সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - নোয়াখালী

চারা রোপণ শেষ হওয়ার আগেই ডান হাত হাল ছেড়ে দেয়

আমার বয়স ঊনচল্লিশ। নোয়াখালীতে পরিবারের সঙ্গে ধান চাষ করি। পুরো এক মৌসুমের মাঠের কাজে ডান কাঁধটা একটু একটু করে টান খাচ্ছিল। তার ওপর মৌসুমের শেষে একদিন ভারী তোলাতুলির কাজ, আর হাতটা যেন সহযোগিতাই বন্ধ করে দিল। ছেঁড়েওনি, ভাঙেওনি। শুধু শক্ত হয়ে গেল, আর সেভাবেই থেকে গেল। গ্রামে সবাই জানে, মাঠের কাজে আমি কখনো পিছিয়ে থাকিনি।

সারাদিন মাঠে থাকলেই সমস্যাটা টের পাই। চারা রোপণ মানে সারি ধরে হাত নিচে বাড়িয়ে ঝুঁকা কাজ। আমার গতি কমে আসে, অন্যরা আমাকে পেরিয়ে যায়। পুকুর থেকে পানির কলস তোলা, একবার গেলেই কাঁধ অভিযোগ শুরু করে। উঠানে ধান ঝাড়া দুই হাতের কাজ। প্রতিবার আমার ডান দিকটাই আগে হাল ছাড়ে। বিকেলে রান্নার কাজেও এই হাতে খুন্তি ধরতে কষ্ট হয় এখন।

যিনি আমাকে পরীক্ষা করলেন, সেই ডাক্তার বললেন, এই জয়েন্টে এখন আরও বিশ্রাম নয়, দেখিয়ে দেওয়া নড়াচড়া দরকার। তিনি কাঁধ আর হাত নিয়ে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে কাজ করতে বললেন। এমন খোঁজ আমি আগে কখনো করিনি। এক রাতে খাওয়ার পর জা আমাকে সাহায্য করলেন, আমরা DoctorBD24-তে নোয়াখালীর ডাক্তারদের তালিকা ধীরে ধীরে দেখলাম। যেসব প্রশ্ন করতে চাই, সেগুলো মনে মনে গুছিয়ে রাখলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

চারা রোপণ শেষ হওয়ার আগেই ডান হাত হাল ছেড়ে দেয়

তিনি হাত না ছুঁয়ে আগে শুধু দেখলেন

প্রথম সাক্ষাতে তিনি একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখলেন। হাত সামনে তোলো। পাশে তোলো। পিঠের পেছনে হাত নাও। প্রতিটা নড়াচড়া কোথায় গিয়ে থামে, কাঁধ কীভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, তিনি লিখে রাখলেন। তার পরেই তিনি হাতে হাত দিলেন। তিনি বললেন, প্রথম ব্যায়ামগুলো আসবে ওই থেমে যাওয়া জায়গাগুলো থেকেই। যেসব নড়াচড়া আমি পারিই, সেগুলো অনুশীলন করে লাভ নেই।

মাঠের নড়াচড়া, আগে ঘরের ভেতরে অনুশীলন

পরিকল্পনাটা আমার কাজ ধরেই এগোয়। রোপণের মতো নিচে আর সামনে হাত বাড়ানো। পানির কলসের মতো করে ছোট পাত্র আধাআধি তোলা, তবে হালকাভাবে। ধান ঝাড়ার মতো শরীরের এপাশ থেকে ওপাশে ধীরে ঝাড়ু দেওয়ার মতো নড়াচড়া, তিনি পাশে থেকে কাঁধ ধরিয়ে দেন। কোনো নড়াচড়ায় টান বেশি পড়লে আমরা সেটা ছোট করে পরের সপ্তাহগুলোতে আবার গড়ি।

মাঠের বদলে নয়, মাঠের সঙ্গে মিলিয়ে অনুশীলন

বাসার অনুশীলন তিনি ঠিক করে দিলেন ভোরের জন্য, মাঠ দিনটা নেওয়ার আগে। ভাত গরম হওয়ার ফাঁকে উঠানে ছোট একটা সেট। ভারী কাজের দিনে আমি অর্ধেক করে তাঁকে জানিয়ে দিই। প্রতিটা সাক্ষাতে তিনি আমার হাতের নাগালের সহজ হিসাব রাখেন। একবারে একটা জিনিসই তিনি বদলান। তিনি বলেন, দুটো একসঙ্গে বদলালে কোনটা কাজে লাগল, বোঝা যায় না।

ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ ডাক্তারের বিষয়ই থাকবে

কাঁধের জন্য আমার ডাক্তার যেসব ওষুধ যেভাবে লিখে দিয়েছেন, সেগুলো ঠিক সেভাবেই চলছে। ফিজিওথেরাপিস্ট আমার চিকিৎসার সেই অংশে কোনোভাবেই হাত দেন না। তিনি কখনো বেশি, কম বা অন্য কিছু বলেননি। তাঁর কাজ নড়াচড়াটা নিজে। ওষুধ নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার দরকার হলে সেই আলোচনা হবে আমার ডাক্তারের সঙ্গে, তাঁর ঘরে। ব্যায়ামের সেশনে নয়।

কখন তিনি আমাকে ফেরত পাঠাবেন

তিনি আমার অগ্রগতি তাঁর নোটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ডাক্তারকে জানিয়ে দেন। কাঁধে এমন কিছু দেখা গেলে যা ব্যায়ামে সামলানো উচিত নয়, তিনি বলেছেন, সেটা ঘুরিয়ে না রেখে তিনি থেমে আমাকে ফেরত পাঠাবেন। এই এলাকায় অপারেশনভিত্তিক চিকিৎসা নিয়ে যারা খুঁজছেন, তাঁরা DoctorBD24-তে নোয়াখালীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা নিজস্ব তালিকা হিসেবে দেখতে পারেন। আমার জন্য পরিকল্পনা এখনো নড়াচড়াই, সপ্তাহে সপ্তাহে মাপা।

সেশন চলার মধ্যে রোপণের কাজ চালিয়ে যেতে পারব তো?

পারি, তবে ছোট ছোট মেয়াদে, সবচেয়ে ভারী তোলা ভাগ করে নিয়ে। কাজের দিনটা আসলে কেমন, ফিজিওথেরাপিস্টকে সত্যি করে বলুন। পরিকল্পনাকে মৌসুমের সঙ্গে মিলতেই হবে।

একবারে একটা ব্যায়ামই তিনি বদলান কেন?

যাতে বোঝা যায়, কোনটা কাজ করছে। সব একসঙ্গে বদলালে কিছুই বিচার করা যায় না। এই ধৈর্যটা শুরুতে আমার জন্য কঠিন ছিল।

বাসার অনুশীলনে সময় বেশি লাগে?

সকালে কয়েক মিনিট। ভাত গরম করা আর মাঠে বেরোনোর মাঝের সময়টুকুতেই হয়ে যায়। সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে অর্ধেক সেটও হিসাবে ধরা হয়।

হাতটা কি মাঠের কাজে পুরোপুরি ফিরবে?

তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেবেন না। তিনি যে নাগাল মাপেন, আমরা সেটা ধরেই এগোই। শুরুর চেয়ে এখন নাগাল বেশি, আর সেই হিসাবটাই আমাদের প্রমাণ।

ভারী কাজের দিনে কাঁধ আরও খারাপ হলে কী করব?

আমি বিশ্রাম দিই, মনে রাখি, পরের সেশনে তাঁকে জানাই। কাঁধ খারাপ হতেই থাকলে সেটা তিনি আমার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।

কোন নতুন সমস্যায় আজই সোজা হাসপাতালে যাব?

শরীরের একদিকে হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দেওয়া মানেই আজই হাসপাতাল। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারলেও তাই। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নড়তে না চাইলে তা জরুরি অবস্থা। জ্বরসহ ব্যথা প্রচণ্ড হয়ে উঠলে, বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও জায়গাটা হাসপাতাল, সেশন নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.