সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - রংপুর

কনুইটা পুরোপুরি সোজা হয় না আর

আমার বয়স ছেচল্লিশ। রংপুরের রাস্তায় বাস চালাই। কয়েক মাস আগে একটা স্টপে নামতে গিয়ে ধাপে পা ফসকে পড়ে যাই। ডান কনুইটা মাটিতে ঠেকে যায়। চামড়া সেরে গেছে, ফোলাও কমেছে। কিন্তু জোড়াটা আগের মতো পুরো খোলে না। সোজা করতে গেলেই শেষের দিকে এসে আটকে যায়। ডাক্তার দেখে বললেন, ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গিয়ে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম করতে হবে।

গাড়ি চালালেই সমস্যাটা টের পাওয়া যায়। লম্বা বাঁকে স্টিয়ারিং ঘোরাতে দুই হাতের টান লাগে, ডান হাতটা মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়। মাথার ওপরের সুইচ প্যানেলে হাত পৌঁছাতে গেলে পুরো কাঁধ ঘোরাতে হয়। ডিপোতে নিজের গাড়ি নিজেই ধুই। সেই হাতে কাপড় নিংড়ানো এখন ধীর আর বেকায়দা কাজ। সন্ধ্যায় খাওয়ার সময়ও হাতটা মুখ পর্যন্ত তুলতে একটু ভাবতে হয়।

এই ধরনের সাহায্য কোথায় পাওয়া যায়, জানতাম না। ছোট ভাই আগের বছর মায়ের জন্য ডাক্তার খুঁজেছিল। তাকেই জিজ্ঞেস করলাম, শুরুটা করেছিলে কোথা থেকে। সে ফোনে DoctorBD24-তে রংপুরের ডাক্তারদের তালিকা খুলে দেখাল। সেদিন সন্ধ্যায় নামগুলো ধীরে ধীরে দেখলাম। তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম আর চলাফেরা নিয়েই যাঁর কাজ, এমন কাউকে খুঁজছিলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

কনুইটা পুরোপুরি সোজা হয় না আর

শুরুটা হয়েছিল এক বোতল পানি দিয়ে

প্রথম সেশনে ব্যায়াম বলতে কিছুই হয়নি। তিনি ডান হাতে একটা ভরা পানির বোতল দিয়ে তুলতে বললেন, ধরে রাখতে বললেন, তারপর ধীরে নামাতে। পিঠের পেছনে হাত নিতে বললেন। তারপর হাতটা যতটা যায় ততটা সোজা করতে বললেন। কোথায় গিয়ে আটকাল, তিনি খেয়াল করলেন। পরে মিলিয়ে দেখার জন্য সেই জায়গাটা তিনি লিখে রাখলেন।

অনুশীলনটা সাজানো চালকের আসন ঘিরেই

আমার বেশির ভাগ ব্যায়াম গাড়ি চালানোর ছোট ছোট অংশের মতো। টেবিলের কিনারে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাত সোজা করা, যেন স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছি। ধাপে ধাপে ওপরের দিকে হাত তোলা, আসনের ওপরের প্যানেলের মতো করে। মুঠো করা আর ছাড়া, প্রতি সপ্তাহে ধরে রাখার সময় একটু করে বাড়ে। কাঁধ কনুইয়ের কাজ করতে এলে তিনি পাশে থেকে ঠিক করে দেন। কোনো নড়াচড়া সহজ হলে পরেরটা তিনি সামান্য কঠিন করেন।

প্রথম ট্রিপের আগে যতটুকু সময় মেলে

সেশনের ফাঁকে বাড়িতেই অনুশীলন করি, ভোরে, ডিপোতে বেরোনোর আগে। রাতে শেষ ট্রিপের পর আরও ছোট একটা অংশ। কোনো দিন রাস্তার চাপে অর্ধেকটাই হয় শুধু। পরের সেশনে আমি সত্যিটা জানিয়ে দিই। তিনি বলেন, বানিয়ে বলা নিখুঁত হিসাবের চেয়ে খোলাখুলি বাদ যাওয়াটা শোনা ভালো।

ওষুধের বিষয়টা এই ঘরের বাইরেই থাকে

পড়ে যাওয়ার পর ডাক্তার যেসব ওষুধ যেভাবে ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেগুলো ঠিক সেভাবেই চলছে। এই অংশে ফিজিওথেরাপিস্টের কোনো ভূমিকা নেই। তিনি কখনো বলেননি কোনো ওষুধ শুরু করতে, বন্ধ করতে বা সময় বদলাতে। ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটা যাবে আমার ডাক্তারের কাছে। ব্যায়ামের ঘরে সেই আলোচনা ওঠে না।

অগ্রগতির কথা পৌঁছে যায় আমার ডাক্তারের কাছে

কয়েক সপ্তাহ পর পর তিনি লিখে রাখেন, কনুই কতটা খুলছে। সেই খবর যায় যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ডাক্তারের কাছে। ব্যায়ামের বাইরের কিছু তাঁর চোখে পড়লে তিনি অনুমান না করে আমাকে ফেরত পাঠাবেন, তিনি নিজেই বলেছেন। DoctorBD24 ঘাঁটতে গিয়ে দেখেছি, সেখানে রংপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও আলাদা করে আছে। ডাক্তার কখনো সেদিকে পাঠালে কাজে লাগতে পারে ভেবে শুধু তালিকা হিসেবেই মনে রেখেছি।

এই অবস্থায় বাস চালিয়ে যাওয়া যাবে তো?

আমি নিজের নিয়মিত রুটেই চালাচ্ছি। লম্বা বাঁকে হাতটা ক্লান্ত হয়, পারলে কঠিন অংশগুলো ভাগ করে নিই। আপনার চালানোর দিনটা আসলে কেমন, ফিজিওথেরাপিস্টকে খুলে বলুন।

সকালে উঠলে কনুইটা বেশি শক্ত লাগে কেন?

আমারও বেশির ভাগ দিন তাই হয়। তিনি বলেছেন, আঘাত পাওয়া জোড়ায় সকালের এই জড়তা অনেকেরই থাকে। সকালের অনুশীলনটা সেই কারণেই রাখা। হঠাৎ করে অবস্থা অনেক খারাপ হলে তাঁকে জানাবেন।

হাতের উন্নতি হচ্ছে, বুঝব কীভাবে?

প্রথম দিন তিনি যেখানে থামার জায়গাটা লিখে রেখেছিলেন, সেটা দিয়েই। কয়েক সপ্তাহ পর পর আমরা একই নড়াচড়া একইভাবে মেপে দেখি। ছোট বদলও হিসাবে ধরা হয়।

বাড়িতে জোর করে কনুই সোজা করা যাবে?

না। এ নিয়ে তিনি পরিষ্কার। জোর করতে গিয়ে আমার হাত দুই দিন ব্যথা ছিল। বাড়ির অনুশীলন থাকে তাঁর দেখিয়ে দেওয়া সীমার মধ্যেই।

সেশনের পর কনুই ফুলে গেলে কী করব?

পরের সাক্ষাতে জানিয়ে দিই। দুশ্চিন্তা হলে তার আগেই খবর দিই। তিনি সেই অনুযায়ী নড়াচড়া বদলে দেন। ফোলা থেকে গেলে বিষয়টা তিনি আমার ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেন।

কোন হঠাৎ সমস্যায় সেশন নয়, সেদিনই হাসপাতাল?

শরীরের একদিকে হঠাৎ জোর চলে গেলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে। প্রস্রাব বা পায়খানা নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকাটাও একই রকম সতর্কবার্তা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা একেবারে নাড়ানো না গেলে তা জরুরি। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা, বুকে ব্যথা কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও অপেক্ষা করা যাবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.