সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - হবিগঞ্জ
পাঁচ মিনিটও একটানা চুপ করে বসে থাকতে পারি না
আমার বয়স ছাপ্পান্ন। হবিগঞ্জের কাছে এক চা-বাগানে কাজ করি, বাবাও এই কাজই করতেন। কয়েক মাস ধরে আমি কিছুতেই স্থির হতে পারছি না। বসলে পা দুটো নড়তেই থাকে। হাত দিয়ে এটা-সেটা হাতড়াই। একটা ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই মন আরেকটায় লাফ দিয়ে চলে যায়। আগের আমি এমন ছিলাম না।
ঘুম হয় ছোট ছোট টুকরোয়। রাতে তিন-চারবার জেগে উঠে ঘরের শব্দ শুনি। সকালে উঠে শরীর ক্লান্ত থাকে, ক্লান্তি বাড়লে অস্থিরতাও বাড়ে। বাগানের সারিতে এক কাজ শুরু করে শেষ না হতেই আরেকটায় চলে যাই। স্ত্রী বলেন, তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি উত্তর দিয়ে ফেলি। মনটা সারাক্ষণ যেন ছুটে বেড়ায়।
আমাদের পরিবারের ডাক্তার বহু বছর ধরে আমাকে চেনেন। এসব কথা তাঁকে বলায় তিনি বললেন, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে শোনানো দরকার। মনের কষ্ট নিয়ে কাজ করেন এমন ডাক্তারই তিনি। ভাইপোকে বললাম ফোনে একটু খুঁজে দিতে। দুজনে DoctorBD24-তে হবিগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা খুলে তিনি যেমন ডাক্তারের কথা বলেছিলেন, তেমন কাউকে খুঁজতে লাগলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
পাঁচ মিনিটও একটানা চুপ করে বসে থাকতে পারি না
আমি বসে থাকতে পারছি না, তিনি তা আগেই টের পেলেন
সাক্ষাতের প্রথম কয়েক মিনিটেই আমি বসে স্থির থাকতে পারলাম না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তা দেখে বললেন, জোর করে বসে থাকতে হবে না। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমি কথা বললাম। ভাঙা ঘুম আর সারাদিনের অস্থিরতার কথা বললাম। তিনি মাঝখানে কিছু জিজ্ঞেস না করে শেষ পর্যন্ত শুনলেন।
বাগানের কাজ, ঘুম আর পুরোনো দিনের খবর নিলেন
তিনি জানতে চাইলেন বাগানে আমার দিন কেমন যায়, রাতগুলো কেমন কাটে। পরিবারের কথা আর শরীরের অবস্থাও জিজ্ঞেস করলেন। আগেও এমন অবস্থা এসেছিল কিনা, সেটাও শুনলেন। বছর ধরে অন্য কোনো অসুখে আমি কী চিকিৎসা নিয়েছি, তাও তিনি জেনে নিলেন।
তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাওয়ার ভরসা তিনি দিলেন না
তিনি বললেন, কয়েক মাস ধরে অস্থির থাকা মন কয়েক দিনে শান্ত হয় না। নির্দিষ্ট ব্যবধানে বসে কথা হবে, সপ্তাহগুলো কেমন গেল তা দেখা হবে। শুরুতে শুধু কথা বলার আসরই চলবে। ওষুধ লাগবে মনে হলে তিনি আগেই বুঝিয়ে বলবেন, তারপর শুরু হবে।
ওষুধ লিখলে তা চলবে শুধু তাঁর লেখা মেনেই
শুরুতেই তিনি নিয়মটা পরিষ্কার করে দিলেন। তিনি যা লিখবেন, ঠিক সেভাবেই খেতে হবে, যতদিন তিনি বলেন ততদিন। কোনো অসুবিধা হলে তাঁকে জানাতে হবে, বদলানোর সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন। কয়েকটা ভালো দিন গেল বলেই হঠাৎ নিজে থেকে বন্ধ করে দেওয়া চলবে না।
প্রথম সন্ধ্যায় ভুল তালিকায় ঢুকে পড়েছিলাম
প্রথম সন্ধ্যায় খুঁজতে গিয়ে ভাইপো আর আমি অন্য একটা তালিকায় ঢুকে পড়ি। সেখানে ছিল হবিগঞ্জের জেনারেল সার্জনদের নাম, যাঁরা অপারেশন লাগে এমন শারীরিক সমস্যার ডাক্তার। দুজনে হেসে সেটা বন্ধ করে ফিরে গেলাম আসল দরকারের ডাক্তার খুঁজতে।
আমার সমস্যা অস্থিরতা, তাহলে তিনি ঘুম নিয়ে এত কথা জিজ্ঞেস করেন কেন?
তিনি বললেন, রাত আর দিন একসূত্রে বাঁধা। ঘুম ভাঙলে মন অস্থির হয়, মন অস্থির হলে ঘুমও ভাঙে। তিনি দুদিকটাই দেখতে চান।
এই অস্থিরতা কি শরীরের কোনো সমস্যা থেকে আসতে পারে?
পারে, তিনি নিজেই সেকথা বললেন। তাই তিনি আমার শরীরের অবস্থা আর আগের চিকিৎসার কথা এত করে জিজ্ঞেস করেছেন। শরীরে কোনো কারণ সন্দেহ হলে তিনি আগে আরেকজন ডাক্তারের কাছ থেকে তা যাচাই করিয়ে নেবেন।
স্ত্রী কি আমার সঙ্গে কোনো আসরে বসতে পারবেন?
শুধু আমি চাইলেই। এই অস্থির রূপটা স্ত্রীই সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন। আমি রাজি হলে তিনি কোনো আসরের এক অংশে থাকতে পারবেন। একা যা বলি, তা আমার অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে যাবে না।
আসরগুলো থেকে লাভ হচ্ছে, তা বুঝব কী করে?
তিনি বললেন, বুঝা যাবে ছোট ছোট বদলে। ঘুম একটানা একটু লম্বা হওয়া। একবারে বসে খাবার শেষ করা। বাগানে একটা কাজ শেষ করে তারপর আরেকটা ধরা। আসরে আসরে আমরা এসব মিলিয়ে দেখব।
পরের সাক্ষাতের আগেই অস্থিরতা বেড়ে গেলে কী করব?
চুপচাপ সহ্য করে বসে থাকতে হবে না। আগেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কী বদলেছে তা সোজা করে জানাতে হবে। নির্দিষ্ট তারিখের চেয়ে আগে শুনতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন।
নিজের ক্ষতি করার মতো খারাপ চিন্তা যেদিন চেপে বসবে, সেদিন কী করব?
এমন দিন একা বয়ে বেড়ানো যাবে না। স্ত্রীকে হোক, পাশের কাউকে হোক, সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। একদম ঘুম না হওয়া রাতের পর রাত গেলেও তাই, মন যদি কিছুতেই ধীর না হয়। হঠাৎ গোসল, খাওয়া আর দিনের সহজ কাজগুলো সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠলেও সেদিনই। ভয় আর অস্থিরতা হাতের বাইরে চলে গেলে বাসায় বসে অপেক্ষা করা একদমই নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.