সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - ফেনী

বিদেশ থেকে ফিরেও মনটা কোথাও থিতু হচ্ছে না

আমার বয়স পঁয়ত্রিশ। আট বছর বিদেশে কাজ করে কয়েক মাস আগে ফেনীতে নিজের বাড়ি ফিরেছি। ভেবেছিলাম কষ্টের বছরগুলো শেষ। প্রথম কয়েক দিন ভালোই লাগছিল। শান্তির বদলে পেলাম এক অস্থিরতা, যা সারা বাড়ি আমার পেছন পেছন ঘোরে। বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকতে পারি না। মন এক বিষয় থেকে আরেক বিষয়ে লাফ দেয়।

খাবার টেবিলে সবার আগে খাওয়া শেষ করে উঠে যাই। একটু দেরি হলেই মা আর ভাইয়ের ওপর গলা চড়ে যায়। কাজ শুরু করি, কোনো কাগজের কাজ, ছোট দোকানের পরিকল্পনা, সব অর্ধেক ফেলে রাখি। রাতে ঘুম দুই তিনবার ভাঙে, তারপর টাকা আর পরিকল্পনার হিসাব মাথায় ঘোরে।

বড় ভাই কয়েক সপ্তাহ দেখে শেষে সোজা কথা বললেন। তিনি বললেন, এটা আলস্য নয়, ডাক্তারকে শোনানো দরকার। তিনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কথা বলছিলেন, যিনি মনের কষ্টের চিকিৎসা করেন। এখানে এমন ডাক্তার আমি চিনতাম না। এক সন্ধ্যায় ফোনে খুঁজতে গিয়ে DoctorBD24-তে ফেনীর ডাক্তারদের তালিকা খুললাম, মনের বিষয়ে কে রোগী দেখেন তা খুঁজতে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

বিদেশ থেকে ফিরেও মনটা কোথাও থিতু হচ্ছে না

তিনি বিদেশের বছরগুলোর কথা খুঁটিয়ে জানতে চাইলেন

প্রথম বসায় তিনি পুরো গল্পটা শুনতে চাইলেন। বিদেশে কী কাজ করতাম, সেখানে ঘুম কেমন ছিল, এই অস্থিরতা কবে থেকে। এখন আমার দিন কীভাবে কাটে, ফিরে এসে কী করার পরিকল্পনা ছিল, সব জানতে চাইলেন। তিনি বলার চেয়ে শুনলেন বেশি।

মন থিতু হতে সময় লাগে, তিনি বললেন

তিনি বললেন, শরীর বাড়ি ফিরলেই মন সঙ্গে সঙ্গে ফেরে না। নিয়মিত বসে কথা হবে, সপ্তাহগুলো কেমন যায় দেখা হবে। শুধু কথায় না কমলে পরে ওষুধ যোগ হতে পারে। কত তাড়াতাড়ি ফল আসবে, সেই প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি।

শরীরের কথাও তিনি বাদ দেননি

তিনি আমার আগের অসুখ আর বিদেশে থাকতে করানো পরীক্ষার কাগজ বাসায় আছে কিনা জানতে চাইলেন। অস্থিরতার পেছনে শরীরের কোনো কারণ থাকলে সেই দিকটা আগে অন্য একজন ডাক্তারের দেখা উচিত, তিনি বললেন। অনুমান না করে যাচাই করাটাই তাঁর পথ।

ওষুধ যোগ হওয়ার পর নিয়ম একটাই

দ্বিতীয় বসায় তিনি একটা ওষুধ যোগ করে খাওয়ার নিয়মটা লিখে দিলেন। আমি সেই লেখা ধরেই চলি। এক সপ্তাহ শান্ত লাগল বলেই নিজে থেকে হঠাৎ বন্ধ করা চলবে না। অসুবিধা হলে তাঁকে জানাব, বদলের সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

সাইটটায় ডাক্তাররা কাজ অনুযায়ী ভাগ করা

প্রথম সন্ধ্যার খোঁজেই বুঝলাম, সাইটটায় প্রতিটি ধরনের ডাক্তারের তালিকা আলাদা। অপারেশন আর শরীরের সমস্যার ডাক্তাররা আছেন ফেনীর জেনারেল সার্জনদের তালিকায়। আমার কষ্ট অস্থির মন নিয়ে, তাই দরকারি তালিকাতেই ফিরে গেলাম।

ভেবেছিলাম বাড়ি ফিরলেই সব ঠিক হবে। এখানে এসে আরও খারাপ লাগছে কেন?

তিনি বললেন, অনেকেই এমন অনুভব করে, শুধু মুখে বলে না। শরীর এক দিনে বাড়ি পৌঁছায়। মনকে বিশ্বাস করতে সময় লাগে যে কঠিন বছরগুলো শেষ।

শুধু কথা বললেই কি কিছু বদলাবে?

আমিও তাঁকে এই প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেন, আসরগুলোতেই আমরা খুঁজি অস্থিরতাটা কীসে চলছে। বদল ধীর, তবে বিচার হবে আমার দিনগুলো দিয়ে, কথা দিয়ে নয়।

বিদেশের বছরগুলো নিয়ে তিনি এত জানতে চাইলেন কেন?

তিনি বললেন, কষ্টটা বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়নি। সেখানে কীভাবে থাকতাম, ঘুমাতাম, পুরোটা জেনে তিনি ছবিটা সাজাতে চেয়েছেন।

ভাইকে কি কোনো বসায় সঙ্গে রাখা যাবে?

যাবে, আমি চাইলেই। প্রথম বসায় তিনি এসেছিলেন আমার ইচ্ছাতেই। একা যা বলি, তা ডাক্তার আর আমার মধ্যেই থাকে।

দোকান শুরু করে কাজে ফিরব কবে?

তিনি বলেছেন, মন এত অস্থির থাকতে বড় সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো না করতে। ঘুমটা একটু থিতু হলে দোকানের পরিকল্পনা আবার তোলা হবে।

অস্থিরতা যদি কখনো নিজের ক্ষতি করার চিন্তায় গিয়ে ঠেকে?

সেটা পরের বসার বিষয় নয়, সেদিনেরই হাসপাতালের বিষয়। কাছের কাউকে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। টানা কয়েক রাত চোখে ঘুম না নামলেও তাই। হঠাৎ গোসল, খাওয়া, দিনের সাধারণ কাজ সামলানো অসম্ভব হয়ে গেলেও সেদিনই যেতে হবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.