সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - নারায়ণগঞ্জ

একই টাকা তিনবার গুনেও হিসাবে ভুল হয়ে যায়

আমার বয়স ত্রিশ। নারায়ণগঞ্জের একটা ব্যাংক শাখায় কাউন্টারে বসে কাজ করি। বাইরে থেকে কাজটা সহজই মনে হয়। গ্রাহক টাকা দেন, আমি গুনে হিসাবটা সিস্টেমে তুলি। চার বছর ধরে এই কাজই করে আসছি, তেমন ঝামেলা হয়নি। গত শীতে হঠাৎ বদলটা শুরু হলো। গ্রাহক সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেই চোখে পানি চলে আসত, কেন আসত নিজেও বুঝতাম না।

এখন ব্যস্ত সকাল মানেই আমার কাছে একটা পরীক্ষা। এক গোছা টাকা একবার গুনি, মাঝখানে খেই হারিয়ে আবার শুরু করি। গত মাসে দুই দিন দিনশেষে হিসাব মেলেনি। সিনিয়র স্যারকে আমার জন্য বেশি সময় থাকতে হয়েছে। রাতে বিছানায় শুয়ে দিনের ভুলগুলোই মাথায় ঘোরে। ঘুম আসে ভেঙে ভেঙে। সকালে ক্লান্ত শরীর নিয়ে শাখায় ঢুকি, প্রথম লাইনটার কথা ভাবলেই ভয় লাগে।

এক খালাতো বোন ক্লিনিকে কাজ করে। সে বলল, মনের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন এমন ডাক্তার এই ধরনের কথা রোজই শোনেন। আমার কান্না আর মনোযোগের এই হালকে আমি ওভাবে ভাবিনি। সেদিন সন্ধ্যায় ফোনে DoctorBD24-তে নারায়ণগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা খুলে ধীরে ধীরে প্রোফাইলগুলো পড়লাম। যিনি আগে পুরো কথাটা শুনবেন, এমন কাউকেই খুঁজছিলাম আমি।

1 available specialists found

Dr. Shahidul Islam Khandaker

Qualifications MBBS, MPH (Community Medicine), MPhil (Psychiatry), Fellow WHO (Thailand)
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

একই টাকা তিনবার গুনেও হিসাবে ভুল হয়ে যায়

যেদিন কাউন্টার ছেড়ে বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে হয়েছিল

একদিন দুপুরে সিনিয়র ম্যাডাম নিজে আমার কাউন্টারটা সামলে নিলেন। আমি বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নিজেকে সামলালাম। তিনি কিছু বলেননি, তবু সেদিনই বুঝলাম এভাবে চলবে না। এই চাকরির ওপর আমার সংসার দাঁড়িয়ে আছে। হারানোর ভয়টা সত্যি হয়ে ওঠার আগেই সপ্তাহের মধ্যে সময় ঠিক করে ফেললাম।

প্রথম দেখায় তিনি আমার দিনরাতের খোঁজ নিলেন

বসার পর তিনি আমাকে পুরো কথাটা শেষ করতে দিলেন, মাঝখানে থামাননি। তারপর জানতে চাইলেন ঘুম কেমন হয়, সারাদিন কীভাবে কাটে, বাড়িতে কে কে আছে। আগেও এমন সময় গেছে কিনা, সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। শরীরের খবর আর আগের রিপোর্টগুলো তিনি মন দিয়ে দেখলেন। শরীরের কোনো কারণ আগে পরীক্ষা করা দরকার হলে সেটা তিনি পরিষ্কার করে বলবেন, এ কথাও জানিয়ে দিলেন।

ওষুধ নিয়ে তিনি যে নিয়মটা বেঁধে দিলেন

একটা ওষুধ দিয়ে তিনি কাগজে লিখে দিলেন কখন কখন খেতে হবে। আমি সেই লেখা ধরেই চলি, নিজে থেকে এদিক-ওদিক করি না। হঠাৎ একদিন বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি স্পষ্ট মানা করেছেন। কোনো বদল দরকার মনে হলে সামনাসামনি বসে সেটা ঠিক হবে, বাড়িতে বসে আমার আন্দাজে নয়। সকালে ওষুধ খেয়ে মাথা ঘুরলে চুপচাপ বাদ না দিয়ে সেটা তাকে জানানোই আমার কাজ।

খালার অপারেশনের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে

এর মধ্যে খালার নিজের ডাক্তার বললেন, কোমরের কাছের ফোলাটার অপারেশন লাগবে। পরিবারের কেউ জানতাম না কোথা থেকে নাম খোঁজা শুরু করব। এক সন্ধ্যায় খালাকে পাশে বসিয়ে DoctorBD24-তে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেখলাম, ঠিক যেভাবে নিজের জন্য খুঁজেছিলাম।

যেসব প্রশ্ন মাথায় নিয়ে গিয়েছিলাম

পরিবারের কাউকে কি আমাকে না জানিয়ে কিছু বলা হবে?

না। তিনি বলেছেন, আমি রাজি না হলে পরিবারের কেউ আলোচনায় আসবে না। এখন পর্যন্ত সব কথা আমাদের দুজনের মধ্যেই থেকেছে, সেটা আমার নিজের ইচ্ছায়।

ওষুধ শুরু করার আগে ভাবার সময় পাব তো?

অবশ্যই পাব। তিনি ধীরে ধীরে সব বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমিও প্রশ্ন করেছি। কীসের জন্য ওষুধ, কীভাবে খেতে হবে, না বোঝা পর্যন্ত কিছুই শুরু হয়নি।

শরীরের কোনো সমস্যা থেকে এমন হতে পারে কি?

সেই সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। রিপোর্ট বা আমার কথা শুনে শরীরের কারণ মনে হলে তিনি সরাসরি বলবেন। তখন সেই পরীক্ষার জন্য ঠিক ডাক্তারের কাছে পাঠাবেন।

কাউন্টারের ভুল কবে থেকে কমতে শুরু করবে?

কোনো তারিখ তিনি দেননি, কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়। পরে পরে দেখা করার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদল আসে, তিনি বললেন। কোনটা ভালো হলো, কোনটা এখনো কষ্ট দিচ্ছে, দুটোই তখন দেখা হয়।

চাকরিটা চালিয়ে যাওয়া যাবে তো?

যাবে, বরং তিনি চালিয়ে যেতে বলেছেন। নিয়মিত রুটিন নাকি কাজে দেয়। ব্যাংকের সময়ের বাইরে আমি দেখা করার সময় রাখি। সিনিয়র ম্যাডাম এখন জানেন আমি চিকিৎসা নিচ্ছি।

কোনো রাতে নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছাটা যদি খুব জোরালো হয়ে ওঠে, সেদিন কী করব?

বাড়ির কাউকে ডেকে পাশে বসান, মনের কথাটা মুখে বলুন। একা ঘরে দরজা বন্ধ করে থাকবেন না। ওই দিনই হাসপাতালে যান। কয়েক রাত ধরে চোখে ঘুমের লেশ না থাকলেও সেদিনই যান, মাথা তখন কিছুতেই শান্ত হয় না। হঠাৎ গোসল, খাওয়া বা কাপড় পরার মতো কাজও অসম্ভব মনে হলেও দেরি করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.