সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - নাটোর
বাগানের অর্ধেক সারি হেঁটেই ফিরে আসতে হয়
আমার বয়স একষট্টি। নাটোরে আমার একটা ফলের বাগান আছে। এ বছরের শুরুতে বাগানে কাজ করতে গিয়ে পায়ে আঘাত পাই। ডাক্তার বললেন, পা ঠিকমতো বিশ্রামে রাখতে হবে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিশ্রামে থাকলাম। পা সেরে গেছে। প্রথমদিকে এই থেমে থাকা জীবনটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু অত বসে থাকায় কোমর আর নিতম্ব শক্ত হয়ে গেল, হাঁটা কমে এল ঘরের ভেতরের ছোট ছোট পথে।
প্রতিদিন সকালে বাগানটাই আমাকে আসল অবস্থা বুঝিয়ে দেয়। গাছ দেখতে সারি ধরে হাঁটি, মাঝপথে গিয়ে ফিরে আসতে হয়। মাটিতে পড়ে থাকা ফল পড়েই থাকে, কারণ কুড়াতে ঝুঁকলেই নিতম্বে টান পড়ে। সারা জীবন ওঠা সাইকেলটায় উঠতেও এখন থামতে হয়, বেড়ায় হাত রাখতে হয়। ছেলে মাঝে মাঝে বাগানে সঙ্গে যায়, আগের মতো একা ছাড়ে না। বাজারের পথটুকুও এখন ওর সঙ্গ ছাড়া যাওয়া হয় না।
শেষবার ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বললেন, পায়ের সমস্যা এখন আর নেই। দরকার হলো ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম, যাতে কোমর আর নিতম্ব ছাড়ে, হাঁটাও আবার বাড়ে। ছেলে খোঁজে সাহায্য করল। এক সন্ধ্যায় আমরা DoctorBD24-তে নাটোরের ডাক্তারদের তালিকা একসঙ্গে দেখলাম। নড়াচড়া আর ব্যায়াম নিয়ে কে কাজ করেন, আমি সেটা মনে রেখে দিলাম।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
বাগানের অর্ধেক সারি হেঁটেই ফিরে আসতে হয়
আগে হাঁটা, ঝুঁকির পালা পরে
ফিজিওথেরাপিস্ট আমার কোমর দিয়ে শুরু করেননি। শুরু করলেন হাঁটা দিয়ে। ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা হাঁটা দেখলেন। এক পায়ে কতক্ষণ দাঁড়াতে পারি, সময় মাপলেন। নিতম্ব কতটা খোলে, সেটাও দেখলেন। তাঁর পরিকল্পনা সোজা। প্রথমে জোর না করে প্রতি সপ্তাহে হাঁটা একটু একটু বাড়ানো। হাঁটার ভিত তৈরি হলে তারপর ঝুঁকির অনুশীলন যোগ হবে।
বাগানের কাজের মতো করেই অনুশীলন
আমাদের সেশনগুলো আমার সকালের কাজের নকল। গাছের ফাঁকে ফাঁকে যেভাবে হাঁটি, সেভাবে থেমে থেমে ছোট হাঁটা। দাঁড়িয়ে ঘোরা। নিচু ঝুড়ির দিকে ধীরে ঝুঁকা, কয়েকবার, তিনি নিতম্ব আর কোমর একসঙ্গে দেখতে দেখতে। কঠিন ধাপের আগে দূরত্ব বাড়ে। কোনো নড়াচড়া শক্ত থেকে গেলে জোর করে পেরিয়ে না গিয়ে আমরা আরেক সপ্তাহ সেটাতেই থাকি।
সাক্ষাতের ফাঁকে নিজে যা করি
বাইরে বেরোনোর আগে বাসায় করার মতো সকালের একটা রুটিন তিনি দিয়েছেন। আলতো দাঁড়ানোর নড়াচড়া, উঠানে ছোট একটা হাঁটা, তারপর বিশ্রাম। কাগজের টুকরোয় আমি দিনগুলো দাগ দিয়ে রাখি। কতদূর হাঁটলাম, নিতম্ব কোনো অভিযোগ করল কিনা। প্রতিটা সেশনে তিনি সেই কাগজ পড়েন। বদল যা হয়, তা ঠিক করে ওই কাগজটাই, আমার আশা নয়।
আমার তাকের ওষুধ তাঁর বিষয় নয়
পায়ের আঘাতের সময় ডাক্তার যেসব ওষুধ যেভাবে দিয়েছিলেন, আমি এখনো সেভাবেই খাচ্ছি। ফিজিওথেরাপিস্ট কখনো একটা ওষুধও বদলাতে বলেননি। তিনি পরিষ্কার বলেন, ওষুধ তাঁর কাজের বাইরে। তিনি দিতে পারেন ব্যায়াম। ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আমার পায়ের চিকিৎসা যিনি করেছেন তাঁর কাছেই যাবে, আমিও সেখানেই নিয়ে যাব।
আমার ডাক্তারকে তিনি ছবির মধ্যে রাখেন
এক মাস পর তিনি আমার হাঁটার নোটগুলো পাঠিয়ে দিলেন যিনি আঘাতের চিকিৎসা করেছিলেন সেই ডাক্তারের কাছে। তিনি বলেছেন, কোমর বা নিতম্বে শক্তভাবের বেশি কিছু তাঁর মনে হলে তিনি সেটা ব্যায়ামের ঘরে আটকে রাখবেন না। আগে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আমাকে ফেরত পাঠাবেন। এই জেলায় অপারেশন সংক্রান্ত চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেশীরা জানতে চাইলে, DoctorBD24-তে নাটোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা আলাদা তালিকা হিসেবে আছে। আমার পথ এখনো হাঁটা আর ধৈর্যের মধ্যেই আছে।
এই শক্তভাবটা কি শুধু আমার বয়সের জন্য?
তিনি বললেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিশ্রামে থাকলে যেকোনো বয়সেই শরীর শক্ত হয়। আমরা এটাকে কাজ করার মতো বিষয় হিসেবেই দেখি। হাঁটার দূরত্বই বলে দেবে, কেমন এগোচ্ছে।
আবার কবে ফল কুড়াতে ঝুঁকতে পারব?
তিনি কোনো তারিখ দেননি। হাঁটার ভিত স্থির হলে ঝুঁকির অনুশীলন শুরু হবে। কোনো কোনো সকালে এখনই আগের মাসের চেয়ে নিচে পৌঁছাতে পারি।
অনুশীলন চলাকালে সাইকেল চালানো যাবে?
আমার ক্ষেত্রে এখনো নয়। সাইকেলে ওঠাটাই আমরা ধাপে ধাপে গড়ে তুলছি। প্রথম সাক্ষাতে নিজের প্রতিদিনের কাজগুলো একটা একটা করে জিজ্ঞেস করে নিন।
বাসায় কতটা অনুশীলন আশা করা হয়?
প্রতিদিন সকালে ছোট একটা সেট, আর উঠানে হাঁটা। বাগানের কাজ শুরুর আগেই এটা হয়ে যায়। একদিন বাদ গেলে বিপদ নয়। তাঁকে জানিয়ে আবার চালিয়ে যান।
নিতম্বের ব্যথা কমার বদলে বাড়তে থাকলে কী হবে?
সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। তিনি অনুশীলন হালকা করে নড়াচড়া আবার দেখবেন। ব্যথা বাড়তেই থাকলে সেটা তিনি আমার ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
কোন হঠাৎ লক্ষণ দেখলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে?
শরীরের একদিকে নতুন দুর্বলতা নেমে এলে সেদিনই হাসপাতাল। প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারালেও তাই। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়তে না পারলে তা জরুরি। জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে, কিংবা বুকে ব্যথা আর শ্বাসকষ্ট হলে সেশনের জন্য অপেক্ষা করা কখনোই ঠিক নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.