সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - খুলনা

হাত ধুতে ধুতে আঙুল ফেটে গেছে, তবু থামতে পারি না

আমার বয়স ছত্রিশ। খুলনায় স্বামী, দুই সন্তান আর শাশুড়িকে নিয়ে আমার সংসার। প্রায় দুই বছর আগে ছোট ছেলেটার জ্বর আর বমি নিয়ে এক সপ্তাহ খুব ধকল গিয়েছিল। সেই সপ্তাহে ঘরের সবকিছু দুইবার করে ধুয়েছি, হাত ঘষতে ঘষতে খসখসে হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকেই এই ধোয়ার ব্যাপারটা আমার ভেতরে গেঁথে গেছে। কেন গেছে, আমি নিজেও বুঝি না।

এখন সারা দিন আমার বেসিনের কল ছাড়াই থাকে। দরজার হাতল ছুঁলেই হাত ধুতে যাই। সিঁড়ির রেলিং ধরলেও সাবান দিয়ে ঘষি, কখনো গুঁড়া সাবান পর্যন্ত ব্যবহার করি, কারণ হাত তখনও নোংরা মনে হয়। আঙুলের চামড়া ফেটে জ্বালা করে। শাশুড়ি গুনে রাখেন, দিনে কতবার কলের কাছে গেলাম। সবচেয়ে ভয় পাই যখন দেখি, আমার ছোট মেয়েটাও আমার দেখাদেখি হাত ধুতে শিখছে।

আমাদের পরিবারের ডাক্তার ফাটা আঙুলে মলম লাগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই ধোয়ার এত জোর আমার ওপর কেন। উত্তর দিতে পারিনি। তিনি বলেছিলেন, মনের কষ্ট নিয়ে কাজ করেন এমন ডাক্তার হয়তো এটা ভালো বুঝবেন, তাঁর সঙ্গে বসে কথা বলা উচিত। এমন ডাক্তার কোথায় বসেন জানতাম না। এক সন্ধ্যায় স্বামী ফোনে খুঁজে DoctorBD24-তে খুলনার ডাক্তারদের তালিকা বের করে দুজনে মিলে নামগুলো দেখতে লাগলাম।

5 available specialists found

Dr. Zillur Kamal

Qualifications MBBS, DPM, and MSc in Psychology, he has also completed specialized training in psychiatry (STOP) from NIMHANS, India. As a Former Assistant Professor of Forensic Psychiatry at the National Institute of Mental
অবস্থান Dhaka, ঢাকা

Prof. Dr. Md. Sultan -E- Monzur

Qualifications MBBS, FCPS (Psychiatry), MCPS, and M
অবস্থান খুলনা সিটি, খুলনা

Dr. Shammy Akhter

Qualifications MBBS, MCPS (Psychiatry), FCPS (Psychiatry), MAPA (USA)
অবস্থান খুলনা সিটি, খুলনা

Dr. Mohammad Hasan

Qualifications MBBS, BCS (Health), MD (Psychiatry)
অবস্থান খুলনা সিটি, খুলনা

হাত ধুতে ধুতে আঙুল ফেটে গেছে, তবু থামতে পারি না

প্রথম বসায় আমার কথাই চলল বেশি

তিনি শুরুতেই খাতা টেনে নেননি। কোথা থেকে শুরু করব বললে আমি সেই জ্বরের সপ্তাহটাই বললাম, পুরোটা। এখন দিনে কতবার ধুই জানতে চাইলেন। বললাম, বিশবারের কম নয়, কোনো দিন আরও বেশি। তিনি মাঝখানে থামাননি। শেষ হলে তবেই তিনি পরের প্রশ্নে গেলেন।

খোঁজ নিলেন ঘুম, সংসার আর শরীরের

আমার ঘুম কেমন যায় জিজ্ঞেস করলেন। ছোটবেলায় এমন কিছু ছিল কিনা, পরিবারের কারো গায়ে এ ধরনের অভ্যাসের ছাপ আছে কিনা, তাও জানতে চাইলেন। যে বছর রক্তচাপ বেড়েছিল, সেই রিপোর্টগুলোর কথা উঠল। বললেন, শরীরের দিকে কোনো কারণ লুকিয়ে থাকলে সেই অংশ আগে সেই কাজের ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়ে নিতে হবে।

তাড়াতাড়ি ছাড় মিলবে, এমন কথা তিনি দেননি

দুই বছরে গড়ে ওঠা ভয় আর অভ্যাস এক সপ্তাহে আলগা হয় না, তিনি সোজা বললেন। তাঁর ঠিক করা ব্যবধানে আবার বসতে হবে, মাঝের দিনগুলো কেমন গেল তা নিয়ে কথা হবে। মাথার ভেতরের এই ধাক্কাটা কমাতে ওষুধও লাগতে পারে। লিখলে তার নিয়মকানুনও তিনি বুঝিয়ে দেবেন।

ওষুধটা নিয়ে তাঁর কড়া নির্দেশ

একটা ওষুধ তিনি লিখে দিয়েছেন। খেতে হবে তাঁর বেঁধে দেওয়া সময়ে, তাঁর দেওয়া পরিমাণে, ভালো দিনেও, খারাপ দিনেও। একটু শান্ত লাগছে বলেই নিজে থেকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। হঠাৎ থামিয়ে দিলে অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ হতে পারে। পেটে বা ঘুমে অসুবিধা হলে তাঁকে জানাতে হবে, পরের আসরে, দরকার হলে আগেই। বদল যা হওয়ার, তিনি শুনে ঠিক করবেন।

শাশুড়ির দরকার পড়ল আরেক ধরনের ডাক্তারের

শাশুড়ির কোমরের কাছে একটা ফোলা আছে, তাঁর ডাক্তার বলেছেন অপারেশন লাগবে। তাঁর জন্য খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, এই সাইটে সেই কাজের তালিকা আলাদা। খুলনার জেনারেল সার্জনদের পেজে দুটো নাম টুকে রাখলাম, তাঁর ডাক্তারকে দেখানোর জন্য।

এত ছোট বিষয় নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া কি ঠিক হলো?

আমি নিজেই লজ্জা নিয়ে এটা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, যে কষ্ট সারা দিন চালায় আর চামড়া ফাটিয়ে দেয়, তা ছোট নয়। এই ঘরে সব মাপের কষ্টই শোনা হয়।

ঘুম আর শরীরের কথা তিনি টানলেন কেন?

তিনি বললেন, মন শরীর থেকে আলাদা ঘরে থাকে না। রাতের ঘুম খারাপ হলে ধোয়ার তাড়া আরও বাড়ে। আবার শরীরের কোনো গোলমাল নিচে বসে পুরোটা চালাতেও পারে।

স্বামী কি আমার সঙ্গে ঘরে বসতে পারবেন?

পারবেন, আমি চাইলেই। দ্বিতীয়বারের আসরে তিনি কিছুক্ষণ ছিলেন, বাইরে থেকে এই ধোয়ার চেহারা কেমন দেখায় বলেছেন। একা যা বলি, তা আমার আর ডাক্তারের মধ্যেই থাকে।

ধোয়ার এই ধরাটা আলগা হতে কতদিন লাগবে?

তিনি কোনো তারিখ দেননি, আর মিথ্যে ভরসা দেননি বলে আমি খুশি। আগে ছোট ছোট বদল গুনতে হবে, তিনি বললেন। ভয় ছাড়া হাতল ছোঁয়া। সকালে কলের কাছে কম যাওয়া।

ওষুধে দিনে ঘুম পায়। নিজে বন্ধ করে দেব?

না। তিনি আগেই বলেছিলেন, ঘুম পাওয়াটা জানানোর বিষয়, নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নয়। আমি চেম্বারে ফোন করে জানিয়েছি, তিনি নিজে ওষুধের সময়টা বদলে দিয়েছেন।

কোনো দিন নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে কী করব?

যাওয়ার আগে তিনি এটা পরিষ্কার করে বলেছেন। এমন চিন্তা একা বয়ে বেড়ানো যাবে না, লজ্জায় লুকিয়েও রাখা যাবে না। ঘরের কাউকে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। পরপর অনেক রাত ঘুম পুরোপুরি উধাও হয়ে গেলেও সেদিনই যেতে হবে। হঠাৎ খাওয়া, গোসল আর ঘরের রোজকার কাজ সামলাতে না পারলেও তাই।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.