সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - জামালপুর

মেয়ে ঘুমিয়ে থাকে, আমি জেগে ওর শ্বাস শুনি

আমার বয়স ঊনত্রিশ। মেয়ের বয়স চার মাস। আমাদের প্রথম সন্তান সে, জন্ম জামালপুরের হাসপাতালে। এখন পুরো বাড়ি তাকে ঘিরেই চলে। সবাই বলেছিল, প্রথম কয়েক মাস কষ্ট হবে। কিন্তু কান্নার কথাটা কেউ বলেনি। আমার কান্নার কথা বলছি। তার কাপড় গোছাতে গোছাতে কাঁদি, খেতে বসে কাঁদি। মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই চোখ ভিজে ওঠে।

সবচেয়ে কঠিন হলো রাতগুলো। মেয়ে এখন দুই তিন ঘণ্টা করে ঘুমায়। আমি পারি না। পাশে শুয়ে তার শ্বাসের শব্দ শুনি। শ্বাস ধীর হয়ে এলেই বুকে হাত রেখে দেখি উঠছে কিনা। মনে হয়, আমি গভীর ঘুমে গেলে ওর কিছু হয়ে গেলে কে টের পাবে? সকালে উঠে শরীরে কোনো শক্তি থাকে না। দিনের বেলা শাশুড়ির সঙ্গে ছোট কথায় রাগ হয়ে যায়। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের ওপরই খারাপ লাগে।

আমার স্বামী কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখে শেষে মুখ খুললেন। তিনি বললেন, শুধু ক্লান্তিতে মানুষের এমন হয় না। আমাদের পরিবারের ডাক্তারও একই কথা বললেন। তিনি জানালেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হলেন এমন ডাক্তার, যাঁর কাজ মনের কষ্ট নিয়ে। কথাটা আমাদের বাড়িতে নতুন ছিল। এক সন্ধ্যায় বোন মেয়েকে কোলে নিল, আর আমি আর আমার স্বামী তাঁর ফোনে খুঁজতে বসলাম। DoctorBD24-তে জামালপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে সেই ধরনের ডাক্তার খুঁজতে লাগলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

মেয়ে ঘুমিয়ে থাকে, আমি জেগে ওর শ্বাস শুনি

তিনি প্রথমে আমার রাতের কথা জানতে চাইলেন

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথমে আমার ঘুমের খবর নিলেন। তারপর জানতে চাইলেন, বাড়িতে দিনটা কীভাবে কাটে, বাচ্চার কাজে কে কে সাহায্য করে। প্রসবের আগের আমার অবস্থা, শরীরের কথা, বাড়িতে রাখা রিপোর্টগুলোর কথাও তিনি জিজ্ঞেস করলেন। প্রথম অংশে আমার স্বামী আমাদের সঙ্গে বসেছিলেন, কারণ আমি চেয়েছিলাম তিনি থাকুন।

এক বসায় সব ঠিক হবে, এমন কথা তিনি দেননি

তিনি সোজা করে বললেন, কয়েক মাস ধরে ভেঙে পড়া মন এক সপ্তাহে জোড়া লাগে না। তাঁর ঠিক করা ব্যবধানে আবার বসতে হবে। বসে কথা বলার মধ্যে দিয়েই আমরা ভয়টা একটু একটু করে দেখব। শরীরের কোনো দিক এর পেছনে থাকলে সেই কাজের ডাক্তারের কাছ থেকে আগে দেখিয়ে নিতে হবে, তাও তিনি খোলাখুলি বললেন।

ওষুধটা আমি খাই তাঁর লেখা নিয়ম ধরেই

দ্বিতীয় বসায় তিনি একটা ওষুধ যোগ করলেন। আমি তা ঠিক তাঁর লেখা অনুযায়ী খাই, তাঁর দেওয়া সময়ে। যেদিন নিজেকে একটু সামলে ওঠা মনে হয়, সেদিনও নিজে থেকে বন্ধ করি না। হঠাৎ একেবারে ছেড়ে দিলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। ওষুধে কোনো অসুবিধা হলে আমার কাজ তাঁকে জানানো। মাত্রা বদলানোর সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

স্বামী কতটা শুনবেন, ঠিক করি আমি

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমার স্বামী কোনো কোনো বসায় থাকবেন কিনা, কারণ সবচেয়ে খারাপ রাতগুলো তিনিই দেখেন। সিদ্ধান্তটা আমার কাছেই রইল। একা তাঁর কাছে যা বলি, তা বাড়িতে গিয়ে বলা হয় না। স্বামী বসলে শুধু সেই অংশেই থাকেন, যেটা আমি ভাগ করতে রাজি।

আমার খালাতো বোনের দরকার ছিল অন্য তালিকা

প্রথম সন্ধ্যায় খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, সাইটটায় প্রতিটি ধরনের ডাক্তার আলাদা তালিকায়। আমার খালাতো বোনের পেটে একটা ফোলা আছে, অপারেশন লাগবে। তার পরিবার দেখছিল জামালপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা। আমার কষ্ট মনের, তাই আমরা নিজেদের তালিকাতেই থাকলাম।

তিনি কি ভাববেন আমি ভালো মা নই?

যাওয়ার পথে এই ভয়টাই বুকে ছিল। তিনি আমাকে দোষ দেননি। তিনি বললেন, নতুন মায়েদের অনেকেই এমন সময়ের মধ্যে দিয়ে যান। আর যারা এসে কথা বলেন, তারা সন্তানের জন্যই ঠিক কাজটা করছেন।

প্রসব আর শরীরের কথা তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন?

তিনি বললেন, শরীর আর মন আলাদা ঘর নয়। সেরে ওঠার পথে থাকা শরীর, কিংবা প্রসবের পর থেকে যাওয়া কোনো সমস্যা, ঘুম আর মনের ওপর চাপ ফেলতে পারে। তাঁর প্রশ্ন সেদিকে গেলে তিনি সেই পরীক্ষার জন্য ঠিক ডাক্তারের কাছে পাঠাবেন।

স্বামী কি প্রতিবার সঙ্গে বসতে পারবেন?

পারবেন, আমি চাইলে। কোনো বসায় তাঁকে পাশে চাইতে পারি, কোনো বসায় না-ও চাইতে পারি। এই দরজাটা তিনি আমার হাতেই রেখেছেন।

আগের মতো ঘুম কবে ফিরবে?

তিনি কোনো তারিখ দেননি। তিনি বললেন, ঘুম যেভাবে টুকরো টুকরো করে গেছে, ফিরতেও পারে সেভাবে। প্রতি বসায় আমরা রাতগুলো মিলিয়ে দেখব।

বসার মাঝখানে কান্না আবার বেড়ে গেলে কী করব?

তাহলে পরের তারিখ পর্যন্ত চুপচাপ সহ্য করে বসে থাকতে হবে না। আগেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কী বদলেছে তা পরিষ্কার করে জানাতে হবে।

নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এসে তা ঠেকানো কঠিন হলে সেদিন কী করব?

এমন চিন্তা এক রাতও একা বয়ে বেড়ানো যাবে না। বাড়ির কাউকে, স্বামীকে হোক শাশুড়িকে হোক, তখনই জানাতে হবে। আর সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। ঘুম একেবারে না হওয়া রাতের পর রাত গেলেও সেদিনই যেতে হবে, চিন্তা যদি থামতে না চায়। হঠাৎ নিজের গোসল, খাওয়া কিংবা বাচ্চার যত্ন সামলানো অসম্ভব হয়ে গেলেও তাই। ভয় হাতের বাইরে চলে গেলেও অপেক্ষা করা যাবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.