সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - লক্ষ্মীপুর
আশপাশে কেউ হাসলেই মনে হয় হাসিটা আমাকে নিয়েই
আমার বয়স চব্বিশ। লক্ষ্মীপুরে ছোট একটা দোকানে মোবাইল ফোন সারাই। গত এক বছরে এই ভাবনাটা আমার ভেতরে ঢুকে গেছে। এক খদ্দের স্ক্রিন ঠিক করাতে এসে কিছু একটা নিয়ে হেসেছিলেন। বাসায় ফিরে আমি নিশ্চিত ছিলাম, হাসিটা আমাকে নিয়েই। তারপর থেকে সব জায়গায় এমন হচ্ছে। বাজারে, চায়ের দোকানে, এমনকি খালাতো ভাইয়ের বিয়েতেও, যেখান থেকে আমি আগেভাগে উঠে এসেছিলাম।
এখন মানুষের জমায়েতে মাথা নিচু করে থাকি, কথা বলার আগে মনে মনে সাজিয়ে নিই। বলা হয়ে গেলে দিনের পর দিন সেই কথাগুলোই মাথায় ঘোরাই। বোকার মতো কিছু বললাম না তো? আমি উঠে দাঁড়াতেই হাসিটা শুরু হলো না তো? বন্ধুদের আড্ডায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। কাজেও ক্ষতি হচ্ছে, খদ্দেরের চোখের সামনে থেকে পালাতে গিয়ে সারাইয়ের কাজ তাড়াহুড়ো করে ফেলি।
বড় বোন খেয়াল করল, বাসায় আমি আগের চেয়ে চুপচাপ। কী খাচ্ছে আমাকে ভেতরে ভেতরে জানতে চাইলে সব বললাম। সে বলল, মনের কষ্ট নিয়ে কাজ করেন এমন ডাক্তারকে সরাসরি আমার মুখেই শোনানো দরকার। আমার কষ্ট যে ডাক্তারের বিষয় হতে পারে, এটা আমার মাথায় আসেনি। সেদিন রাতে বোন আমাকে খোঁজার উপায় দেখিয়ে দিল। দুজনে তার ফোনে DoctorBD24-তে লক্ষ্মীপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুললাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
আশপাশে কেউ হাসলেই মনে হয় হাসিটা আমাকে নিয়েই
তিনি আমার আসার কারণ শুনে হাসেননি
আমার প্রথম ভয় ছিল, তিনিও হয়তো হেসে উড়িয়ে দেবেন। দেননি। শেষ যে জমায়েত থেকে আগেভাগে বেরিয়ে এসেছিলাম, সেটার কথা বলতে বললেন। লোকে ঠিক কী ভাবছে বলে আমার মনে হয়েছিল, তাও জানতে চাইলেন। কতদিন ধরে এটা জমছে, সব মৌসুমে একই রকম থাকে কিনা, সেসবও জিজ্ঞেস করলেন।
তিনি পেছনের বছরগুলোতেও ফিরে গেলেন
স্কুলের কথা উঠল, যেখানে চুপচাপ থাকায় আমাকে খোঁচা দেওয়া হতো। ঘুম, কাজ আর সারা শরীরের খবরও তিনি নিলেন। দুই বছর আগে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, সেই সময়ের কোনো রিপোর্ট আছে কিনা জানতে চাইলেন। বললেন, পথ ঠিক করার আগে শরীরের কোনো কারণ আছে কিনা দেখে নিতে হবে।
আসর দিয়েই শুরু, দ্রুত ফলের প্রতিশ্রুতি নেই
তিনি বললেন, শুরুতে নিয়মিত বসে কথা বলার আসর চলবে। বদল এলে ধীরে আসবে। কত দিনে কী হবে, সেই অঙ্ক তিনি কষতে বসলেন না। দোকানের দিনগুলো আর মানুষের সঙ্গে সন্ধ্যাগুলো কীভাবে বদলায়, আমরা সৎভাবে দেখব। ফিরে গেলে সেগুলো নিয়েই কথা হবে।
ওষুধ পরে এলেও নিয়মটা তিনি এখনই বেঁধে দিয়েছেন
এখনো তিনি আমাকে কোনো ওষুধ দেননি। তবে নিয়মটা আগেভাগেই বলে রেখেছেন। লিখলে হুবহু লেখা অনুযায়ী খেতে হবে। এক সপ্তাহ ভালো লাগছে বলেই নিজে থেকে হঠাৎ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। ওষুধে কোনো অসুবিধা হলে তাঁকে জানাতে হবে। আমার কথা শুনে তিনিই ঠিক করবেন, ওষুধে হাত দেওয়া হবে কিনা।
বাড়িওয়ালার ছেলের দরকার ছিল অন্য তালিকা
গত মাসে বাড়িওয়ালার ছোট ছেলে ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল, তার ডাক্তার পেটে অপারেশনের কথা বলেছেন। পরিবারটা আমাকে খুঁজে দিতে বলল। এই সাইটে সার্জনদের জায়গা আলাদা পেজে, লক্ষ্মীপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকায়, মনের ডাক্তারদের থেকে পুরো আলাদা।
আমার এই দুশ্চিন্তা নিয়ে আসাটা কি যথেষ্ট কারণ?
আমি নিজেই ভয়ে ভয়ে এটা জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর সময় নষ্ট করছি কিনা। তিনি বললেন, যে দুশ্চিন্তা মানুষের সঙ্গে মেশা ফাঁকা করে দেয় আর কাজ নষ্ট করে, তা যথেষ্ট কারণ। এটা দাঁত বের করা পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই।
স্কুল আর পুরোনো রিপোর্টের কথা তিনি টানলেন কেন?
তিনি বললেন, এই ভয়টা গত মাসে জন্মায়নি, জোর পেয়েছে তখন। স্কুলের বছরগুলোসহ পুরো চেহারাটা তিনি দেখতে চান। রিপোর্টগুলো শরীরের জন্য, যেন শারীরিক কোনো দিক চোখ এড়িয়ে না যায়।
আমি যা বলি, তা কি তিনি বোনকে বলে দেবেন?
না। আমি চাইলেই শুধু বোন কোনো আসরে বসতে পারবে। একা মুখে যা বলি, তা এই ঘরের বাইরে যায় না। শুরু করার আগেই তিনি এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
মানুষ এড়িয়ে চলা কি একবারে ছাড়তে হবে?
না। তিনি বললেন, এড়িয়ে চলা যেভাবে ধীরে ধীরে বেড়েছে, কমবেও ধীরে। আমি যেসব জমায়েত সামলাতে পারি, সেই ক্রমে এগোব। কোনো সন্ধ্যা খারাপ গেলে তা ব্যর্থতা নয়, আসরে কথা বলার বিষয়।
পরে ওষুধ দিলে আর তাতে অসুবিধা হলে কী করব?
তাঁকে জানাব, সোজা করে, আগেভাগেই। তিনি বলেছেন, ওষুধের অসুবিধা তাঁর জন্য তথ্য, আমার দোষ নয়। শেষ কথাটা তিনি নিজে বলবেন।
এই ভাবনা কোনো দিন নিজের ক্ষতি করার দিকে গেলে?
শেষের দিকে তিনি নিজেই বিষয়টা তুললেন। নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এসে তা ঠেকানো কঠিন মনে হলে একা বসে থাকা যাবে না। কাছের কাউকে তখনই জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। ভয় বা অস্থিরতা হাতের বাইরে চলে গেলেও সেদিনই। টানা অনেক রাত ঘুম পুরোপুরি উধাও হলেও অপেক্ষা করা যাবে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.