বলেছি, পরে বাড়িতে সারকথা জানিয়েছি।
কখন আর অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাওয়া উচিত?
নিজের ক্ষতি করার ভাবনা এসে সামলানো কঠিন মনে হলে বাড়ির কাউকে তক্ষুনি জানান। তাঁর সঙ্গে সেদিনই হাসপাতালে চলে যান, পরের দিনের জন্য রাখবেন না। টানা তিন-চার রাত ঘুম একেবারে না হলেও সেদিনই যাওয়া দরকার। মাথা আরও ছুটতে থাকলে বা অস্থিরতা নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও তাই করুন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.