সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ
ডিউটির ভুলগুলো দিনের ঘুমটাও কেড়ে নিয়েছে
আমার বয়স আঠাশ। ময়মনসিংহের একটা হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করি। ওয়ার্ডে কয়েক বছর হলো, রাতের ডিউটি সামলাতে প্রথম দিকে সমস্যা হতো না। ইদানীং কাজটা বাড়ি পর্যন্ত পিছু নিচ্ছে। বড় দুর্ঘটনার কথা নয়। ছোট ছোট বিষয়। একটা চার্ট দেরিতে পূরণ করা। একটা ওষুধ দেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার মিলিয়ে দেখা। রোগীর স্বজনের সঙ্গে একটু কড়া গলায় কথা বলে ফেলা।
এখন সকালে পর্দা টেনে শুয়ে থাকলেও ঘুম আসে না। মাথার ভেতর পুরো রাতের ডিউটি আবার চলতে থাকে। কিছু বাদ পড়ল কিনা, দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কিছু ছাড়লাম কিনা। ঘরের আওয়াজে ঘুম ভাঙে খণ্ড খণ্ড। পরের ডিউটির আগে বিকেল থেকেই পেটের ভেতর একটা ভয় জমতে থাকে। ডিউটির তালিকার দিকে তাকাতেই এখন মন চায় না।
ওয়ার্ডের একজন সিনিয়র নার্স ব্যাপারটা খেয়াল করে একদিন ডিউটির পর আমাকে বসালেন। তিনি বললেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হলেন মনের কষ্টের ডাক্তার, আর নার্সদেরও তাঁর কাছে যাওয়ার দরকার হতে পারে। নিজের জন্য এমন ডাক্তার আগে কখনো খুঁজিনি। সেদিন সন্ধ্যায় ফোনে খুঁজতে গিয়ে DoctorBD24-তে ময়মনসিংহের ডাক্তারদের তালিকা খুলে দেখলাম, কোথা থেকে শুরু করা যায়।
5 available specialists found
ডাঃ মেসকাত নওশিন কেয়া
অধ্যাপক ডাঃ মো. এনামুল হক খান
Dr. M. Asraful Siddike Pathan
Prof. Dr. Bidhan Ranjan Roy Poddar
Dr. Dil Md. Sazzadul Kabir (Sabuz)
ডিউটির ভুলগুলো দিনের ঘুমটাও কেড়ে নিয়েছে
রাতের ডিউটির কথা তাঁকে বেশি বোঝাতে হয়নি
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আমাকে ধারাবাহিকভাবে পুরোটা বলতে দিলেন। ডিউটির সময় কেমন যায়, এই ভয়টা কবে থেকে, বাড়িতে দিনগুলো কীভাবে কাটে, তিনি জানতে চাইলেন। পরিবারের কথা, শরীরের অবস্থা, আগেও এমন ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে কিনা, সব জানতে চাইলেন। আগের ক্লিনিকের রিপোর্টগুলোর কথাও উঠল।
ভাঙা দিনের ঘুমটা ছিল কথার মাঝখানে
তিনি বললেন, আমার ঘুম আর ডিউটির সময়কে আলাদা করে দেখা যায় না। রাতের ডিউটির পর কীভাবে বিশ্রাম নিই, ঘরের মানুষের চলাফেরা কীভাবে চলে, সেসব নিয়ে কথা হলো। এর সঙ্গে শরীরের কোনো সমস্যা জড়িয়ে থাকলে সেই দিকটা আগে আরেকজন ডাক্তারের দেখা উচিত, তিনিও বললেন।
ভুল ঘুরে ফিরে আসা এক সপ্তাহে থামবে না
পরের ডিউটির আগেই ভয় কেটে যাবে, এমন কথা তিনি দিলেন না। ঠিক করা ব্যবধানে বসে কথা হবে। বদল এলে তা ছোট ছোট জায়গায় আগে দেখা দেবে। হয়তো একদিন সকাল জুড়ে টানা ঘুম হবে। অথবা ওয়ার্ডের গেটে পৌঁছেও পেটের ভেতরটা মোচড় দেবে না।
ওষুধ চলবে তাঁর ঠিক করা সময় ধরেই
তিনি যখন আমার জন্য ওষুধ লিখলেন, খাওয়ার সময়টা আমার ডিউটির সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করে দিলেন। আমি হুবহু সেই হিসাবেই চলি। কয়েকটা রাত সহজ গেলেই নিজে থেকে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ আমার নেই। শরীরে কোনো খারাপ লাগা টের পেলে তাঁকে জানাই, তিনি আবার ভেবে দেখেন।
আমার চাচার সমস্যা ছিল অন্য তালিকার
একই সপ্তাহে আমার চাচাকে বলা হলো, তাঁর পেটের ব্যথাওয়ালা গোটাটার অপারেশন লাগবে। তাঁর সমস্যা শরীরের, তাই তাঁর খোঁজ গেল ময়মনসিংহের জেনারেল সার্জনদের তালিকার দিকে। আমার কষ্ট মনের, আমার তালিকা তাই আরেকটা। সাইটে ডাক্তাররা কাজ অনুযায়ী আলাদা করে সাজানো।
আমি দিনে ঘুমাই। এতে কি তাঁর কাজের ধরনে কোনো বদল আসে?
তিনি বললেন, আসে। রাতের ডিউটির পরের বিশ্রামটাই আমার সমস্যার একটা অংশ। দিনের বেলায় কাজ করা মানুষের ঘড়ি ধরে চলতে তিনি আমাকে বলেন না।
আমি যা বলি, তার কিছু কি আমার হাসপাতালে পৌঁছাবে?
না। তাঁর ঘরে বলা কথা সেখানেই থাকে। আমি রাজি হলেই পরিবার কিছু জানতে পারবে। আমার কর্মস্থলে তাঁর পক্ষ থেকে কিছুই যায় না।
আমার এমন লাগার পেছনে শরীরের কোনো কারণ থাকতে পারে?
পারে, তিনি নিজেই সেকথা বলেছেন। তাই তিনি আমার শরীরের অবস্থা আর পুরোনো রিপোর্টের কথা এত করে জিজ্ঞেস করেছেন। শরীরের কারণ সন্দেহ হলে তিনি সবার আগে সেই দিকের ঠিক ডাক্তারের কাছে পাঠাবেন।
ডিউটির আগের ভয়টা কি পুরোপুরি যাবে কোনোদিন?
তিনি সেই নিশ্চয়তা দেননি। বললেন, ভয়টা ছোট হতে পারে, সামলানো সহজ হতে পারে। আমরা বিচার করব ডিউটি আর ঘুম আসলে কেমন যাচ্ছে তা দিয়ে।
মা একবার সঙ্গে বসতে চান। সেটা কি সম্ভব?
সম্ভব, আমি হ্যাঁ বললেই। তিনি কোনো বসার একটা অংশে থাকতে পারবেন, শুধু ওই অংশেই। একা যা বলি, তা আমাদের দুজনের মধ্যেই থাকে।
নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এসে তা সরাতে না পারলে কী করব?
এটা দুই বসার মাঝে ফেলে রাখার বিষয় নয়। আমার কাজ হবে কাছের মানুষকে তখনই জানানো, আর সেই দিনই হাসপাতালে পৌঁছানো। একটানা রাতের পর রাত ঘুম না এলেও সেদিনই, মন যদি ছুটতেই থাকে। ভয় এমনভাবে চেপে বসলেও তাই, যখন গোসল করা বা খাওয়াটাও সামলানো যায় না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.