সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - টাঙ্গাইল

সমতল মেঝেতে হাঁটা যায়, নিজের উঠোনে যায় না

আমার বয়স ষাট। টাঙ্গাইলে নিজের সংসার চালাই বহু বছর ধরে। কয়েক মাস আগে বৃষ্টির মধ্যে রান্নাঘরের বাইরের ভেজা ধাপে পা পিছলে পড়ে যাই। আঘাতটা লেগেছিল গোড়ালিতে। গোড়ালি সেরেছে কোনো রকমে। সমতল মেঝেতে প্রায় স্বাভাবিকভাবেই হাঁটি। কিন্তু আমার উঠোন সমতল নয়, উঁচুনিচু জমিতে গোড়ালিটা শক্ত হয়ে টলমল করে। ডাক্তার পরীক্ষা করে ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম শুরুর পরামর্শ দিলেন।

উঠোনটাই আমার সারা দিনের জগৎ, আর সেখানেই পরীক্ষাটা হয় প্রতিদিন। টিউবওয়েলের পথটা ওঠানামা করে, অনেক বয়স্ক মানুষের মতো সাবধানে পা ফেলে এগোতে হয়। ভরা কলসি নিয়ে ফিরতে গোড়ালিকে বিশ্রাম দিতে দুইবার থামি, হাত বদলাই। বারান্দা থেকে নামতে খুঁটি ধরা লাগে। দুই গলি দূরে মেয়ের বাড়ি গেলেও হিসাব থাকে, পথে কোথায় একটু বসা যাবে।

খোঁজখবরটা করেছে আমার ছেলে। তার শ্বশুরের জন্য সে আগেও ফোনে ডাক্তার খুঁজেছিল। এক সন্ধ্যায় সে DoctorBD24-তে টাঙ্গাইলের ডাক্তারদের তালিকা খুলে নামগুলো পড়ে শোনাল, আমি শুনলাম। তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম আর নিয়মিত চলাফেরার অনুশীলন নিয়েই যাঁর প্রতিদিনের কাজ, এমন কাউকে চাইছিলাম। এভাবেই এই সেশনগুলোতে আসা আমার।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সমতল মেঝেতে হাঁটা যায়, নিজের উঠোনে যায় না

প্রথম পরীক্ষাটা ছিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা

ভেবেছিলাম, প্রথম দিন থেকেই হাঁটার অনুশীলন হবে। ফিজিওথেরাপিস্ট শুরু করলেন দাঁড়ানো দিয়ে। নিচু টুল থেকে ওঠা দেখলেন, পা ফাঁক করে আর কাছাকাছি রেখে দাঁড়াতে বললেন। ধীরে ঘোরার সময় পাশেই রইলেন, গোড়ালি কখন অনিশ্চিত লাগে জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, দাঁড়ানো নিরাপদ না হলে দূরত্বের হিসাব অর্থহীন। প্রথম সেশনগুলো তাই গেল শান্ত কাজে। এক পায়ের ভর অন্য পায়ে নেওয়া ছিল তার অংশ। অল্পক্ষণ সোজা দাঁড়ানো।

অনুশীলনের মাটি সাজানো আমার উঠোনের মতো করে

তাঁর ঘরের মেঝে মসৃণ, কিন্তু আমার জীবনটা তা নয়। তাই অনুশীলন তাড়াতাড়িই গেল অসমতল দিকে। ভাঁজ করা মাদুরের কিনারার ওপর দিয়ে হাঁটা। একটা নিচু ধাপে বারবার ওঠানামা। দেয়াল না ধরে জায়গায় দাঁড়িয়ে ঘোরা। অসমতল ভাব বাড়ে অল্প অল্প করে, গোড়ালি আগের ধাপ সামলাতে পারলেই। প্রতি সপ্তাহে মাটিটা আমার কাছে একটু বেশি চায়।

ভোরের সময়টা অনুশীলনের জন্য রাখা

বাড়িতে অনুশীলন করি সংসারের সবাই ওঠার আগে, উঠোন তখন শান্ত। বারান্দার খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে কয়েকটা নড়াচড়া। তারপর টিউবওয়েল পর্যন্ত ধীরে হেঁটে ফিরে আসা, খেয়াল রাখি ভরটা কোথায় পড়ছে। নাতনি মাঝে মাঝে পাশে হাঁটে, ওর ভাষায় এটা আমাদের ভোরের হাঁটা। যেদিন সকালেই গোড়ালি ক্লান্ত লাগে, সেদিন হালকা অংশটুকু করে পরের সেশনে জানিয়ে দিই।

ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ চলছে নিজের নিয়মে

পড়ে যাওয়ার সময় ডাক্তার যেসব ওষুধ ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেগুলো চলছে হুবহু সেই পরিকল্পনাতেই। ফিজিওথেরাপিস্ট কখনো বলেননি কোনো একটাও বদলাতে। সেই প্রসঙ্গ তিনি তোলেনই না। কোনো ওষুধ আবার দেখা দরকার হলে সেই আলোচনা হবে আমার ডাক্তারের ঘরে, ব্যায়ামের জায়গায় নয়। দুটো অংশ আলাদাই থাকে, এতে আমি স্বস্তিতে আছি।

তিনি ডাক্তারকে খবর রাখেন, দরকারে ফেরতও পাঠাবেন

কয়েকটা সেশন পর পর তিনি লিখে রাখেন, আমার ভারসাম্য আর হাঁটা কতটা বদলাল। সেই লেখা পৌঁছায় যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ডাক্তারের কাছে। গোড়ালিতে এমন কিছু দেখা গেলে যা ব্যায়ামে সামলানো উচিত নয়, তিনি বলেছেন, জোর করে চালিয়ে না গিয়ে সোজা ফেরত পাঠাবেন। পড়তে গিয়ে চোখে পড়েছে, DoctorBD24-তে টাঙ্গাইলের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও আলাদা করে আছে। আমার চিকিৎসা এখনো ব্যায়াম আর অনুশীলনেই আছে।

ষাট বছর বয়সে ব্যায়ামের চিকিৎসা শুরু করা কি দেরি হয়ে গেল?

প্রশ্নটা শুনে তিনি স্নেহভরে হাসলেন। পরিকল্পনা ঠিক হয় আমার গোড়ালি আজ কতটা পারে তা দিয়ে, বয়স দিয়ে নয়। বয়স্ক জোড়া ছোট ধাপ চাইতে পারে, আমি পাইও সেই ছোট ধাপই।

টিউবওয়েলে যাওয়ার প্রতিদিনের হাঁটা বন্ধ রাখব?

না। ওই হাঁটাটা আমার জীবনের অংশ, তিনি সেটাকেই অনুশীলন হিসেবে দেখেন। আপাতত নামার সময় খুঁটি ধরি, দরকার হলে মাঝপথে বিশ্রাম নিই। তিনি বদলান আমি কীভাবে হাঁটব, হাঁটব কি না তা নয়।

সমতল মেঝের বদলে উঁচুনিচু জমিতে অনুশীলন কেন?

কারণ আমার উঠোনটাই উঁচুনিচু। শুধু মসৃণ মেঝেতে কাজে লাগে এমন দক্ষতা টিউবওয়েলের পথে গিয়ে ব্যর্থ হতো। তাই ধাপে ধাপে সেই জায়গাতেই দক্ষতা গড়া হয়, যেখানে আমার আসলে দরকার।

কোনো কোনো সন্ধ্যায় গোড়ালি একটু ফুলে যায়। তখন কী করব?

বিশ্রাম দিই, পরের সেশনে জানিয়ে দিই। এমন হলে তিনি অনুশীলন এক ধাপ পিছিয়ে দেন। ফোলাটা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফিরে আসতে থাকলে সেটা তিনি আমার ডাক্তারকে জানিয়ে দেবেন।

প্রতি সপ্তাহে কী বদলাবে, তিনি ঠিক করেন কীভাবে?

দেখে আর মেপে। কতক্ষণ স্থির দাঁড়াতে পারি। ঘোরাটা কেমন হয়। ধাপে ওঠা কেমন লাগে। একবারে একটা জিনিসই বদলায়, যাতে দুজনেই বুঝতে পারি কোন বদলে কাজ হলো।

কোন হঠাৎ সমস্যায় সেশনের বদলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে?

শরীরের একদিকের জোর হঠাৎ চলে গেলে আগে হাসপাতাল, সেদিনই। প্রস্রাব বা পায়খানা নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও তাই। পড়ে যাওয়ার পর পা বা হাত নড়তেই না চাইলে তা জরুরি। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলেও অপেক্ষা করা যাবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.