সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - চট্টগ্রাম

ছোট কথায় রাগ উঠে যায়, ভুগছে আমার পরিবার

আমি চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করি, এই কাজে কেটে গেছে বিশ বছর। গত এক বছর ধরে আমার ভেতরে কিছু একটা বদলে গেছে। হাত থেকে যন্ত্র পড়ে গেলে, খাবার দিতে একটু দেরি হলে, ছেলে একই জিজ্ঞাসা দুবার করলে, নিজের অজান্তেই গলা চড়ে যায়। স্ত্রী আর বাচ্চাদের ওপর এমন বিষয়ে চিৎকার করি, যেগুলো নিয়ে আওয়াজ তোলারই কথা না।

চিৎকারের পর লজ্জাটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন থেকে যায় না। খাবার টেবিলে চুপ করে বসে থাকি, কারো চোখের দিকে ঠিকমতো তাকাতে পারি না। ডকে গিয়েও ছোট ছেলেগুলোর সঙ্গে খিটখিটে আচরণ করি, দুবার ফোরম্যান আমাকে আড়ালে ডেকে কথা বলেছেন। রাতে ঘুমও ঠিকমতো হয় না। সারাদিনের ঘটনাগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে, রাগটা তখন অন্য কারো চেয়ে নিজের ওপরই বেশি।

শেষ পর্যন্ত কথাটা স্ত্রী-ই সোজা করে বললেন। তিনি বললেন, এই রাগ আরও বাড়ার আগেই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো দরকার। তাঁর কথায় যুক্তি ছিল, আমি রাজি হলাম। সেদিন রাতে ফোনে চট্টগ্রামের ডাক্তার খোঁজার DoctorBD24 পেজটা খুলে মনের ডাক্তারদের নাম খুঁজতে লাগলাম।

1 available specialists found

Dr. Arafat Azim

Qualifications MBBS, BCS (Health), MD (Psychiatry)
অবস্থান Chittagong, চট্টগ্রাম

ছোট কথায় রাগ উঠে যায়, ভুগছে আমার পরিবার

তিনি জানতে চাইলেন, চিৎকারের আগের মিনিটগুলোতে কী ঘটে

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আমাকে জিজ্ঞেস করেননি, আমি রাগী মানুষ কিনা। তিনি বললেন, শেষবার যেদিন চিৎকার করেছিলাম, সেই দিনটা মিনিট ধরে ধরে বলতে। সেদিন ডকে কী হয়েছিল, ছেলে কী বলেছিল, শরীরের কোথায় রাগটা ওঠা টের পেয়েছিলাম। এমন প্রশ্ন আমাকে আগে কেউ করেনি।

তারপর তিনি আমার দিনগুলো ঘাঁটলেন। ঘুম কেমন হয়, ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত লাগে কিনা। বন্দরের কাজে কী কী বদলেছে। আমার বাবারও এমন মেজাজ ছিল কিনা। ডকের কাছের ক্লিনিকে করা রক্তচাপের পরীক্ষা আর বাসায় রাখা পুরোনো একটা আঘাতের রিপোর্টের কথাও তিনি জানতে চাইলেন।

সামনের সপ্তাহগুলোর জন্য তিনি যা ঠিক করলেন

তিনি বললেন, নিয়মিত বসে কথা বলা হবে। আর রাগটা গলায় ওঠার আগেই যেন নিজে টের পাই, সেই চেষ্টা চলবে। মেজাজ একেবারে মুছে যাবে, এমন প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। এই বদল ধীরে আসে, ওঠানামা করে। বোঝা যাবে বাসার হাওয়া বদলাচ্ছে কিনা। পরে যদি মনে করেন ওষুধ লাগবে, তখন সেটা যোগ হবে।

স্ত্রী এই প্রক্রিয়ায় থাকবেন আমার অনুমতি নিয়েই

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোনোদিন স্ত্রীকে সঙ্গে বসাতে চাই কিনা, কারণ এই রূপটা তিনিই সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন। আমি বললাম, এখনই তৈরি নই। তিনি মাথা নেড়ে বললেন, সেই দরজা খোলা থাকল। আর আমার সাক্ষাতের কোনো কথা আমার সম্মতি ছাড়া স্ত্রীর কাছে যাবে না।

ওষুধ লিখলে তা চলবে তাঁর কথামতোই

এখন পর্যন্ত আমার জন্য কোনো ওষুধ লেখা হয়নি। তিনি যা লিখবেন, আমি ঠিক সেভাবেই খাব, লেখা সময়ে, যতদিন তিনি বলবেন। এক সপ্তাহ মন শান্ত আছে মানেই নিজে থেকে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। কোনো অসুবিধা হলে তাঁকেই জানাতে হবে, বদল বা বন্ধের সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

ঠিক তালিকাটা পেতে এক সন্ধ্যাই লেগেছিল

আমি ইন্টারনেটে তেমন পারদর্শী নই, তাই প্রথম রাতে ছেলে খুঁজতে সাহায্য করল। DoctorBD24-এ ডাক্তারদের বিশেষজ্ঞতা অনুযায়ী সাজানো আছে। মনের ডাক্তারদের পাশেই দেখলাম চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের আরেকটি তালিকা, যেটা সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যার জন্য।

খারাপ মেজাজ কি সত্যিই ডাক্তার দেখানোর মতো বিষয়?

লজ্জা পেয়ে আমিই তাঁকে এই প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেন, যে মেজাজ পরিবার আর কাজের ক্ষতি করছে, সেটা ডাক্তারের কাছে তোলার মতো বিষয়। নিজে চেয়েও আটকানো না গেলে তো আরও বেশি।

তিনি কি আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইবেন?

কেবল আমি রাজি হলেই। তিনি বললেন, স্ত্রী থাকলে আমার দিনগুলো বুঝতে তাঁর সুবিধা হতে পারে। কিন্তু সাক্ষাৎগুলো আমার নিজের। আমি অনুমতি না দিলে কোনো কথা তাঁর কাছে পৌঁছাবে না।

এর পেছনে শরীরের কোনো সমস্যা থাকতে পারে?

সেই সম্ভাবনার কথা তিনি নিজেই তুলেছেন। তিনি বললেন, ঘুমের অভাব আর শরীরের কোনো কোনো সমস্যায় মানুষের ধৈর্য কমে যেতে পারে। তেমন কিছুর সন্দেহ হলে অন্য কিছুর আগে তিনি আরেকজন ডাক্তারকে দিয়ে আমাকে পরীক্ষা করিয়ে নেবেন।

বাসার পরিবেশ বদলাতে কয়টা সাক্ষাৎ লাগবে?

তিনি আমার জন্য সংখ্যা গুনতে রাজি হননি। তিনি বললেন, বোঝা যাবে স্ত্রীর মুখ দেখে আর আমার নিজের সন্ধ্যাগুলো দেখে, কোনো সংখ্যা দিয়ে নয়।

ডকের কাজের পাশাপাশি এটা চালানো যাবে?

যাবে। আমার সাক্ষাৎগুলো শিফটের সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করা। তিনি জানেন, বন্দর কারো জন্য থামে না। শুধু বলেছেন, ব্যস্ত সপ্তাহগুলোতে যেন সাক্ষাৎ বাদ না দিই, কারণ তখনই এগুলো বেশি দরকার।

নিজের ক্ষতি করার মতো অন্ধকার চিন্তা এলে কী করব?

এটাকে সেদিনেরই জরুরি বিষয় হিসেবে ধরতে হবে। স্ত্রীকে হোক, কাছের কাউকে হোক, সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। পরপর কয়েক রাত একদম ঘুম না হয়ে মন অস্থির থাকলেও তাই। ভয় এমনভাবে চেপে বসলে যে খাওয়া, গোসল, দিনের মুখোমুখি হওয়াই কঠিন হয়ে যায়, সেদিনও ধৈর্য ধরে বসে থাকার দিন নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.