সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - রাজশাহী

স্টেশনের ধাপগুলো পেরোনোই এখন বড় কাজ

আমার বয়স আটান্ন। রাজশাহীতে থাকি, রেলওয়ের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি অনেক বছর হলো। এ বছরের শুরুতে একটা লম্বা সময় হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। বাড়ি ফিরলাম ঠিকই, কিন্তু পা দুটো আগের জোর নিয়ে ফেরেনি। হাঁটতে গেলে টলমল করি, কোথায় বসতে পারব সেই হিসাব করে দিন সাজাই। ভোরে ঘুম ভাঙে ঠিকই, কিন্তু শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না। ডাক্তার বললেন, বসে অপেক্ষা করলে জোর ফিরবে না। ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গিয়ে ধীরে ধীরে ব্যায়াম শিখতে হবে।

পরীক্ষাগুলো আমার প্রতিদিনের জীবনেই ছড়িয়ে আছে। পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে স্টেশনে গেলে প্ল্যাটফর্মের ধাপে ওঠানামাই প্রথম বাধা। বাজারের পথ এখন মাঝখানে দোকানের বেঞ্চে একবার বসে জিরিয়ে নিতে হয়। মসজিদে নামাজের কাতারে দাঁড়ালে নামাজ শেষ হওয়ার আগেই পা কাঁপতে থাকে, পাশের মানুষের কাঁধে ভর দিতে ইচ্ছে করে। এই ছোট ছোট কাজগুলোই বলে দেয় আমি ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।

কার কাছে যাব, সেটা আমি নিজে জানতাম না। এক সন্ধ্যায় ছেলে পাশে বসে DoctorBD24-এ রাজশাহীর ডাক্তারদের তালিকা খুলল, আমি শুনতে শুনতে নামগুলো সে পড়ে শোনাল। তত্ত্বাবধানে ব্যায়ামের কাজের পরিষ্কার বর্ণনা যেখানে আছে, সেদিকেই আমরা খেয়াল রাখলাম। নাম ঠিক করার আগে আমরা দুজনে আরও একবার ভেবে নিলাম। সেই সন্ধ্যা থেকেই আমার খোঁজ আসলে শুরু।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

স্টেশনের ধাপগুলো পেরোনোই এখন বড় কাজ

হাঁটার আগে দাঁড়ানো শেখা

ভেবেছিলাম, ঘরে আমাকে হাঁটানো হবে ওপর-নিচ করে। ফিজিওথেরাপিস্ট শুরু করলেন দাঁড়ানো দিয়ে। হাত না ধরে চেয়ার থেকে ওঠা তিনি দেখলেন। দুই পায়ে, তারপর এক পায়ে ভারসাম্য ধরে দাঁড়াতে বললেন, পাশেই তিনি থাকলেন। ধীরে ঘুরতে বলে জানতে চাইলেন, টলমল ভাবটা কখন শুরু হয়। তিনি বললেন, দাঁড়ানো স্থির না হলে হাঁটার দূরত্বের হিসাব অর্থহীন। প্রথম সপ্তাহগুলো তাই গেল শান্ত কাজে। ভর এক পা থেকে আরেক পায়ে নেওয়া। অল্পক্ষণ দাঁড়ানো। নিয়ন্ত্রণে বসা।

দিনের ছন্দের সঙ্গে বাঁধা অনুশীলন

বাড়ির অনুশীলনটা তিনি সাজিয়েছেন আমার দিনের ধরন মেনে, তার বিরুদ্ধে গিয়ে নয়। ফজরের নামাজের পর ছোট একটা অংশ। বাজারে হাঁটতে বেরোনোর আগে দাঁড়িয়ে করা কয়েকটা নড়াচড়া, যাতে হাঁটাটাই অনুশীলনের অংশ হয়ে যায়। সেশনে তিনি আমার ভারসাম্য আবার দেখেন, একবারে একটা জিনিসই বদলান। দাঁড়ানোর সময় একটু বাড়ল। নিচু ধাপে ওঠা যোগ হলো। আমি যা পারলাম, তিনি লিখে রাখেন, আগের সপ্তাহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি আমরা।

যে সকালে তিনি সেশন থামিয়ে ফেরত পাঠালেন

এক সপ্তাহে আমার বাম গোড়ালি ফুলে গেল, হাত দিলে গরম লাগল। তিনি দেখলেন, কয়েকটা প্রশ্ন করলেন, সেদিনের সেশন ওখানেই শেষ করলেন। তিনি বললেন, এমন ফোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত আমার ডাক্তারের, ব্যায়াম জোর করে চালিয়ে যাওয়ার নয়। ডাক্তার দেখে আবার চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তিনি যদি গাঁটের ভেতরে অপারেশন লাগতে পারে এমন কিছু সন্দেহ করতেন, আমার পরিবার খোঁজ শুরু করত রাজশাহীর জেনারেল সার্জনদের DoctorBD24-এর তালিকা থেকে। আমার অগ্রগতির লেখাও কয়েক সেশন পর পর ডাক্তারের কাছে যায়।

এই ঘরে ওষুধের প্রসঙ্গ ওঠে না

হাসপাতালে থাকার সময়েই আমার ওষুধ ঠিক করা হয়েছিল, সেগুলো চলছে ঠিক সেভাবেই। ফিজিওথেরাপিস্ট কোনো ওষুধ নিয়ে কখনো একটি কথাও বলেননি। কিছু যোগ করা, বন্ধ করা বা বদলানো তাঁর কাজ নয়, তিনি নিজেই তা বলেন। ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেটা আমি ডাক্তারের কাছেই নিয়ে যাই। তাঁর ঘরটা নড়াচড়ার জন্য, এই সীমাটা কখনো গুলিয়ে যায়নি।

লম্বা সময় হাসপাতালে থাকার পর এমন দুর্বল লাগা কি স্বাভাবিক?

আমিও এই প্রশ্নটাই করেছিলাম। তিনি বললেন, কয়েক সপ্তাহ বিছানায় থাকলে যেকারও শরীরের জোর কমে, কাজ হলো ধীরে ধীরে সেটা ফিরিয়ে আনা। তিনি যা দেখতে আর মাপতে পারেন, তার বাইরে আমার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। বড় প্রশ্নগুলো আমার ডাক্তারের কাছেই থাকে।

বাড়িতে অনুশীলনের সময় পাশে কাউকে লাগবে?

শুরুতে লেগেছে। দাঁড়ানোর অনুশীলনের সময় আমার ছেলে ঘরেই থাকত, ধরতে পারার দূরত্বে। বসে করা নড়াচড়াগুলো আমি একাই করি। ভারসাম্য ভালো হলে পাশে হাত লাগবে কিনা, সেটা ফিজিওথেরাপিস্ট নিজেই ঠিক করে দেন।

আগের মতো প্ল্যাটফর্মের ধাপ পেরোতে পারব তো?

আগের মতো হবে, এমন প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। আমরা গুনি কোনটা ভালো হচ্ছে। না থেমে কয়টা ধাপ উঠলাম। কত সেকেন্ড স্থির দাঁড়ালাম। সংখ্যাগুলো ছোট, কিন্তু প্রথম সপ্তাহের চেয়ে ভালো।

অল্প অনুশীলনেই যদি খুব ক্লান্ত লাগে?

তিনি বলেন, তাহলে সেদিনের জন্য ওইটুকুই যথেষ্ট ছিল। আমি বিশ্রাম নিই, লিখে রাখি, পরের সেশন সেই অনুযায়ী সাজানো হয়। ক্লান্তি ব্যর্থতা নয়, একটা তথ্য। জোর করে পার হয়ে যাওয়া আমার পরিকল্পনায় কখনো ছিল না।

শক্তি না ফেরা পর্যন্ত বাজারে হাঁটা বন্ধ রাখব?

না। হাঁটাটাই আমার অনুশীলনের অংশ, নিজের গতিতে, মাঝখানে বিশ্রাম নিয়ে। তিনি শুধু বলেছেন, চেনা পথেই থাকতে আর তাড়াহুড়ো না করতে। সারা দিনের নড়াচড়া ব্যায়ামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

কী হলে সেশন বাদ দিয়ে আজই হাসপাতালে যাব?

শরীরের একদিকে হঠাৎ দুর্বলতা নেমে এলে সেশন নয়, সেদিনই হাসপাতাল। প্রস্রাব বা পায়খানা নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও একই কথা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নড়তে না চাইলে তা জরুরি। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা, আর বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.