সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - নোয়াখালী

গোটা শরীর ব্যথা করে, অথচ সব রিপোর্টে বলে আমি ভালো আছি

আমি তেষট্টি বছরের কৃষক, নিজের জমিতেই সারাজীবন খেটেছি। প্রায় এক বছর ধরে কাঁধ, পিঠ আর হাঁটুতে ব্যথা ঘুরে বেড়ায়। কোনো সকালে দুই হাতে ভার লাগে। কোনো বিকেলে পা দুটো টেনে ধরে। এলাকায় আর শহরে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি এই পর্যন্ত। তাঁরা পরীক্ষা করেছেন, রিপোর্ট দেখেছেন, বড় কোনো অসুখ পাননি।

রাতগুলো এখন আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন সময়। মাঠের কাজে ক্লান্ত হয়ে শুই, তবু ঘুম আসে টুকরো টুকরো হয়ে। ভোরের আগেই জেগে যাই, শরীর আড়ষ্ট, মাথায় নানা ভাবনা। মনে হয় ভেতরে লুকিয়ে কোনো বড় অসুখ বাসা বেঁধেছে। সেই ভয়ে দিনের খাওয়াও মুখে রোচে না আমার। আগের মতো কাজ করতে পারি না, মাঝে মাঝেই বসে পড়ি।

ছোট ছেলে বলল, মনের ডাক্তার হয়তো কথাটা অন্যভাবে শুনবেন। প্রথমে মনে কষ্ট পেয়েছিলাম, কারণ ব্যথাটা আমি শরীরেই টের পাই। পরে বুঝলাম, ছেলে আমার কষ্টকে ছোট করে দেখছে না। দুশ্চিন্তা আর ভাঙা ঘুম শরীরের ব্যথার পাশাপাশি থাকতে পারে। তাই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজতে শুরু করলাম নিজে থেকেই। শুরুতে DoctorBD24-তে নোয়াখালীর ডাক্তারদের তালিকা খুলে কাছের নামগুলো দেখলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

গোটা শরীর ব্যথা করে, অথচ সব রিপোর্টে বলে আমি ভালো আছি

শরীরের ব্যথাটাই সবার আগে শুনলেন তিনি

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আমার ব্যথাকে কথার কথা বলে উড়িয়ে দেননি। ব্যথা কোথা থেকে শুরু হয়, কোথায় ছড়ায়, কখন কমে, সব জিজ্ঞেস করলেন। ঘুম, খাওয়া আর মাঠের কাজ নিয়েও খুঁটিয়ে জানতে চাইলেন। আগের রিপোর্টগুলো তিনি আমার সামনে ধীরে ধীরে পড়লেন। আগের অসুখ আর চলতি ওষুধের কথাও তিনি জেনে নিলেন।

আরেকজন ডাক্তারের পরীক্ষা লাগলে তিনি লুকাবেন না

তিনি পরিষ্কার বললেন, শরীরের কোনো কারণ সন্দেহ হলে সেই পরীক্ষা আগে দরকার। তেমন লক্ষণ দেখলে তিনি আমাকে সেদিকেই পাঠাবেন। এই সৎ কথাটাই আমার মনকে সবচেয়ে বেশি শান্ত করেছে। দুশ্চিন্তা ব্যথাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, কিন্তু ব্যথা তবু সত্যি। তাই শরীর আর অস্থির মন, দুই দিকই দেখা হবে একসঙ্গে।

চাচাতো ভাইয়ের জন্য অন্য ধরনের ডাক্তার খুঁজতে হলো

আমি নিজের জন্য খুঁজতে গিয়ে চাচাতো ভাইয়ের কাজেও লাগলাম। তার পেটের কাছে একটা ফোলা আছে, ডাক্তার বলেছেন অপারেশন লাগবে। পরিবার জানতে চাইল, কাছাকাছি কারা এই কাজ করেন। এক সন্ধ্যায় আমরা দুজনে নোয়াখালীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখে নামগুলো টুকে রাখলাম। তার সমস্যা আলাদা, কিন্তু পাশাপাশি খোঁজা আমাদের দুজনেরই সাহস বাড়িয়েছে।

ওষুধের ব্যাপারে তাঁর পরিষ্কার কথা

তিনি বললেন, তাঁর দেওয়া ওষুধ আমাকে লেখা নিয়মেই খেতে হবে প্রতিদিন। পরিমাণ আর সময় বদলানোর সিদ্ধান্ত পরের সাক্ষাতে দুজনে মিলে নেওয়া হবে। একটু ভালো লাগলেই আমি নিজে থেকে হঠাৎ ওষুধ ছেড়ে দেব না। কোনো ওষুধে অসুবিধা হলে দেরি না করে তাঁকে জানিয়ে দেব। অসুবিধাটা দুজনে বসে দেখার পরই কিছু বদলাবে, আগেই নয়।

বদলটা আসবে ধীরে ধীরে

তিনি বললেন, এক সপ্তাহে রাতের ঘুম ঠিক হয়ে যাবে, এমন আশা ঠিক নয়। আমরা আবার বসব, ঘুম আর ব্যথার হাল শুনে ধীরে এগোব। ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত বসে কথা বলার কথাও তিনি বললেন। ছেলে কোনো সাক্ষাতে ঢুকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমার সম্মতিতেই হবে। ফেরার তারিখ নিয়ে বাড়ি ফিরে মনটা অনেক হালকা লাগল।

যাওয়ার আগে যেসব প্রশ্ন করলাম

তিনি কি আমার ব্যথাকে সত্যি ভাববেন, নাকি শুধু মনের কথা বলবেন?

প্রথম মিনিট থেকেই তিনি ব্যথাকে সত্যি ধরে কথা বলেছেন। শরীর নিয়ে তিনি বিস্তারিত জিজ্ঞেস করেছেন সবার আগে। শরীরের কোনো কারণ পরীক্ষা করা লাগলে তিনি নিজেই তা বলবেন।

প্রথম সাক্ষাতে সাধারণত কী কী হয়?

তিনি আপনার পুরো কথাটা শোনেন, ঘুম আর দৈনন্দিন জীবন নিয়ে জিজ্ঞেস করেন। আগের রিপোর্ট আর শরীরের হালও তিনি দেখে নেন। তারপর পরের ধাপটা তিনি বুঝিয়ে বলেন।

তিনি কি আমাকে শরীরের ডাক্তারের কাছে ফেরত পাঠাতে পারেন?

হ্যাঁ, আর এ কথা তিনি নিজে থেকেই আমাকে বলেছেন। কিছু সমস্যার শুরু শরীরের ডাক্তারের কাছেই হওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ কিছু এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে পাঠিয়ে দেওয়াই তিনি ভালো মনে করেন।

আমার পরিবারের লোক কি সাক্ষাতে থাকতে পারবে?

আপনি আগে থেকে যেভাবে রাজি হবেন, সেভাবেই হবে। আমার ছেলে বাইরে অপেক্ষা করেছে, আমি ডাকলে তবেই ঢুকেছে। একা বলা কথাগুলো আপনার আর ডাক্তারের মধ্যেই থাকে।

ঘুম ভালো হতে কত সময় লাগতে পারে?

তিনি আমাকে কোনো দিন-তারিখ দেননি, এই সততাটা আমার ভালো লেগেছে। ঘুম আর ব্যথার বদল সাধারণত বারবার সাক্ষাতের ভেতর দিয়ে ধীরে আসে। প্রতিবার বসে দেখা হয়, কী বদলাল আর কী বাকি রইল।

কোনো রাতে নিজের ক্ষতি করার ভাবনা এলে আর তা ঠেলে সরাতে না পারলে কী করব?

সেই রাতে বাড়ির বাইরে বা উঠানে একা থাকবেন না। বাড়ির কাউকে ডেকে মনের কথাটা খুলে বলুন সরাসরি। তার সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতেই হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন। টানা কয়েক রাত ঘুম একেবারে না হলেও একই ব্যবস্থা নিন। হঠাৎ গোসল, খাওয়া বা নিজের কাজ নিজে করতে না পারলেও সেদিনই হাসপাতালে যান।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.