সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - নাটোর
রাস্তা থেকে বারবার বাড়িতে ফোন করি, মন রাস্তায় থাকে না
আমার বয়স ছত্রিশ। নাটোরে একটা ডেলিভারি ভ্যান চালিয়ে সংসার চলে আমার। রোজ সকালে রোডে বের হই, ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বছরখানেক আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা মাথায় বাসা বাঁধল। প্রথমে বাড়িতে থাকতেই বারবার খোঁজ নিতাম। ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস রাস্তা পর্যন্ত চলে এলো।
এখন দুপুরের আগেই বাড়িতে চার-পাঁচবার ফোন করে ফেলি। স্ত্রী ফোন না ধরলে বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হয়। ছেলে স্কুল থেকে ফিরল কিনা, মেয়ে কার সঙ্গে খেলছে, এসবই মাথায় ঘুরতে থাকে। রাস্তার দিকে তখন আর পুরো মন থাকে না। দুইবার মোড় ঘুরতে ভুল করেছি, একবার হঠাৎ ব্রেক করতে হয়েছে। রাতেও ঘুমের মধ্যে জেগে উঠে বাচ্চাদের ঘরের দিকে কান পাতি। বাড়ি ফিরেও মন হালকা হয় না।
বড় ভাই একদিন বললেন, এই টানা দুশ্চিন্তার কথা মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে শোনানো দরকার। ভ্যানের কাজের ফাঁকে ফোনে DoctorBD24-তে নাটোরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে দেখলাম। তাড়াহুড়ো না করে যিনি আমার পুরো অবস্থাটা বুঝতে চাইবেন, তেমন ডাক্তারই আমার দরকার।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
রাস্তা থেকে বারবার বাড়িতে ফোন করি, মন রাস্তায় থাকে না
যে ভুলটা আমাকে থামিয়ে দিল
ভ্যান মালিকের সতর্ক করে দেওয়া কথাটা সারাটা পথ কানে বাজল। গাড়ি চালানোই আমার রোজগার। অথচ এই ছটফটে মন নিয়েই রাস্তায় আমি অন্য কারো ক্ষতির কারণ হতে পারি। যাত্রী হোক, পথচারী হোক, কিংবা বাড়িতে অপেক্ষা করা আমার নিজের মানুষজন। লজ্জার চেয়ে এই ভাবনাটাই আমাকে মনের ডাক্তারের খোঁজে ঠেলে দিল।
তিনি শুধু ফোন করার অভ্যাসটা শুনে থামলেন না
তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার কথা শুনলেন। বাড়িতে বারবার খোঁজ নেওয়া, রাস্তা থেকে ফোন, ভাঙা ঘুম, সবটা। তারপর একে একে প্রশ্ন করলেন। ঘুম কেমন, দিন কীভাবে যায়, সংসারের হাল কেমন, আগের বছরগুলোতে এমন গেছে কিনা। শরীরের কথাও জানতে চাইলেন, আগের রিপোর্টগুলো খুঁটিয়ে দেখলেন। শরীরের কোনো কারণ ধরা পড়লে আগে অন্য ডাক্তারের পরীক্ষা লাগবে, সে কথা তিনি আগেই বলে রাখলেন।
নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বদলানোর সুযোগ আমার নেই
তিনি যেভাবে ওষুধ সাজিয়ে দিয়েছেন, আমি ঠিক সেভাবেই খাই, একই ওষুধ, একই সময়ে। নিজে থেকে কমানো বা বাড়ানো আমার কাজের মধ্যে পড়ে না। খারাপ লাগছে বলেই একদিন হুট করে বন্ধ করে দেওয়াও চলবে না। ভ্যানে ওঠার আগে কোনো ওষুধে মাথা ভার লাগলে আমি চেম্বারে ফোন করে জানাই। তারপর দুজনে মিলে বিষয়টা ঠিক করি।
প্রতিবেশীর অপারেশনের জন্য একসঙ্গে খোঁজা
গত মাসে প্রতিবেশীর ডাক্তার তাকে অপারেশনের পরামর্শ দিলেন। পাঁজরের নিচের ফোলাটা তাকে অনেক দিন ধরে ভোগাচ্ছে। তার ছেলেরা দূরে থাকে, তাই আমাকে পাশে বসতে বললেন। রাতের খাওয়ার পর দুজনে DoctorBD24-তে নাটোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা খুলে প্রতিটা প্রোফাইল ধীরে ধীরে পড়লাম।
দ্বিতীয়বার যাওয়ার আগে যেসব কথা জানতে চেয়েছি
স্ত্রীকে কি আলোচনায় ডাকা হবে?
আমি সম্মতি দিলেই কেবল, তিনি বলেছেন। আমার স্ত্রী নিজেও দুশ্চিন্তায় থাকে, তাই একবার তাকে ডাকতে পারি। আমি না বলা পর্যন্ত আলোচনা আমার একারই থাকবে।
মন শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভ্যান চালানো বন্ধ রাখব?
তিনি তেমন নির্দেশ দেননি। বদলে আমার রুট, বিশ্রাম আর ফোনের অভ্যাস নিয়ে কথা হয়েছে। আপাতত আমি গাড়ি চালাই। প্রতিবার দেখা হলেই মনোযোগের হাল তিনি জেনে নেন।
শরীরের ভেতরের কোনো কারণ থাকলে কী হবে?
তখন সেই পরীক্ষাটাই আগে হবে। এ নিয়ে তিনি পরিষ্কার কথা বলেছেন। আমার কথা বা রিপোর্টে শরীরের কারণের ইঙ্গিত মিললে এগোনোর আগে তিনি অন্য ডাক্তারের কাছে পাঠাবেন।
এক সপ্তাহেই কি ফোন করার অভ্যাস ছাড়তে পারব?
এমন কোনো কথা তিনি দেননি। পরে পরে দেখা করার মধ্য দিয়ে ধীরে উন্নতি আসে, তিনি বললেন। কোনো সপ্তাহ ভালো যাবে, কোনোটা কম। একটা ভালো দিন দেখে বিচার হয় না।
রাতে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে কী করব?
তিনি ছোট ছোট সহজ উপায় বলেছেন। একা একা হাঁটাহাঁটি না করে স্ত্রীকে জানানো। রাতের খাওয়ার পর ফোনটা অন্য ঘরে রেখে দেওয়া। দেখা করার সময় এগুলো আমরা একসঙ্গে ঠিকঠাক করে নিই।
যদি কোনো রাতে নিজের ক্ষতি করার চিন্তা মাথা থেকে সরাতেই না পারি?
যেখানে মানুষজন আছে, সেখানেই থাকুন। স্ত্রী বা ভাইকে ঘুম থেকে তুলে পরিষ্কার করে বলুন। কথাটা গোপন রাখবেন না, সেদিনই হাসপাতালে যাওয়াটা জরুরি। রাতের পর রাত চোখে একফোঁটা ঘুম না এলেও হাসপাতালে যান। গোসল বা খাওয়ার মতো রোজকার কাজ হঠাৎ একদম অসম্ভব মনে হলেও সেদিনই যাবেন। ভয় হাতের বাইরে চলে গেলেও সেদিনই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.