সেরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ - বরিশাল
রাতভর মাথায় ভাবনা ঘোরে, সকালে ক্লাসে মন বসে না
আমার বয়স একত্রিশ বছর। বরিশালে একটা মেয়েদের স্কুলে শিক্ষকতা করি। কয়েক মাস ধরে আমার মনটা যেন বিশ্রাম নিতেই চায় না। একটা বড় দুশ্চিন্তা যে আছে, তা নয়। পড়ানোর পরিকল্পনা, মায়ের শরীর, সংসারের ধারদেনা, সব একসাথে মাথায় লাইন ধরে থাকে। রাতে শুয়ে পরের দিনের ক্লাসগুলো মনে মনে আবার সাজাতে থাকি।
সকাল হতে হতেই শরীর ক্লান্ত। ক্লাসে কথা বলতে বলতে মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলি। একই অনুচ্ছেদ দুইবার পড়েও বলতে পারি না কী পড়লাম। ছাত্রীরা এখন জিজ্ঞেস করে, আপা, শরীর খারাপ নাকি। বাসায় ছোট ভাইয়ের ওপর অকারণে রাগ উঠে যায়, তারপর সারাদিন নিজের ওপরই খারাপ লাগে।
স্কুলের এক বড় আপা, যাকে আমি খুব বিশ্বাস করি, আস্তে করে বললেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হলেন এমন ডাক্তার, যিনি ঠিক এই ধরনের কষ্টের চিকিৎসা করেন। একা একা বয়ে না বেড়িয়ে একবার কথা বলা উচিত। এর আগে এমন ডাক্তার আমি কখনো খুঁজিনি। সেদিন সন্ধ্যায় ফোনে DoctorBD24-তে বরিশালের ডাক্তারদের তালিকা খুলে ধীরে ধীরে দেখতে লাগলাম, কে মনের সমস্যা নিয়ে রোগী দেখেন।
2 available specialists found
অধ্যাপক ডাঃ তপন কুমার সাহা
অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ তারিকুল আলম (সুমন)
রাতভর মাথায় ভাবনা ঘোরে, সকালে ক্লাসে মন বসে না
তিনি আগে আমার কথা পুরোটা শুনলেন
প্রথম আসরে তিনি একবারও থামিয়ে দেননি। রাতের ঘুম, ক্লাসের অবস্থা, ভাইয়ের ওপর রাগ, সব আমি নিজের মতো করে বললাম। আমি থামলে তারপর তিনি জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন। ঘুম কেমন হয়, সারা দিন কীভাবে কাটে, বাসায় কে কে আছে, আগেও এমন হয়েছে কিনা।
শুধু মন নয়, শরীরের কথাও জিজ্ঞেস করলেন
কিছু প্রশ্নে আমি অবাক হয়েছিলাম। খাওয়ার রুচি, আগের অসুখ, বাসায় পুরোনো রিপোর্ট আছে কিনা, এসবও তিনি জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, শরীর আর মন আলাদা করে চলে না। শরীরের কোনো সমস্যা এর সাথে জুড়ে থাকলে সেই অংশটা আগে ভিন্ন একজন ডাক্তারকে দেখিয়ে নিতে হবে। থাকলে তিনি আমাকে স্পষ্ট করেই বলবেন।
একদিনে সব ঠিক হবে, এমন কথা তিনি দেননি
তিনি পরিষ্কার বললেন, বদল আসবে ধীরে। নির্দিষ্ট ব্যবধানে আবার আসতে হবে, প্রতিবার তিনি জানতে চাইবেন রাত আর স্কুলের দিন কেমন যাচ্ছে। কথা বলার নিয়মিত আসরের কথা তিনি বললেন। একটা ওষুধও দিলেন। কোন বদল দেখলে পরের সাক্ষাতের অপেক্ষা না করে আগেই জানাতে হবে, তাও বলে দিলেন।
ওষুধটা তাঁর লেখা মাত্রাতেই চলবে
ওষুধটা তিনি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই খেতে হবে। ভালো লাগছে বলে নিজে থেকে হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না। কোনো অসুবিধা হলে পরের আসরে তাঁকে জানাব, বেশি হলে তার আগেই। মাত্রা বদলানোর থাকলে সেটা তিনিই ঠিক করবেন।
অন্য ডাক্তারদের তালিকা আলাদা জায়গায়
খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, সাইটটায় নানা ধরনের ডাক্তার আলাদা আলাদা তালিকায় রাখা আছে। শরীরের যেসব সমস্যায় অপারেশন লাগে, সেগুলো রয়েছে বরিশালের জেনারেল সার্জনদের তালিকায়। আমার কষ্টটা মনের, তাই আমি প্রথমে খোলা তালিকাতেই থেকে গেলাম।
আমার সমস্যাটা ছোট মনে হবে কিনা ভয় পাচ্ছিলাম। আসলেই কি ছোট?
তিনি তা মনে করেননি। কয়েক মাসের ভাঙা ঘুম আর থামতে না চাওয়া মনই ডাক্তারের কাছে বসার যথেষ্ট কারণ। পুরোপুরি ভেঙে পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।
ঘুম নিয়ে তিনি এত কথা জিজ্ঞেস করলেন কেন?
তিনি বললেন, রাতগুলো দেখলেই দিনের অবস্থা অনেকটা বোঝা যায়। ঘুম ঠিক হতে শুরু করলে বাকি দিকগুলোও ধীরে ধীরে ঠিক হতে থাকে।
স্কুলের কেউ জেনে যাবে না তো যে আমি এসেছি?
তাঁর ঘরে আমি যা বলি, তা সেখানেই থাকে। পরিবারকে এর মধ্যে আনতে হলে আমার সম্মতি নিয়েই আনা হবে।
আবার কতদিন পর যেতে হবে?
পরের সাক্ষাৎ কয়েক সপ্তাহ পরে ঠিক করা আছে। এরপর ব্যবধান নির্ভর করবে আমার অবস্থার ওপর। উন্নতি হলে ব্যবধান বাড়তে পারে।
পরের সাক্ষাতের আগেই দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে কী করব?
তিনি বলেছেন, চুপচাপ কষ্ট পেয়ে বসে থাকা যাবে না। রাতের অবস্থা অনেক খারাপ হলে আগেই যোগাযোগ করে স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
কোনো রাতে যদি নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে, তখন কী করব?
সাথে সাথে পাশের কাউকে জানাতে হবে, আর কোনো সাক্ষাতের অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। পর পর কয়েক রাত একদম ঘুম না হলে আর মন থামতে না চাইলেও তাই। হঠাৎ গোসল করা, খাওয়ার মতো সাধারণ কাজ করতে না পারলেও সেদিনই যেতে হবে। যাওয়ার আগে তিনি এই কথাগুলো আমাকে দিয়ে আবার বলিয়ে নিয়েছিলেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.