সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - বগুড়া
ছেলেরা বলে, আমি নাকি চুপ হয়ে গেছি
আমার বয়স আটান্ন। সারা জীবন বগুড়ার বাইরে জমিতে চাষ করে গত বছর অবসরে এসেছি। তারপর থেকে ভেতরটা কেমন যেন থমকে গেছে। বারান্দায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা না বলে কাটিয়ে দিই। কারো সাথে কথা বলতেও মন চায় না। বাজারের চায়ের দোকানে ত্রিশ বছর ধরে প্রতি সন্ধ্যায় যেতাম, কয়েক সপ্তাহ ধরে সেদিকে পা বাড়াইনি।
খাবারেও আগের মতো রুচি নেই। স্ত্রী প্লেট সামনে রাখেন বলে খাই। আগে ভোরে উঠে মাঠের দিকে হাঁটতে যেতাম, এখন সেই ইচ্ছাটাও হয় না। ঘুম হয় টুকরো টুকরো, ভোর হতে না হতেই ভেঙে যায়। ছেলেরা আমার মুখের দিকে চিন্তিত চোখে তাকায়। বড় ছেলে একদিন বলেই ফেলল, এটা শুধু বয়সের ব্যাপার হতে পারে না, ডাক্তারকে জানানো দরকার।
সে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কথা বলছিল, যিনি মনের কষ্টের চিকিৎসা করেন। কথাটা শুনে প্রথমে আমার অদ্ভুত লেগেছিল, মিথ্যে বলব না। তবু ছেলেকে খুঁজতে দিলাম। সে ফোনে DoctorBD24-তে বগুড়ার ডাক্তারদের তালিকা খুলে নামগুলো আমাকে দেখাল, তারপর দুজনে মিলে এক সকালে যাওয়ার দিন ঠিক করলাম।
8 available specialists found
Lt. Col. Dr. Md. Azad Hossain
Prof. Dr. Tapan Kumar Saha
অধ্যাপক ডাঃ মো. আবু তাহের
Lt. Col. Dr. Sohel Hasan Chowdhury
Dr. Md. Mahmudul Hasan
Dr. Shahriar Faruque
Alhaj Dr. Md. Altaf Hossain Mondal
Muhammad Abdul Hannan Lincoln
ছেলেরা বলে, আমি নাকি চুপ হয়ে গেছি
তিনি জানতে চাইলেন আমার দিন এখন কেমন কাটে
তিনি শুরু করলেন আমার দিন দিয়ে, চুপ থাকা দিয়ে নয়। চাষের সময় দিন কেমন কাটত, এখন কেমন কাটে। এই চুপ ভাবটা কবে থেকে, ঘুম কেমন, খাওয়া কেমন, আগের বছরগুলোতে কী কী অসুখ গেছে। বড় ছেলে পাশে বসে আমার ভুলে যাওয়া কথাগুলো ধরিয়ে দিচ্ছিল।
ছেলেরা বাইরে অপেক্ষা করল, আমার কথাতেই
একপর্যায়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ছেলেরা ঘরে থাকবে কিনা। সিদ্ধান্তটা আমার ওপরই ছাড়লেন। আমি বললাম, কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করুক। শেষের দিকে আমার অনুমতি নিয়ে তারা আবার ঢুকল। তখন তিনি আমার সামনেই তাদের বললেন, বাসায় কোন কোন বদলের দিকে তারা খেয়াল রাখবে।
পুরোনো রিপোর্ট বাসায় কী কী আছে, তিনি জানতে চাইলেন
আগের অসুখের কোন কোন রিপোর্ট বাড়িতে এখনো রাখা আছে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এই ভারী ভাবটা শরীরের দিক থেকেও আসতে পারে। লক্ষণ যদি সেদিকেই ইঙ্গিত করে, তাহলে প্রথমে আরেকজন ডাক্তারের কাছে সেই পরীক্ষা করিয়ে আসতে হবে। সেরকম হলে তিনি তা আমার কাছে লুকাবেন না।
ওষুধের মাত্রা বদলাবেন তিনি, আমি নয়
তিনি যে ওষুধ দিয়েছেন, তা লেখা অনুযায়ীই খেতে হবে। এক সকালে হালকা লাগল বলেই নিজের সিদ্ধান্তে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া চলবে না। অসুবিধা হলে পরের সাক্ষাতে জানাব। তারপর বদলানোর থাকলে তিনি বদলাবেন। এই অংশটা তাঁর কাজ, আমার নয়।
সার্জনদের তালিকা রয়েছে অন্য পাতায়
ছেলে যে সাইটে খুঁজেছিল, সেখানে ডাক্তাররা কাজ অনুযায়ী ভাগ করা। অপারেশন আর শরীরের সমস্যার ডাক্তাররা আছেন আলাদা তালিকায়, বগুড়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকায়। চুপ হয়ে যাওয়া মন তাঁদের কাজ নয়, তাই আমরা বেছে নেওয়া ডাক্তারের কাছেই রয়ে গেলাম।
এই চুপ হয়ে যাওয়া কি শুধু বয়সের কারণেই?
তিনি বললেন, শুধু বয়স দিয়ে সবটা ব্যাখ্যা হয় না। সেজন্যই নিশ্চিত করে কিছু বলার আগে তিনি পুরো কথা আর পুরোনো রিপোর্ট দেখতে চেয়েছেন।
চাষের দিনগুলোর কথা তিনি জানতে চাইলেন কেন?
তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সুস্থ থাকতে আমি কেমন ছিলাম। প্রতি সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে যাওয়া মানুষটাই তাঁর মাপকাঠি, সেখান থেকে আমি কতটা সরে এসেছি বুঝতে।
পরের বার গেলে কী হবে?
তিনি জানতে চাইবেন, মাঝের দিনগুলো আর রাতগুলো কেমন গেল। তারপর ঠিক করবেন পরের ব্যবধান কতটা হবে, কম নাকি বেশি।
কোনো কোনো সপ্তাহে আগের মতোই লাগে। তাহলে কি কাজ হচ্ছে না?
শুরুতেই তিনি এই কথাটা বলে রেখেছিলেন। এসব বিষয়ে বদল আসে ধীরে। মাঝে থমকে থাকা সপ্তাহ মানেই ভেতরে কিছু এগোচ্ছে না, তা নয়।
শুধু কথা বলার আসরের কথা বললেন। সেখানে কী হয়?
কেটে যাওয়া দিনগুলো নিয়ে কথা হয়। কী এড়িয়ে চলি, কোনটায় এখনও একটু ভালো লাগে। বেশির ভাগ আসরে তিনি শোনেন বেশি, বলেন কম।
কখনো নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে কী করতে হবে?
বাসার কাউকে সাথে সাথে জানাতে হবে, আর সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। পরের সাক্ষাৎ বা পরের সপ্তাহ পর্যন্ত নয়। খাওয়া আর গোসলের মতো কাজ সামলাতে না পারলেও তাই। রাতের পর রাত ঘুম না হয়ে মন ছুটতে থাকলেও সেদিনই। ছেলেরাও এটা জানে, কারণ তিনি আমার সামনে বসিয়েই তাদের বলেছেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.