সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - পাবনা
কড়াই তুলতে গেলেই হাঁটুর অবস্থা বোঝা যায়
আমার বয়স সাতচল্লিশ। পাবনায় একটা মিষ্টির দোকানে কাজ করি। ভোর হওয়ার আগেই আমার দিন শুরু হয়, দুধের প্রথম কড়াইগুলো পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে। কয়েক মাস আগে আমার ডান হাঁটুতে অপারেশন হয়েছে। ক্ষত শুকিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু জড়তাটা রয়ে গেছে। সকালে উঠে প্রথম কয়েক পা ফেলতেও হাঁটুটা এখনো মানতে চায় না। গত মাসে ডাক্তার হাঁটুটা আবার দেখে সোজাসুজি বললেন, শুধু বিশ্রামে এটা যাবে না। তাঁর কথা, ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে নিয়ম ধরে ব্যায়াম করতে হবে।
দোকানের কাজেই প্রতিদিন আসল অবস্থাটা ধরা পড়ে। মেঝে থেকে দুধভরা কড়াই তুলতে এখন দুইবার চেষ্টা করতে হয়। আগে একটানেই তুলে ফেলতাম। বড় কড়াইয়ের মিশ্রণ ঘন হওয়া পর্যন্ত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নাড়তে হয়, মিষ্টি তৈরি হওয়ার অনেক আগেই হাঁটুতে টান ধরে। সকালের ভিড়ে দোকান ভরে গেলে তাড়াতাড়ি সরে দাঁড়ানো যায় না, ঘুরতে গেলেও আগে একটু ভাবতে হয়। দোকানের ছেলে দুটো মাঝে মাঝে আমার ভাগের ভারী কাজ টেনে নেয়, কিছু না বলেই।
শহরে কোনো ফিজিওথেরাপিস্টকে আমি নিজে চিনতাম না। বাজারে খোঁজ নিতে গিয়ে একটা নাম বারবার কানে এল। কোথাও যাওয়ার আগে আমার ভাগ্নে তার ফোনে DoctorBD24-এ পাবনার ডাক্তারদের তালিকা খুলে দেখাল, কীভাবে নিজে নিজে নামগুলো দেখে নেওয়া যায়। সেখান থেকেই আমার খোঁজ ঠিকভাবে শুরু হলো।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
কড়াই তুলতে গেলেই হাঁটুর অবস্থা বোঝা যায়
প্রথম দিনে যা যা মেপে দেখা হলো
ফিজিওথেরাপিস্ট ব্যায়াম দিয়ে শুরু করেননি। আগে তিনি দেখলেন, নিচু টুল থেকে আমি কীভাবে উঠি। হাঁটু যতটা ভাঁজ হয় ততটা ভাঁজ করতে বললেন, তারপর ধীরে সোজা করতে। কোথায় গিয়ে নড়াচড়া থামে, সেটা তিনি লিখে রাখলেন। ওই পায়ে ভর দিয়ে কতক্ষণ দাঁড়াতে পারি, সময় মাপলেন। এসবের পরেই তিনি প্রথম সপ্তাহের জন্য অল্প কয়েকটা নড়াচড়া ঠিক করে দিলেন।
দোকানের সময়ের ফাঁকে ফাঁকে অনুশীলন
আমার অনুশীলন চলে কাজের দিনের ফাঁকে ফাঁকে। দোকান খোলার আগে কয়েকটা নড়াচড়া, প্রথম দুধ গরম হওয়ার ফাঁকে। দুপুরের পরের শান্ত সময়ে আরও কয়েকটা। প্রতিটা সেশনে তিনি পাশে থেকে দেখেন আর ছোট ভুলগুলো ধরিয়ে দেন। হাঁটু ভেতরের দিকে ঝুঁকছে। ভর সরে যাচ্ছে অন্য দিকে। কোনো নড়াচড়া সহজ হয়ে গেলে পরের সপ্তাহে ভাঁজ একটু বাড়ে, নয়তো সংখ্যা বাড়ে। হাঁটু যতটা সায় দেয়, তার বাইরে কিছুই এগোয় না।
আমার ওষুধ যেমন আছে তেমনই থাকবে
একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। ফিজিওথেরাপিস্ট আমার ওষুধে কখনো হাত দেননি। অপারেশনের পর ডাক্তার যেভাবে যা দিয়েছিলেন, আমি সেভাবেই, একই সময়ে খাই। তিনি বলেন, তাঁর কাজ শুধু নড়াচড়া নিয়ে। ওষুধের মাত্রা বদলানোর দরকার হলে সেই আলোচনা হবে যিনি ওষুধ ঠিক করে দিয়েছেন তাঁর কাছেই। ব্যায়ামের ঘরে এসব কথা ওঠেই না।
খবর ফিরে যায় আমার ডাক্তারের কাছে
কয়েক সপ্তাহ পর পর আমার হাঁটুর ভাঁজের মাপ আর দাঁড়ানোর হিসাব ফিরে যায় যিনি অপারেশন করেছেন সেই ডাক্তারের কাছে। নিয়মটাই এমন। ব্যায়াম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন কিছু ফিজিওথেরাপিস্টের চোখে পড়লে তিনি নিজে আন্দাজ করেন না। আমাকে আগে ডাক্তারের কাছে পাঠান। অন্য ধরনের চিকিৎসা নিয়ে পড়তে গিয়ে DoctorBD24-এ পাবনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা চোখে পড়েছিল। ডাক্তার কখনো সেদিকে যেতে বললে কাজে লাগতে পারে ভেবে তালিকা হিসেবেই মনে রেখেছি।
ব্যায়ামে হাঁটুতে ব্যথা লাগবে কি?
জয়েন্ট ছাড় খাওয়ার সময় হালকা টান লাগতে পারে, সেটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তীব্র ব্যথা হলে থেমে তখনই জানাতে বলেছেন তিনি। জোর করে চালিয়ে গেলে অগ্রগতি পিছিয়ে যেতে পারে। আমি ব্যথা লুকাই না, আগেই বলে দিই।
সপ্তাহে কয়দিন যেতে হয়?
আমার ক্ষেত্রে শুরুতে সপ্তাহে দুই দিন, বাকি দিন বাড়িতে ছোট অনুশীলন। আপনার সংখ্যা আলাদা হতে পারে। প্রথম দিন আপনার নড়াচড়া দেখে ফিজিওথেরাপিস্ট সেটা ঠিক করেন। সপ্তাহ এগোলে সংখ্যাটা বদলাতেও পারে।
এই সময়ে দোকানের কাজ চালিয়ে যেতে পারব?
আমি চালিয়ে যাচ্ছি। শুরুর দিকে সবচেয়ে ভারী কড়াইগুলো অন্যরা তুলেছে। আমার কাছে লম্বা সময় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাটাই বেশি কঠিন ছিল। আপনার কাজে কী কী করতে হয়, সেটা খোলাখুলি বললে অনুশীলনের পরিকল্পনাটা কাজের সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো যায়।
প্রথম দিন সঙ্গে কী নিয়ে যাব?
আমি অপারেশনের কাগজপত্র, তার আগের রিপোর্ট আর বর্তমান ওষুধের তালিকা নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে নড়াচড়া করানোর আগেই তিনি সেগুলো পড়ে দেখলেন। পুরো ছবিটা না দেখে তিনি কিছু ঠিক করেননি, এই ক্রমটা আমার ভালো লেগেছে।
জড়তা কবে যাবে, বলা যায়?
আমাকে কেউ তারিখ দেননি, আমিও আর জিজ্ঞেস করি না। আমরা বিচার করি হাঁটু কতটা ভাঁজ হচ্ছে আর কতক্ষণ দাঁড়াতে পারছি, তা দিয়ে। সংখ্যাগুলো ধীরে বদলায়, সপ্তাহে সপ্তাহে। বদলাচ্ছে যে, সেটাই আমার ভরসা।
কোন হঠাৎ সমস্যায় সেশনের বদলে সেদিনই হাসপাতালে যাব?
শরীরের একদিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে সেদিনই হাসপাতাল। প্রস্রাব বা পায়খানা আটকে রাখতে না পারলেও দেরি করা যাবে না। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারলে সেটাও জরুরি। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও সেশনের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। সোজা হাসপাতালে যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.